ক্রিকেট

টাইগারদের দাপুটে বোলিংয়ে যা বললেন গিবসন

ওয়েলিংটন, ০১ জানুয়ারি – দেশের মাটিতে স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করলেও বিদেশের মাটিতে সাফল্যের উপায় পেসারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। কিন্তু তাদের পারফরম্যান্সে ফুটে উঠতো অসহায়ত্ব। ধীরে ধীরে সেই হাহাকার আর অসহায়ত্ব কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ। যার প্রভাব দেখা গেছে নতুন বছরের প্রথম দিন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেই।

শরিফুল ইসলামদের দাপুটে বোলিংয়ে দুই টেস্ট সিরজের প্রথম ম্যাচের প্রথম দিন নিউ জিল্যান্ডকে লাগামছাড়া হতে দেয়নি বাংলাদেশ। ২.৯৫ রানরেটে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রানে থামে কিউইদের ইনিংস। তাইতো দিনশেষে পেস বোলারদের গুরু ওটিস গিবসনের কণ্ঠে ঝরছে উচ্ছ্বাস। রাখঢাক না রেখেই বলে দেন, শিষ্যদের নিয়ে গর্বিত তিনি।

গিবসন বলেন, ‘সব পেসারই ভালো করেছে। ইবাদতও ভালো করেছে। ওদের জন্য এই কন্ডিশন কিন্তু অচেনা। আমরা একটু সামনে বল করেছি। সুইং করিয়েছি। দেখা যাবে এমন বোলিংয়ে হয়তো অন্যদিন আরও ২-৩টা উইকেট বেশি পড়েছে। কনওয়ে একটুর জন্য বেঁচে গেছে। তবে এটাই হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। আজ অনেক গরমও ছিল। ওদের নিয়ে আমি গর্বিত।’

তাসকিন-শরিফুলদের বেশ কিছু বল তৈরি করেছিল উইকেটে সম্ভাবনা। ভাগ্যগুণে রক্ষা পেয়ে যান কিউই ব্যাটসম্যানরা। তাসকিন-শরিফুলে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। চতুর্থ ওভারেই অধিনায়ক টম লাথামকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। দুজনে শুরুতেই চেপে ধরেছিলেন কিউইদের। প্রথম ৮ ওভারে মাত্র ২ রান নিতে পারে তারা। তার মধ্যে ৬টি ওভারই মেডেন!

গিবসন বলেন, ‘প্রথম ঘণ্টায় আমরা দারুণ বোলিং করেছি। অনেকবার বল ব্যাটের পাশ দিয়ে গিয়েছে। দেখা যাবে এমন বোলিংয়ে হয়তো অন্যদিন আরও ২-৩টা উইকেট বেশি পড়েছে। কনওয়ে ভালো খেলেছে। দিন শেষে খেলাটা সাম্যাবস্থায় আছে।’

প্রথম দুই সেশনে নিউ জিল্যান্ড দুই উইকেট হারালেও শেষ সেশনে তিন উইকেট নিয়ে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন ইবাদত-মুমিনুল। দারুণ বোলিং করলেও তাসকিন আহমেদ ছিলেন উইকেট বঞ্চিত। দিনের শেষ উইকেটটা জমা হয়েছিল ইবাদতের ঝুলিতে।

‘আমরা বাংলাদেশের উইকেটে ঘাস দেখি না। এটা একটা বিষয়। আমরা ভেবেছিলাম শুরুতে মুভমেন্ট পাব এই উইকেট। সেটা পেয়েছিও। আজ গরমও ছিল। যে কারণে উইকেটের ভেজা ভাবটা বেশিক্ষন ছিল না। এখন অনেকটা ফ্ল্যাট উইকেট বলা যায়। তবে ছেলেরা যেভাবে বল করেছে তাতে আমি গর্বিত। ওরা সারাদিন ভালো বল করেছে। মিরাজ একটা প্রান্ত থেকে রান কম দিয়ে বল করে গেছে’-ঠিক এভাবেই বলেছেন গিবসন।

শিষ্যদের সুইং শেখানো নিয়ে কাজ করছেন গিবসন। তবে তার কণ্ঠে আরও কয়েকটি উইকেট না পাওয়ার আক্ষেপও ঝরেছে। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ বলেন, ‘আমরা সুইং করানো নিয়ে কাজ করেছি। আজ সবাই সুইং করানোর চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশে ওরা ব্যাক অব দ্য লেংথে বল করে বেশি। কারণ সেখানে তেমন সুইং থাকে না। আমরা আজ আরও বেশি উইকেট পেতে পারতাম। কিন্তু বুঝতে হবে আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলছি।’

সূত্র : রাইজিংবিডি
এম এস, ০১ জানুয়ারি

Back to top button