ক্রিকেট

জিততে যদি নাও পারি এই টেস্ট ড্র করতে চাই : সুজন

ওয়েলিংটন, ০৪ জানুয়ারি – নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের করা ৩২৮ রান টপকে ৭৩ রানের লিড পেয়েছে মুমিনুল হকের দল। হাতে আছে এখনো ৪ উইকেট, সফরকারীদের এখন লক্ষ্য চতুর্থ দিন সকালে কমপক্ষে দেড়শ রানের লিড নেওয়া। আর ম্যাচ শেষে জিততে না পারলেও এই টেস্ট ড্র করায় চোখ তাদের।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সোমবার (৩ জানুয়ারি) তৃতীয় দিন শেষ। বাকি দুই দিন পর বাংলাদেশ কোথায় নিজেদের দেখতে চায়? সেই উত্তর দিয়েছেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন, ‘আমরা টিকে থাকতে চাই, ভালো করতে চাই। জিততে যদি নাও পারি আমরা এই টেস্ট ড্র করতে চাই। এখনো ১৮০ ওভার বাকি আছে। এই উইকেটে তাড়াতাড়ি রান করা কঠিন হবে, যদি ভালো বল করি।’

তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৪০১ রান। ইয়াসির আলী রাব্বি (১১) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (২০) অপরাজিত আছেন। সুজন মনে করিয়ে দিয়েছেন, চতুর্থ দিনের সকালটা গুরুত্বপূর্ণ। ফল নিজেদের দিকে নিতে চাইলে লিড আরো বাড়িয়ে কিউইদের চাপে ফেলতে হবে।

সুজন বলেন, ‘কালকের (মঙ্গলবার) সকালটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের হাতে ৪ উইকেট আছে। মিরাজ ও ইয়াসির আছে, ৭৩ রান লিড। আরো ৭০ রান যোগ করতে পারলে দেড়শ রানের মতো লিড হবে। তখন আমরা ভালো অবস্থানে থাকব।’

সুজন মনে করালেন অতীতের কথা, যা বাংলাদেশের জন্য হতাশার। এর আগে ২০১৭ সালের শুরুতে ওয়েলিংটনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ। লিড নেওয়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরেছিল ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না সুজন।

দলের সকলে অনুপ্রাণিত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলি। চেষ্টা করি প্রেরণা দিতে। দলগতভাবে সবাইকে একটা কথাই বলেছিলাম- আমরা এখানে দশটা ম্যাচ খেলেছি। একবার ৫৯৫ করে ইনিংস ঘোষণা করেও হেরেছিলাম। আমি বলেছিলাম বারবার তো হারতে পারি না। একটা গ্রুপকে তো ভালো করতে হবে। এই গ্রুপটাই করতে পারে।‘

টেস্টের তিন দিন শেষ। এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয়নি। দুই দলেরই এখনো দ্বিতীয় ইনিংস বাকি। পিচ থেকে যেভাবে ব্যাটসম্যানরা সুবিধা পাচ্ছেন, ড্রয়ের সম্ভাবনাই বেশি। যদি না অতিমানবীয় কিছু না ঘটে।

বাংলাদেশ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১৫টি টেস্ট খেলেছে। তার মধ্যে ১২টি ম্যাচে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হারের গ্লানি নিয়ে। বাকি ৩টা ম্যাচের ইতি ঘটেছে ড্রয়ে। তিনটি ড্রই আবার দেশের মাটিতে, দুটি ঢাকায় ও একটি চট্টগ্রামে। এবার নিউ জিল্যান্ডে ম্যাচ বাঁচাতে পারলে ইতিহাস হবে, আর জিততে পারলে তা হবে অবিস্মরণীয় ঘটনা।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ০৪ জানুয়ারি

Back to top button