ক্রিকেট

বছরের প্রথম দিন বাংলাদেশের নামেই লিখা রইল

ওয়েলিংটন, ০১ জানুয়ারি – দিনের শেষ স্পেলে বোলিংয়ের জন্য এসেছিলেন পেসার ইবাদত। আগের ১৫ ওভারে তার বোলিংয়ে তেমন বিষ ছিল না। এবারও শুরুটা নড়বড়ে। প্রথম বল ওয়াইড। পরের দুই বলে ৩ রান। ভাগ্য সহায় হলো তৃতীয় বলে।

টম ব্লানডেল তার শর্ট বল জায়গায় দাঁড়িয়ে কভার ড্রাইভ করতে গেলে বিপদ ডেকে আনেন। ইনসাইড এজ হয়ে বল আঘাত করে স্টাম্পে। তাতে দিন শেষের দুই ওভার আগে বাংলাদেশের পুঁজিতে যোগ হলো আরেকটি সাফল্য।

স্কোর: নিউ জিল্যান্ড ২৫৮/৫ (৮৭.৩ ওভার)

আম্পায়াররা নতুন ব্যাটসম্যান নামাননি। দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন। তাতে বছরের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের নামেই লিখা হলো। মাউন্ট মঙ্গানুইতে টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে মুমিনুলের দল প্রথম দিন ৫ উইকেট তুলে নিয়েছে। ২.৯৫ রান রেটে কিউইদের সংগ্রহ ২৫৮ রান।

পথের কাঁটা সরালেন মুমিনুল

সেঞ্চুরিতে নতুন বছর রাঙিয়েছেন ডেভন কনওয়ে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইনিংস বড় করার পথে ছিলেন। বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো এ ব্যাটসম্যানকে থামালেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

নতুন বল নেওয়ার আগে নিজেকে বোলিংয়ে আনেন মুমিনুল। প্রথম ওভারে ভালো বোলিং করে দিয়েছিলেন ১ রান। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই উইকেট। সেঞ্চুরিয়ান কনওয়ে তার লেগ স্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।

১২২ রানে থামেন কনওয়ে। ২২৭ বলে ১৬ চার ও ১ ছক্কায় সাজিয়েছেন ইনিংসটি। মুমিনুল এর আগেও টেস্ট ক্রিকেটে হাত ঘুরিয়েছেন। নামের পাশে উইকেট আছে ৪টি। নতুন ব্যাটসম্যান এসেছেন টম ব্লানডেল।

শেষের শুরুতে টেইলরের ৩১

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলছেন রস টেলর। এরপর চলতি ক্রিকেট মৌসুম শেষেই ক্রিকেটকে গুডবাই বলবেন তিনি। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষের শুরু হলো ৩১ রানের ঝকঝকে ইনিংস দিয়ে। ডানহাতি ব্যাটসম্যান চোখের পলকে দারুণ এক ইনিংস খেলে বিদায় নিলেন। তাকে থামান পেসার শরিফুল ইসলাম।

বাঁহাতি পেসারের বল কাভার ড্রাইভ করতে গিয়ে সাদমানের হাতে ক্যাচ দেন। এর আগের নিজের চিরাচরিত যতগুলো পুল ও কাট খেলেছেন প্রত্যেকটি থেকে বাউন্ডারি পেয়েছেন। বাংলাদেশ পেল তৃতীয় উইকেট। নতুন ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলস।

সেঞ্চুরিতে বছর শুরু কনওয়ের

বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ায় ফাইনাল খেলতে পারেননি ডেভন কনওয়ে। সেই আক্ষেপ এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। ইনজুরির পর আজই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন। নিজের ফেরা সেঞ্চুরিতে রাঙালেন প্রতিশ্রুতিশীল এই ক্রিকেটার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি এটি। এর আগে লর্ডসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। সেটিকে ডাবলে রূপ দিয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

জমাট ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি পেয়েছেন কনওয়ে। ১৮৬ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগারে পৌঁছান। ১৪ চার ও ১ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। বাজে বল শাসন করেছেন সিদ্ধহস্তে। ভালো বল দেখেশুনে খেলে বাড়িয়েছেন রান। ইনিংসের শুরুতেই মাঠে নামতে হয় তাকে। টম লাথম আউট হন চতুর্থ ওভারে।

