শিক্ষা

এসএসসির ফলে একাদশে ভর্তি

এম এইচ রবিন

ঢাকা, ০৪ জানুয়ারি – মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। একই নম্বরের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে বিষয়ভিত্তিক ফল। দেড়শ টাকায় সর্বোচ্চ দশটি কলেজে আবেদন করা যাবে। অনুমোদিত ফির অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং অনুমোদিত সব ফি যথাযথ রসিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা প্রশাসন। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে আবেদনের সময়, ভর্তি ফি, যোগ্যতা ও গ্রুপ নির্বাচন, আসন বণ্টন ইত্যাদি বিষয়ে ব্যখ্যা করা হয়েছে।

অনলাইনে আবেদন : শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ৮ জানুয়ারি, যা চলবে ১৫ জানুযারি পযন্ত। প্রথম পর্বের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ হবে ২৯ জানুয়ারি। দ্বিতীয় পর্বের আবেদন গ্রহণ ৭-৮ ফেব্রুয়ারি। ফল ঘোষণা ১০ ফেব্রুয়ারি। তৃতীয় পর্বের আবেদন ১৩ ফেব্রুয়ারি ও ফল প্রকাশ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ক্লাস শুরু হবে ২ মার্চ থেকে। শিক্ষার্থীরা শুধু অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা সাপেক্ষে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০ দশটি কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আবেদন করতে পারবে। একজন শিক্ষার্থী যতগুলো আবেদন করবে তার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীর মেধা, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটিমাত্র কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

ভর্তির যোগ্যতা ও গ্রুপ নির্বাচন : ২০১৯, ২০২০, ২০২১ সালে দেশের যে কোনো শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৯ ২০২০ ও ২০২১ সালে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে নীতিমালার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোনো কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলতি বছরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বছরের শিক্ষার্থীরাও ভর্তির জন্য বোর্ডে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবে। বিদেশি কোনো বোর্ড বা অনুরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক তার সনদের মান নির্ধারণের পর উল্লিখিত নিয়মে ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবে।

যেভাবে গ্রুপ নির্বাচন : ভর্তির জন্য একজন প্রার্থী নিম্নরূপ গ্রুপ নির্বাচন করতে পারবে। বিজ্ঞান গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নিতে পারবে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের যে কোনো একটি। মানবিক থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নিতে পারবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের যে কোনো একটি। ব্যবসায় গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নিতে পারবে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক গ্রুপের যে কোনো একটি। যে কোনো বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী গার্হস্থ্য অর্থনীতি ও সংগীত গ্রুপের যে কোনো একটি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নেবে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপ যে কোনো একটি। সাধারণ বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের যে কোনো একটি।

যেভাবে প্রার্থী নির্বাচন : ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।

যেভাবে আসন বণ্টন : কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৫ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে; যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। মেধার ভিত্তিতে ভর্তির পরে মোট আসনের ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/সন্তানের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এসব কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে এ আসন কার্যকরী থাকবে না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/সন্তানের সন্তানদের শনাক্তকরণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রদত্ত সনদপত্র দাখিল করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী প্রতিবন্ধী হিসেবে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে কেবল তারাই সংশ্লিষ্ট বোর্ডে ম্যানুয়ালি ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। প্রবাসীদের সন্তান/বিকেএসপি থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী/খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিভাগীয় বা জাতীয় পর্যায়ে অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বোর্ডে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বোর্ড উপযুক্ত প্রমাণপত্র যাচাই-বাছাইপূর্বক শিক্ষার্থীকে (প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম জিপিএ এ ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য হবে) ভর্তির ব্যবস্থা নেবে।

সমান জিপিএপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট হিসাব করা হবে প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে। তা ছাড়া বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।

বিজ্ঞান গ্রুপে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বরপ্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত/জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনা হবে। এই বিধান সত্ত্বেও যদি প্রার্থী বাছাইকল্পে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন না হয়, তবে বিবেচনায় আনা হবে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনা হবে। এক গ্রুপের প্রার্থী অন্য গ্রুপে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ একই হলে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইকল্পে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন না হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

যোগ্যতা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবে প্রতিষ্ঠান : নীতিমালায় যাই থাকুক না কেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে স্ব স্ব বিভাগে (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব বিভাগে ভর্তি নিশ্চিত করেই কেবল অবশিষ্ট শূন্য আসনে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উল্লিখিত অনুসরণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে। তবে সব ভর্তিই অনলাইনে হবে। কোনো কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ পারবে। কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানকে তাদের ভর্তি সংক্রান্ত সকল তথ্য ওয়েবসাইট এবং নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করতে হবে।

নির্ধারিত তারিখের বাইরে ভর্তি নয় : সব কলেজ/উচ্চমাধ্যমিক/সমমানের প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রণালয় তথা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা ও সময় অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান মন্ত্রণালয় ও বোর্ড নির্ধারিত তারিখের বাইরে ইচ্ছামাফিক ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এমনকি বোর্ডের পূর্বানুমতি ব্যতীত নির্ধারিত আসন সংখ্যার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। বোর্ডসমূহ স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে অবস্থিত কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে এই বিধানের ব্যত্যয় রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভর্তি ফি : এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটনে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন হলে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি পাঁচ হাজার টাকা। মেট্রোপলিটনের বাইরে তিন হাজার টাকা। জেলা শহরে দুই হাজার টাকা। উপজেলায় এক হাজার পাঁচশ টাকা। এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটনে বাংলা ভার্সন হলে উন্নয়ন ফি, সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সাত হাজার পাঁচশ টাকা। ইংরেজি ভার্সনে আট হাজার পাঁচশ টাকা। মেট্রোপলিটনের বাইরে বাংলা ভার্সনে পাঁচ হাজার টাকা। ইংরেজি ভার্সনে ছয় হাজার টাকা। জেলা শহরে বাংলা ভার্সনে তিন হাজার টাকা। ইংরেজি ভার্সনে চার হাজার টাকা। উপজেলায় বাংলা ভার্সনে দুই হাজার পাঁচশ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে তিন হাজার টাকা। সরকারি কলেজগুলো পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি সংগ্রহ করবে। দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ উল্লিখিত ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে ভর্তি প্রক্রিয়ার পূর্বেই বেসরকারি কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি ফিসহ মাসিক বেতন এবং অন্য যাবতীয় খরচের তালিকা স্ব স্ব কলেজের নোটিশ বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনুমোদিত ফির অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করা যাবে না এবং অনুমোদিত সকল ফি যথাযথ রসিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চয়ন করার সময় ২২৮ টাকা ফি গ্রহণ করবে। রেড ক্রিসেন্ট ফি বাবদ গ্রহণ করবে ২৪ টাকা। প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি বাবদ দুইশ টাকা বোর্ডে প্রেরণ করতে হবে।

ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করে কলেজ, গ্রুপ ও বিষয় পরিবর্তন করতে পারবে। তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপ থেকে বিজ্ঞান গ্রুপে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। বিজ্ঞান গ্রুপ হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অন্য গ্রুপ ভর্তি হওয়ার পর পরে ভর্তিকৃত কলেজে বিজ্ঞান গ্রুপে প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তবে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা সাপেক্ষে বিজ্ঞান বিভাগে প্রত্যাবর্তন করতে পারবে।

সূত্র : আমাদের সময়
এন এইচ, ০৪ জানুয়ারি

Back to top button