আইন-আদালত

আ.লীগ নেতা জহিরুল হত্যায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর – ব্রাহ্মণবাড়িয়া জগৎ বাজারের ব্যবসায়ী ও নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক হত্যা মামলায় ১৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ রোববার ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বসু মিয়া, কবির মিয়া, মোখলেছ, সাচ্চু মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, শহিবুর রহমান শুক্কি, লিয়াকত আলী, ইউনুছ মিয়া, রহমত উল্লাহ ওরফে ফারিয়াজ মিয়া (পলাতক), শিথিল আহম্মেদ ওরফে ফাহিম আহম্মেদ (পলাতক), সাইফুল (পলাতক) আলী মিয়া (পলাতক) ও পাবেল (পলাতক)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নুরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, রাসেল, মাজু মিয়া, গোলাপ মিয়া, সোহেল মিয়া, শাহজাহান ও বোরহান ওরফে রোহান। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া উত্তর পৌরতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে জহিরুল হক নিজ গ্রাম পয়াগে ফিরছিলেন। পথে আসামি বসু মিয়া, হাবিবুর রহমান, শহিবুর রহমান ওরফে শুক্কি, কবির মিয়া, সাচ্চু মিয়া, মোখলেছ মিয়া, রুহান ওরফে বোরহান, শিথীল আহমেদ ওরফে ফাহিম আহমেদ, রহমত উল্লাহ ফারিয়াজসহ অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশে অবস্থান করছিলেন। জহিরুল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেল যোগে আসামিরা তার সিএনজি ব্যারিকেড দিয়ে আটকান। এ সময় সিএনজিতে থাকা জহিরুলকে তারা আক্রমণ করে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করেন। আসামিরা সিএনজিচালক গোলাপ মিয়াকেও আঘাত করেন।

ঘটনার সময় অন্যদিক থেকে আসা আরেকটি সিএনজিরচালককে গোলাপ মিয়া বিষয়টি জানালে তিনি মোটরসাইকেল দুটি ধাওয়া করেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উত্তর পৌরতলা সিএনজি স্ট্যান্ডে থাকা লোকজনের সহায়তায় মোটরসাইকেল দুটিসহ আসামি শিথীল ও ফারিয়াজকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। জহিরুল হক ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই কবির হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. আবুল কাশেম ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে ১৬ আসামি কারাগারে এবং বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন। মামলার বিচারকালে রাষ্ট্র পক্ষের ২০ জন এবং সাতজন আসামি সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল।

সূত্র: আমাদের সময়
এম ইউ/২৬ ডিসেম্বর ২০২১

Back to top button