ওই সময়ে বাংলাদেশের পেসারদের তোপে সংগ্রাম করতে হয়েছিল। কিন্তু থিতু হওয়ার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধ্রুপদী ব্যাটিংয়ে পেয়ে যান বছরের প্রথম সেঞ্চুরি।

দ্বিতীয় সেশনে নিউ জিল্যান্ডের দাপট

দিনের প্রথম সেশনে দুই দলের লড়াই সমানে সমান হলেও দ্বিতীয় সেশনে দাপট দেখাল নিউ জিল্যান্ড। ২৭ ওভারে ৮৭ রান তুলেছে কিউইরা। হারিয়েছে ১ উইকেট। রান রেট ছিল ৩ করে। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলে দ্রুত রান তুলেন ডেভন কনওয়ে। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১২ রান দূরে থেকে গিয়েছেন চা-বিরতিতে। তার সঙ্গে আছেন রস টেলর। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৪ রান।

দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি ইয়ংয়ের উইকেট। নাজমুল ইসলামের থ্রোতে লিটনের স্টাম্পিংয়ে ৫২ করা ইয়ংকে ফেরায় বাংলাদেশ। এর আগে সকালের সেশনে বাংলাদেশ আউট করে টম লাথামকে।

রান আউটে ভাঙল কনওয়ে-ইয়ং জুটি

১৩৮ রানের লম্বা জুটি গড়ে বাংলাদেশের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কনওয়ে ও ইয়ং। অনায়েসে রান তুলে দুজন এরই মধ্যে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। প্রায় প্রতি ওভারেই পাচ্ছেন একটি করে বাউন্ডারি। তাতে দলীয় পুঁজি বড় হচ্ছিল।

অবশেষে এ জুটি ভাঙতে পারল বাংলাদেশ। শান্তর থ্রো ও লিটনের স্টাম্পিংয়ে ফিফটির পর ৫২ রানে আউট হয়েছেন ইয়ং। মিরাজের বল আলতো টোকায় মিড উইকেটে পাঠিয়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। রান নেওয়ার জন্য দৌড় দেন। কিন্তু কনওয়ে তার ডাকে সাড়া দেননি। তাই বাধ্য হয়ে ফিরতে হয়। ওদিকে শান্ত একহাতে বল তুলে থ্রো করেন। লিটন বল মুহূর্তে জমিয়ে স্টাম্প ভাঙেন। ১৩৯ রানে নিউ জিল্যান্ড হারাল দ্বিতীয় উইকেট। উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান রস টেলর।

নিউ জিল্যান্ডের সেঞ্চুরি, কনওয়ের ফিফটি

মধ্যাহ্ন বিরতির পর দ্রুত রান তুলছে নিউ জিল্যান্ড। তাতে দলীয় রান চোখের পলকেই শতরান পেরিয়ে গেল। এদিকে ডেভন কনওয়েও তুলে নিয়েছিন ফিফটি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় ফিফটি। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নিখুঁত ব্যাটিংয়ে ইনিংস বড় করছেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন ইয়ং। তাদের জুটির রানও শতরান পেরিয়ে গেছে। ১ রানে লাথামের বিদায়ের পর জুটি বেঁধেছিলেন তারা।

এদিকে বাংলাদেশ শুরুর ঘণ্টার পর আর ভালো বোলিং করতে পারেননি। আলগা বোলিংয়ে প্রচুর রান দিচ্ছেন তারা। বিশেষ করে মিরাজ বড্ড বিবর্ণ। তার এক ওভারে কনওয়ে একাই তুলেছেন ১৪ রান। এছাড়া ইবাদত, তাসকিন, শরিফুলরাও শুরুর চাপ অব্যাহত রাখতে পারেননি।

বাংলাদেশের শুরুর চাপ সামলে নিউ জিল্যান্ডের প্রতিরোধ

বাংলাদেশের শুরুর চাপ সামলে ডেভন কনওয়ে ও উইল ইয়ংয়ের ব্যাটে প্রতিরোধ পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম ঘণ্টায় বাংলাদেশের তিন পেসারকে খেলতেই পারেনি নিউ জিল্যান্ড। ১৩ ওভারে ১ উইকেট তুলে নিয়ে মাত্র ১৫ রান দিয়েছিলেন বোলাররা। সেই চাপ কাটিয়ে ভালো অবস্থানে নিউ জিল্যান্ড। ৬৫ রানের জুটি গড়েছেন কনওয়ে ও উইল ইয়ং।

