দক্ষিণ এশিয়া

পাকিস্তানকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র বানাতে চান ইমরান খান

লাহোর, ০৫ জানুয়ারি – পাকিস্তানকে এশিয়ান টাইগার নয়, বরং একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র বানাতে চান বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত শুক্রবার লাহোরের গভর্নর হাউসে জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা থেকে ৩০ মিলিয়ন পরিবারের বিপরীতে সরকারের ৪০০ বিলিয়ন টাকা খরচ হবে। অতীতের কোনো সরকারই ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্য বীমা প্রদানের সাহসী উদ্যোগ নিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইমরান খান। এ ছাড়া এই উদ্যোগকে ‌‘ইসলামী কল্যাণ’ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য পাকিস্তানের পূর্ব পুরুষদের লক্ষ্য পূরণের একটি পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

এ সময় মদিনাকে প্রথম কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলিম বিশ্বে এমন কোনো রাষ্ট্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে উত্তর ইউরোপের তিনটি দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন অবশ্য সেই মডেলের কাছাকাছি ছিল। এসব দেশে পাকিস্তানের চেয়ে বেশি সম্পদ ছিল না, কিন্তু কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের মডেল গ্রহণ করে তারা অনেক বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে।

ইমরান খান জানান, লাহোর প্রদেশ জুড়ে সমস্ত পরিবার মার্চের মধ্যে এই সেবা কার্ড পাবে এবং বেলুচিস্তান, আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিত বাল্তিস্তানে মডেলটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এই প্রকল্পের ফলে প্রদেশের কোনো জনগণকে আর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিংবা লন্ডন যেতে হবে না।

এদিকে, শুক্রবার লাহোরে একটি আশ্রয় কেন্দ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমরান খান বলেন, ‘আমরা সমাজের দরিদ্রদের উন্নয়ন ও কল্যাণে মনোনিবেশ করছি।’ এ সময় পানাহগাহের বাসিন্দাদের নিরাপদ ও আরামদায়ক অবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রিয়াসাত-ই-মদিনার মডেল দরিদ্রদের যত্ন নেওয়ার উপর অনেক জোর দিচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, পানাহগাহ লাহোরে ৮০ জন পুরুষ এবং ২০ জন নারীর জন্য বিছানার ব্যবস্থা রয়েছে। সেইসঙ্গে অভ্যর্থনা, অপেক্ষার জায়গা, রান্নাঘর, পুরুষ ও নারীদের জন্য খাবারের জায়গা, সুপেয় খাবার পানি, প্রার্থনার মতো সমস্ত আধুনিক নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় স্যানিটেশন, লন্ড্রি এবং বিদ্যুৎ ব্যাকআপ সুবিধাও রয়েছে।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এস, ০৫ জানুয়ারি

Back to top button