জাতীয়

বাংলাদেশের পুলিশ এখন বিশ্বমানের কাছাকাছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ০২ জানুয়ারি – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর মান এখন বিশ্বমানের কাছাকাছি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

অদূর ভবিষ্যতে সেই লক্ষ্যও পূরণ হবে।
রোববার (২ জানুয়ারি) রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পুলিশে নব-নিয়োগকৃত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টবল-২০২১ ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃংখলার উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থার জন্য টেকসই আইন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। দেশ যেমনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে অপরাধের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। তাই অপরাধ দমনে পুলিশের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

নবীন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কারও দয়া বা তদবিরে তোমাদের চাকরি হয়নি। তাই সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায়, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এবারই প্রথম সম্পূর্ণ পরীবর্তিত পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে স্বচ্ছ, আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তোমাদের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তাই তোমরা তোমাদের কর্মজীবনেও এমন স্বচ্ছতা বজায় রাখবে। সততা ও মানবতার সাথে সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তোমাদের ওপর ওর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে সব সময় সজাগ থাকবে। সমাজের গরিব, ভ্যানচালকরা যাতে করে তোমাদের নিকট থেকে সমান সেবা পায়, সেদিকে কঠোর লক্ষ্য রাখতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার পুলিশ বাহীনিকে যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আধুনিক ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে নিয়োগ প্রতিক্রয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আসামি গ্রেফতার ও যথাযথ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বমানের পুলিশ বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভব সব ধরণের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্স উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, পুলিশকে সেবার মানসিকতা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। আর এই ব্রত মননে ও বিশ্বাসে ধারণ করতে হবে। কারণ পুলিশে যোগদান কোনো চাকরি নয়, এটি সেবা। দেশের মানুষকে সততার মাধ্যমে সর্বদা বৈষম্যহীন সেবা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল অতিরিক্ত আইজি খন্দকার গোলাম ফারুকে সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান আইজিপি, পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সম্পূর্ণ পরীবর্তিত পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে স্বচ্ছ, আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রক্রিয়ায় দেশব্যাপী পুলিশ সদস্য নিয়োগ পেয়েছিল। নিয়োগপ্রাপ্ত সেই তিন হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টবলদের এই মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হলো।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি চত্বরে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) ভবন ও শোরুম উদ্বোধন করেন পুনাকের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী বেগম জীশান মীর্জা। অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ রাজশাহী বিভাগ ও জেলার পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাংলানিউজ
এম ইউ/০২ জানুয়ারি ২০২২

Back to top button