হলিউড

করোনার দাপটেও সফল ১০ ছবি

২০২০ সালে মহামারী করোনা ভাইরাসের হানায় এলোমেলো হয়ে পড়ে পুরো বিশ্ব। রাস্তায় ছিল না যানবাহন, আকাশে ছিল না বিমান, চারপাশজুড়ে শুধুই নিস্তব্ধতা; অচেনা হয়ে উঠেছিল এই পৃথিবী। চলতি বছরের শুরুতে সিনেমাপ্রেমীদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বেশ কিছু সিনেমা মুক্তি পায় হলিউডে। এ বছর মুক্তি পাওয়া এসব সিনেমার মধ্যে আইএমডিবি কর্তৃক রেটিং, জনপ্রিয়তা ও ব্যবসাসফল হিসেবে সেরা ১০টি সিনেমা নিয়েই এ আয়োজন। লিখেছেন-মাজেদ হোসেন টুটুল

স্পাইডারম্যান : নো ওয়ে হোম

একেবারে বছরের শেষদিকে এসে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায় সনি পিকচার্সের মারভেল কমিকস ‘স্পাইডারম্যান : নো ওয়ে হোম’। ১৩ ডিসেম্বর রিলিজ পাওয়ামাত্রই সারা বিশ্বে আলোড়ন তোলে। কমিকস হোক কিংবা সিনেমা, স্পাইডারম্যানের জালে আটকা পড়েনি এমন ফ্যান বিরল। মূল চরিত্র স্পাইডি হিসেবে টম হল্যান্ডের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেন্ডোয়া, বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, জেমি ফক্সসহ অনেকে। ছবিটি বক্স অফিসে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। জন ওয়াটসের পরিচালনায় নির্মিত ‘স্পাইডারম্যান : নো ওয়ে হোম’ নিয়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা এখনো তুঙ্গে। মাত্র এক সপ্তাহেই ছবিটি বিশ্বব্যাপী ৭০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

দ্য ফাদার

দীর্ঘদিন পর অ্যান তার বাবা অ্যান্টনিকে দেখতে হাজির হয় বাবার ফ্ল্যাটে। গিয়ে দেখে, তার বাবা বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক চাপে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। সামান্য একটি হাতঘড়ি চুরি হওয়ার জেরে কিছুতেই তার বাবা আর বাইরে বের হবে না। শেষমেশ স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বাবাকে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসকের কাছে। নানা ঘটনা উঠে আসে একের পর এক। এ রকমই এক মনস্তাত্তিক ড্রামা ফিল্ম ‘দ্য ফাদার’ বক্স অফিসে সে রকম শোরগোল ফেলতে না পারলেও একাডেমি পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্য ছয়টি বিভাগে মনোনীত হয়ে সমালোচকদের কাছে বছরের অন্যতম সেরা সিনেমার খেতাব পায়। এতে অভিনয়ের জন্য অলিভিয়া কোলম্যান ও অ্যান্থনি হপকিন্স সেরা অভিনেত্রী-অভিনেতা হন।

ডিউন

সায়েন্স ফিকশন সিনেমার আবেদন সব শ্রেণির দর্শকের কাছেই ব্যাপক। এ বছরের মুক্তি পাওয়া অন্যতম সেরা সায়েন্স ফিকশন মুভি ওয়ার্নার বরুসের ব্যানারে ‘ডিউন’ পর্দায় আসে ২২ অক্টোবর। ফ্রাঙ্ক হারবার্টের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি নিয়ে নির্মিত ‘ডিউনে’ অভিনয় করেন টিমোথি চ্যালামেট, রেবেকা ফার্গুসন, জন ব্রোলিন, জেসন মোমোয়া প্রমুখ। বিজ্ঞান-কল্পকাহিনির এই সিনেমাটি হলিউডের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী দর্শকনন্দিত হয়েছে। এতে দেখা যায়- এক প্রতিভাধর যুবক তার পরিবার ও মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক গ্রহে যায়। সেখানে কেবল তারাই বেঁচে থাকে, যারা নিজেদের ভয়কে জয় করতে পারে।

