ইউরোপ

জার্মানির আফগানিস্তান পরিকল্পনা জানালেন বেয়ারবক

বার্লিন, ২৪ ডিসেম্বর – আফগানিস্তানে আটকে পড়া লোকজনের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন জার্মানির নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালনো বেয়ারবক। প্রশাসনিক ফাইলের জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত তাদের উদ্ধারের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। খবর ডয়চে ভেলের।

বৃহস্পতিবার বেয়ারবক বলেন, ‘আফগানিস্তানের অর্থনীতির অবস্থা শোচনীয়। একাধিক ক্ষেত্রে আফগানিস্তান কার্যত ভেঙে পড়েছে।’ তার মতে, এই সময়ের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের নাম আফগানিস্তান। দেশের লাখ লাখ মানুষের দুর্দশা অবর্ণনীয়। এ পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

বেয়ারবক সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ যে, সামান্য খাবারের জন্য মেয়েদের বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে পরিবারগুলো। এর থেকেই বোঝা যায়, সেখানে কী অবস্থায় বসবাস করছেন সাধারণ মানুষ।

জার্মানির হিসেবে, চলতি শীতে শুধু ঠান্ডায় ২ কোটি ৪০ লাখ আফগানের মৃত্যু হতে পারে। তারমধ্যে অসংখ্য শিশুও আছে। বেয়ারবক বলেন, ‘চোখ বুজে রেখে এই মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারি না। আমাদের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তাদের উদ্ধার করতে হবে।’

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জার্মান সরকার আফগানিস্তান থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করে জার্মানি নিয়ে আশার প্রতিশ্রুতি যাদের দেয়া হয়েছিল, তেমন আরও ১৫ হাজার মানুষ এখনো আফগানিস্তানে আটকে আছেন। শুধু তাই নয়, ১৩৫ জন জার্মান নাগরিক এখনো আফগানিস্তানে আটকে আছেন। তাদের সবাইকে জার্মানিতে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বেয়ারবক বলেন, ‘জার্মানি আপনাদের ভুলে যায়নি।’

বৃহস্পতিবারই আফগানিস্তান নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সেখানে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের জন্য তালেবান, মার্কিন সেনা এবং এবং আফগান সেনা যৌথভাবে দায়ী।

তাদের যুদ্ধে বহু সাধারণ আফগানের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও তুলেছে অ্যামনেস্টি। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবান নেতৃত্ব কেউই কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/২৪ ডিসেম্বর ২০২১

Back to top button