বাংলাদেশের বোলিং শুরু থেকে ছিল নিয়ন্ত্রিত। পেসারদের গতি ও লেন্থ ছিল নিয়ন্ত্রিত। আলগা কোনো বল করেননি। উইকেট টু উইকেট একই চ্যানেলে বল করেছেন। তাতে চাপ বেড়েছে ব্যাটসম্যানদের। দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে সেই চাপ সামলে এগিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। প্রতিরোধ গড়ে মধাহ্ন বিরতির আগে দলকে নিয়ে গেছেন ভালো অবস্থানে। কনওয়ে ৩৬ ও ইয়ং ২৭ রানে ব্যাটিং করছেন।

শুরুতেই নিউ জিল্যান্ড শিবিরে বাংলাদেশের ধাক্কা

নতুন বলে শুরুটা দুর্দান্ত হলো বাংলাদেশের। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিক শিবিরে ধাক্কা দিলেন পেসার শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি পেসারের একটু ভেতরে ঢোকানো বলে আলগা শট খেলেছিলেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম। ব্যাট-প্যাডের ছোঁয়া পেয়ে বল যায় উইকেটের পেছনে। বামদিকে ঝাপিয়ে একহাতে দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ নিয়ে বাংলাদেশকে সাফল্যে ভাসান লিটন। ১ রানে নিউ জিল্যান্ড হারাল প্রথম উইকেট। আরেক প্রান্তে শরিফুলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বল করছেন তাসকিন আহমেদ।

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

মাউন্ট মঙ্গানুইতে স্বাগতিক নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বছরের প্রথম দিনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে মাঠে নেমেছে দুই দল। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ম্যাচটি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাশ, ইয়াসির আলী রাব্বি, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম।

নিউ জিল্যান্ড একাদশ: টম লাথাম (অধিনায়ক), ডেভন কনওয়ে, উইল ইয়াং, রস টেলর, হেনরি নিকোলস, টম ব্লানডেল (উইকেটরক্ষক), রাচিন রবীন্দ্র, কাইল জেমিসন, টিম সাউদি, নেইল ওয়াগনার ও ট্রেন্ট বোল্ট।

নতুন বছর নতুন আশা

নতুন বছরে ভালো শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ, ২৪ পয়েন্ট পেতে মুখিয়ে নিউ জিল্যান্ড। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক ম্যাচের আগে বলেছেন, ‘নতুন বছর নিয়ে রোমাঞ্চিত। আগে কী হয়েছে এসব নিয়ে চিন্তা না করে সামনের বছর কিভাবে ভালো করে শুরু করা যায় এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। আসলেই আমি খুব উত্তেজিত। শুরু ভালো হলে বাকিটাও ভালো যাবে।’

নিউ জিল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান রাজা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের প্রথম আসরে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। দ্বিতীয় আসরে তাদের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। ২ ম্যাচে একটি হেরেছে, একটি ড্র। বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতে পূর্ণ ২৪ পয়েন্ট পেতে মুখিয়ে তারা।

অনুপ্রেরণায় ২০১৭ ওয়েলিংটন টেস্ট

নিউ জিল্যান্ডে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যে কোনো ফরম্যাটে ৩২ ম্যাচের সবগুলোই হেরেছে বাংলাদেশ। টেস্ট খেলেছে ৯টি। ৫টিতে ইনিংস ব্যবধানে হার। হতশ্রী পারফরম্যান্সে আলো ছড়ায় ২০১৭ সালের ওয়েলিংটন টেস্ট। সেবার প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। উপমহাদেশের বাইরে এটি বাংলাদেশের টেস্টে সর্বোচ্চ রান। সাকিব ক্যারিয়ার সেরা ২১৭, মুশফিক ১৫৭ রান করেন। তাদের জুটি ছিল ৩৫৯ রানের যা এখনও রেকর্ড বুকে জ্বলজ্বল করছে। জবাবে নিউ জিল্যান্ডকে বাংলাদেশ আটকে দেয় ৫৩৯ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে পায়নি ইমরুল ও মুশফিককে। দুজনই বলের আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন। দ্বিতীয় ইনিংস ভালো না হওয়ায় ম্যাচটা এক সেশন আগে হেরে যায় অতিথিরা। তবুও বাংলাদেশের কাছে ম্যাচটা স্মরণীয় হয়ে আছে। যে লড়াই থেকে এবারো বাংলাদেশ পাচ্ছে অনুপ্রেরণা।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এম এস, ০১ জানুয়ারি

Back to top button