নো টাইম টু ডাই

এই একটি সিনেমার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন সিনেমাপ্রেমীরা। সেই ভুবনকাঁপানো জেমস বন্ডের ‘নো টাইম টু ডাই’ পর্দায় আসে ৮ অক্টোবর। এটি জেমস বন্ড সিরিজের ২৫তম কিস্তি। দুর্র্ধষ ব্রিটিশ এজেন্ট জেমস বন্ডের চরিত্রে পঞ্চমবারের মতো থাকছেন শক্তিমান অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেগ। জেমস বন্ড হিসেবে ‘নো টাইম টু ডাই’ তার শেষ সিরিজ। বিশ্বজুড়ে জেমস বন্ড সিরিজটি রয়েছে সর্বকালের সেরা ফিকশনের তালিকায়। জেমস বন্ড চরিত্রটি সিনেমার বড় পর্দায় উচ্ছল, উদ্দম, সাড়া জাগানো এক ভয়ঙ্কর গোয়েন্দা। সেই ভয়ঙ্কর বন্ডকে দেখে তার মতো হওয়ার ইচ্ছা জাগেনি এমন পুরুষ খুব কমই মেলে। ইউনিভার্সাল পিকচার্সের ব্যানারে ধুন্ধুমার অ্যাকশনধর্মী ২৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই ছবিটিতে আরও রয়েছেন লাসহানা লিন্স, রামি মালেক, লি সেইডক্স।

রায়া অ্যান্ড দ্য লাস্ট ড্রাগন

অ্যানিমেশন মুভি কার না ভালো লাগে। শিশু-কিশোর থেকে যুবক-বৃদ্ধ- সবারই পছন্দের তালিকায় রয়েছে অ্যানিমেশন মুভি। আমাদের দেশে যদিও এসব অ্যানিমেটেড সিনেমাকে বাচ্চাদের সিনেমা হিসেবে ধরা হয়, তবে ইউরোপ-আমেরিকায় অ্যানিমেশন মুভি বড়দের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয়। এ বছরই বেশকিছু অ্যানিমেশন মুভি হলিউড থেকে রিলিজ পেলেও ‘রায়া অ্যান্ড দ্য লাস্ট ড্রাগন’ দর্শকপ্রিয়তা ও বক্স অফিসে ঝড় তোলার বিচারে শীর্ষে রয়েছে। একটি ছোট ড্রাগনের সহায়তায় নিজের পরিবারসহ পুরো দেশবাসীকে পাথর হওয়া থেকে রক্ষা করার চমকপ্রদ কম্পিউটার-অ্যানিমেটেড অ্যাডভেঞ্চার ফ্যান্টাসি এই চলচ্চিত্র ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিও থেকে মুক্তি পায় ৫ মার্চ। ‘রায়া অ্যান্ড দ্য লাস্ট ড্রাগন’ সিনেমার সকল গতিশীলতাকে পেরিয়ে বাস্তবে মূর্ত হয়ে ওঠে, যা দর্শক প্রাণভরে উপভোগ করে।

দ্য সুইসাইড স্কোয়াড

আরেকটি সুপারহিরো ফিল্ম ‘দ্য সুইসাইড স্কোয়াড’ এই বছরের ৩০ জুলাই মুক্তি পায়। এটি ডিসি কমিকসের আমেরিকান সুপারহিরো ফিল্ম। ১৮৫ মিলিয়ন ডলার বাজেটের ছবিটি বক্স অফিসে তেমন একটা সাড়া জাগাতে না পারলেও সুপারহিরো সিরিজ হিসেবে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং ভালো রেটিং অর্জন করে। জেমস গান জুনিয়রের লেখা ও পরিচালনায় এই সিনেমায় অভিনয় করেন মার্গট রবি, ইদ্রিস এলবা, জন সিনা, জোয়েল কিন্নামান, ভায়েলো ডেভিস, মাইকেল রুকারসহ একঝাঁক তারকা। যারা একটি দল হিসেবে যুদ্ধ করে দ্বীপদেশ কর্টো মাল্টিজের দৈত্যাকার এলিয়েন স্টারো দ্য কনকাররের সঙ্গে। ছবির চিত্রনাট্য ও নির্দেশনা সমালোচকদের ইতিবাচক পর্যালোচনা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

