পর্যটন

কাল থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সুন্দরবন

সাতক্ষীরা, ৩১ অক্টোবর- দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস বন্ধ থাকার পর রবিবার (১ নভেম্বর) পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন। তবে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে মানতে হবে ৫টি শর্ত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের পক্ষ থেকে ট্রলার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে এ শর্ত জানানো হয়েছে।

শর্তগুলো হচ্ছে, কোনও ট্রলারে ২০জনের বেশি পর্যটক বহন করা যাবে না। পর্যটকরা খাদ্য ছাড়া অন্য কোনও পণ্য বহন করতে পারবে না। প্রতিটি ট্রলারে স্যানিটাইজ ও বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ির ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনও ট্রলারে মাইক অথবা সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে না।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ, সুন্দরবন কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হাবিব, কোবাদক স্টেশনের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনসহ ট্রলার মালিকরা।

এদিকে অপরূপ সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সুন্দরবনের দুয়ার খুলে দেওয়ায় স্থানীয় ট্রলার মালিক ও নৌকার মাঝিদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নৌকা ও ট্রলার মেরামত করছেন তারা। ভ্রমণতরী বা লঞ্চগুলো ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। কোনও কোনওটিতে করা হচ্ছে রঙের আলপনা।

কোভিড সংক্রমণের মধ্যেও পর্যটকদের কাছ থেকে অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্যুর অপারেটররা। সহকারী বন সংরক্ষক সুলতান আহমেদ বলেন, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে সেই অনুমতি পাওয়া গেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগের নিয়ম অনুযায়ী ভ্রমণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন পর্যটকরা।

তিনি বলেন, সাধারণত একটি বড় জাহাজে সর্বোচ্চ ৭৫ জনকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অপারেটররা প্রয়োজনে কম পর্যটক নেবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৯ মার্চ পুরো সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে বন বিভাগ। মূলত অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সুন্দরবনে ভ্রমণ কার্যক্রম পরিচালনা করে ট্যুর অপারেটরগুলো। তবে বিশেষ উৎসব বা ছুটিগুলোতেও বিভিন্ন প্যাকেজ দিয়ে পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণ করায় অপারেটররা।

বুড়িগোয়ালিনী (নীলডুমরি) ঘাটের ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল বলেন, প্রায় সাড়ে সাত মাস বন্ধ থাকায় ভ্রমণ জাহাজ মালিকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ট্যুর অপারেটররাও। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লাগবে। ১ নভেম্বর থেকে অনুমতি পাওয়া যাবে শুনে ইতোমধ্যে অপারেটররা নিজেদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে কোভিড সংক্রমণের মধ্যেও পর্যটকদের কাছ থেকে অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। সড়কপথে পর্যটকদের জন্য এটি প্রধান আকর্ষণ। সাতক্ষীরা থেকে ৬৪ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জে অবস্থিত। এই মুন্সিগঞ্জ থেকে নদী পার হলেই সুন্দরবনে যাওয়া যায়। একদিকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির, বানর, হরিণসহ বিভিন্ন পশুপাখিদের সমাহার, অন্যদিকে বনের গভীর নীরবতা খুব সহজেই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর দিয়ে নদী পথে দুবলার চর, আলোরকোল, দোবেকী, কলাগাছিয়া, কালিরচরসহ বিভিন্ন স্থানে সহজে যাওয়া যায়।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আডি/ ৩১ অক্টোবর

Back to top button