ফ্যাশন

নারী-পুরুষের জামার বোতাম ডানে-বামে কেন জানেন?

জামার বোতাম থাকে জামা খোলা পরার জন্য। এতে আর নতুন কী! কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, নারী বা পুরুষদের জামার বোতাম আলাদা দিকে থাকে কেন! ছেলেদের জামার বোতাম ডানদিকে থাকে, আর মেয়েদের জামায় থাকে বাঁ দিকে। বোতাম নিয়ে এমন পার্থক্যটা কেন, আর এর পিছনে আসল রহস্যটাই বা কী!

এবিষয়ে জানতে হলে কিছুটা অতীতে ফিরে যেতে হবে। প্রাচীন যুগে সম্ভ্রান্ত পরিবারে নারীদের জন্য বরাদ্দ থাকত একাধিক দাসী। নিজের হাতে গায়ে জামাখানি গলানো তো দূরের কথা, জামার বোতাম পর্যন্ত লাগিয়ে দিতেন সেই দাসীরাই। দাসীরা ডান হাত দিয়েই কাজ করতেন। সেই সুবিধার্থে মহিলাদের জামার বোতাম বসানো হত বাঁ দিকে, এমনটাই অনেকের ধারণা।

অন্যদিকে পুরুষরা সাধারণত নিজের জামা নিজেই পরে এসেছেন আজীবন। সেই রাজা মহারাজাদের আমলে ডান হাতে শক্ত করে ধরতে হত তলোয়ার, আর আজকের যুগে ধরতে হয় সংসারের হাল। তাই সুবিধার কথা মাথায় রেখে পুরুষদের জামাতে বোতাম থাকে ডান দিকে। যাতে বাঁ হাত দিয়ে সহজেই বোতাম খুলতে পারেন তাঁরা।

নারী-পুরুষের মধ্যে রেষারেষি চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। পুরুষদের থেকে নারীরা যে কোনও অংশে কম নন, তার প্রমাণ দিতে আজও ব্যস্ত নারীসমাজ। নারী-পুরুষের মধ্যে ফারাক রাখতে শার্টের বোতামের জায়গাও বদল হয়েছে।

নারীদের জামার বোতাম বাঁ দিকে থাকে বাচ্চার কথা মাথায় রেখে। সাধারণত মহিলারা বাঁ হাত দিয়ে বাচ্চাদের কোলে ধরেন স্তন্যপান করানোর জন্য। ডান হাত দিয়ে যাতে সহজেই বোতাম খুলতে পারেন, তাই বোতাম বাঁ দিকে থাকে।

নেপোলিয়ান বোনাপার্টকে তাঁর প্রায় সব ছবিতেই ডান হাত পকেটে ঢুকিয়ে রাখতে দেখা যায়। সেইসময় মহিলারাও নাকি ডানহাতটা এভাবেই রাখতেন। তাই তাঁকে নিয়ে অনেকে ব্যঙ্গ করতেন। সেই জন্য তিনি মহিলাদের জামার বোতাম বাঁ দিকে করার নির্দেশ দেন।

আরও একটি সম্ভাব্য কারণ হল, সেই সময় দর্জিরা নিজেদের সুবিধার্থে নারী ও পুরুষদের বোতাম আলাদা দিকে বসাতেন। যাতে একে অন্যের সঙ্গে মিশিয়ে না যায়।

এম ইউ

Back to top button