শান চি অ্যান্ড দ্য লিজেন্ড অব টেন রিংস

সুপারহিরো চরিত্রগুলো বরাবরই আকর্ষণীয়। শিশু-কিশোর থেকে যুবক-পৌঢ় সবাই সিনেমার সুপারহিরো চরিত্রগুলোকে পছন্দ করেন ভীষণ। বিশেষ করে ছোটরা তো সুপারহিরো নিয়ে রীতিমতো আন্দোলিত থাকে। করোনার ভয়াবহতা কাটিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে দুরন্ত অ্যাকশন ঘরানার সুপারহিরো সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। এই সিনেমা দিয়ে শ্যান-চি সম্পূর্ণ নতুনরূপে আবির্ভুত হয় পর্দায়। মারভেল স্টুডিওর অন্যতম চরিত্র ও প্রথম এশিয়ান সুপারহিরো শান চিকে নিয়ে নির্মিত ‘শান চি অ্যান্ড লিজেন্ড অব টেন রিংস’ মুক্তির পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজার থেকে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার তুলে নেয়।

লাস্ট নাইট ইন সোহো

এডগার রাইট পরিচালিত ব্রিটিশ মনস্তাত্ত্বিক ভৌতিক চলচ্চিত্র ‘লাস্ট নাইট ইন সোহো’ মুক্তি পেয়েছে ২৯ অক্টোবর। এতে অভিনয় করেছেন থমাসিন ম্যাকেঞ্জি, অনিয়া টেলর-জয়, ম্যাট স্মিথ ও মাইকেল আজাও। যুবতী এলোস ফ্যাশন ডিজাইনারের প্রতি গভীরভাবে আসক্ত। সে আবিষ্কার করে তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে এক অদ্ভুত জগতে নিয়ে যেতে পারে। সেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়র সাহায্যে নিজের আত্মাকে প্রতিস্থাপন করে ১৯৬৬ সালের এক নাইট ক্লাবের গায়কের শরীরে। গায়কের আত্মায় প্রবেশ করে সে উপলব্ধি করে, বর্তমান সময়ের অতীত এতটা গ্লামারস নয়। হঠাৎ সে নিজেকে বর্তমান-অতীত দুই জায়গাতেই ভয়াবহ বিপদে জড়িয়ে ফেলে।

দ্য ম্যাট্রিক্স রেসুরেকশনস

সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশনধর্মী সিনেমা দ্য ম্যাট্রিক্স ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়ার পর চারদিকে আলোড়ন তোলে। এর মূল নায়ক কিয়ানু রিভসের চমৎকার অ্যাকশন দৃশ্যগুলো সিনেমার পর্দায় নতুনত্বের প্রকাশ ঘটায়। একে একে মুক্তি পায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির তিনটি পর্ব। বছরের একেবারে শেষ দিকে ১২ ডিসে¤॥^র ম্যাট্রিক্সের চতুর্থ পর্বটি আসে পর্দায়। লানা ওয়াচেভস্কির পরিচালনা ও প্রযোজনায় এই সিনেমায় রিভসের পাশাপাশি যথারীতি আছেন অভিনেত্রী ক্যারি-অ্যান মোস। তবে এবারের মূল আকর্ষণ বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনি এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন। লানা ওয়াচেভস্কি পরিচালিত তুমুল অ্যাকশনের এই সিনেমা দর্শকমহলে ঝড় তোলে। রোডশো পিকচার্সের প্রযোজনায় এই সিনেমা ক্রিটিক্স মহলেও ব্যাপক সাড়া ফেলে।

মিনারি

একটি কোরিয়ান-আমেরিকান পরিবার নিজেদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন এবং নিজেদের আমেরিকান শিকড়ে প্রোথিত করার আশায় আরকানসাসের একটি খামারে চলে যায়। অদ্ভুত আর রুক্ষ এক নতুন জীবনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে। তাদের পরিবারে দেখতে কুৎসিৎ কিন্তু অবিশ্বাস্য স্নেহময়ী দাদির আগমন ঘটে। এই নতুন জীবনের চ্যালেঞ্জ জয় করে কীভাবে একটি বাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হয়, সেই কাহিনি উঠে এসেছে ১২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া দুর্দান্ত ছবি ‘মিনারি’তে। সিনেমাটি সব মহলে ব্যাপক প্রশংসা পায়, এমনকি সানডেন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গ্র্যান্ড জুরি ও ড্রামাটিক অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়। মাত্র ২ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই ছবিতে অভিনয় করেন স্টিভেন ইয়ুন, ইয়েরি হেন, আলান কিম, নিওল চো, ডেরেল কক্স প্রমুখ।

এন এইচ, ২৯ ডিসেম্বর

Back to top button