পটুয়াখালী

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ২০

পটুয়াখালী, ২৮ ডিসেম্বর – পটুয়াখালীর বাউফলে বিশেষ বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় জনতা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহামুদ হাসানকে বরিশাল ইসলামীয়া হাসপাতালে এবং যুবলীগ নেতা জসিম (৩৪), মিজান মোল্লা (৪০), সুমন (৩০) ও আশ্রাফকে (২৮) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

অন্যদেরকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে বাউফল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অহিদুজ্জামান ডিউক ও স্থানীয় সাংবাদিক মশিউর রহমান মিলন আহত হয়েছে। সাংবাদিক মিলনের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে ধারণকৃত ভিডিও মুছে মোবাইল ফোনটি ফেরৎ দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে বাউফল শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফল পৌরসভার তফসিল ঘোষণার পর আজ স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা চলাকালে আওয়ামী দলীয় কার্যালয় জনতা ভবনের বাহিরে অবস্থান নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ আ.স.ম ফিরোজের সমর্থক এবং সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদারের কর্মী সমর্থকরা।

এ সময় উভয় গ্রুপের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় জনতা ভবনসহ আশপাশের এলাকা।

এর কিছুক্ষণ পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদারের পুত্র ও বগার ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান ভবনের ভিতর থেকে বের হলে আ.স.ম ফিরোজ এমপির সমর্থিত নেতাকর্মীরা তার উপর হামলা চালায় । এতে গুরুতর আহত হন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়।

এ ঘটনার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আসম ফিরোজকে অভিযুক্ত করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার বলেন, জরুরী সভায় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত চন্দ্রদ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক আলকাস মোল্লা বক্তব্য দিতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সভায় বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। যা কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম ফিরোজ এমপি বলেন, ঘটনাটি দলীয় কার্যালয়ের বাইরে। মোতালেব সাহেব সভায় উপস্থিত থেকেও রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেননি। এটি তার একটি পরিকল্পিত হামলা। এটি মোতালেব হাওলাদারই ঘটিয়েছে বলে দায়ী করেন তিনি’। এ ব্যাপারে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল-মামুন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সূত্র : আরটিভি
এম এস, ২৮ ডিসেম্বর

Back to top button