ঢালিউড

নতুন করে ভালোবাসা শিখাচ্ছে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর- করোনার বাঁধা পেরিয়ে গেল সপ্তাহেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে বহুল প্রতিক্ষীত সিনেমা ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত এই সিনেমাতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন শার্লিন ফারজানা ও ইমতিয়াজ বর্ষণ। মুক্তির পর থেকেই বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছে ছবিটি। দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন ছবিটি। প্রথমদিকে একটি হলে মুক্তি পেলেও এরপর দর্শক চাহিদায় ক্রমান্বয়ে আরও বেশ কিছু হলে মুক্তি পেয়েছে এই ছবি।

এরইমধ্যে ছবিটি দেখার পর শোবিজের অনেকেই তাদের নিজস্ব মতবাদ ব্যক্ত করেছেন, নানারকম রিভিউর মাধ্যমে প্রশংসাও করেছেন। সম্প্রতি ছবিটি দেখার পর নিজের অনুভূতি জানালেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শার্লিন ফারজানার স্বামী এহসানুল হক। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ঊনপঞ্চাশ বাতাস দেখে এসে আমি যদি কিছু না লিখি তাহলে অন্যায় হয়ে যাবে। যদিও ঘোর এখনো কাটেনি। নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছে যে আমি ঊনপঞ্চাশ বাতাসের টিমের খুব কাছের মানুষ, আর গর্ববোধ হচ্ছে যে আমি শার্লিন ফারজানার স্বামী। শার্লিন আমাকে প্রায়ই ঊনপঞ্চাশ বাতাসের নানা রকম অভিজ্ঞতার গল্প বলত কিন্তু কোনদিন সিনেমাটির গল্প আমাকে বলে নাই। বলত গুরুর নির্দেশ।

তার গল্পের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। সিনেমার একটা শট নিতে হচ্ছে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে, নীরা একটি আবেগঘন মুহূর্তে তার প্রিয়জনের লাশের মুখের কাপড় সরিয়ে তার দিকে তাকাবে, সে খুব স্বাভাবিক ভাবেই অশ্রুসিক্ত অভিনয় করে, তখন উজ্জ্বল ভাই ডিরেকশন দেন “এইখানে লাশের ঠান্ডা শরীরের স্পর্শে তোমার একটু কেঁপে ওঠা উচিত”। তার কিছুদিন আগে শার্লিন তার মাকে হারায়, খুব উষ্ণ একটা বেদনার মধ্যে দিয়ে সে যাচ্ছিল। তখন সে উজ্জ্বল ভাইকে বলে “প্রিয় মানুষ চলে গেলেও তার উষ্ণতা একই রকম থাকে”।

আরও পড়ুন: কেমন আছেন পর্দা কাঁপানো সেই অভিনেত্রী নাসরিন

শুনতাম শিল্পীরা নাকি তার কষ্টগুলো চ্যানেল করতে পারে তাদের কর্ম দিয়ে, এইবার দেখার সৌভাগ্য হল সিনেমাটা দেখে। এই রকম একটা দৃশ্যে চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নাই, আশেপাশেও শুনছিলাম কান্নার আওয়াজ। অসম্ভব সুন্দর অভিনয় করেছে শার্লিন ফারজানা। একটু না বললেই নয় শার্লিন বাস্তবেও নীরার মত। পর্দায় আপনারা যে নীরা কে দেখেছেন, সে তো শার্লিনের অভিনয়ের প্রতি ভালবাসার ফল, কিন্তু বাস্তবেও তার ভালবাসার দূর্দান্ত ক্ষমতা সম্পর্কে আমি জানি। খুব কাছের একজন মানুষ হিসেবে বললাম কথাগুলো।

বর্ষনকে চিনেছি কিছুদিন আগে, অনেক সুনাম শুনেছি শার্লিনের কাছে। তার অভিনয় দেখে একটা কথাই বলবো অয়ন চরিত্রটি বর্ষণ ছাড়া আর কেও করতে পারত না। এখন আমার নিজের অয়নের মত হতে ইচ্ছে করে যে নিজের জন্য নয় অন্যের জন্য বাঁচে। একটা চরিত্র অভিনয় করে মনে দাগ কাটাতে পারাটাই শিল্পীর সার্থকতা। বর্ষণ তোমার সাফল্য কামনা করি।

উজ্জ্বল ভাইকে নিয়ে বলতে গেলে আমার নিজের কণ্ঠ কাঁপে শ্রদ্ধায়। কি অসাধারণ ডাইরেকশন, গানের কথা, সুর, কালার সিলেকশন বলে শেষ করতে পারব না। He is a living legend for creating beautiful metaphor and non linear stories! এইটা কি বানালেন উজ্জ্বল ভাই, ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকবে ঊনপঞ্চাশ বাতাস। আর আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা দেখলাম একটা শটে ( ডিএনএ গেমে ) হঠাৎ আমার নাম দেখে চমকে উঠেছিলাম, সামলে নিয়ে বুঝলাম এইটা আপনার কাজ। ধন্যবাদ এইভাবে মনে রাখার জন্য। শার্লিন আপনাকে সবসময় গুরু বলে, এখন বুঝি কেন বলে। আজ থেকে আপনি আমারও গুরু।

ঊনপঞ্চাশ বাতাস আসলেই বইছে। বদলাচ্ছে আমাদের চিন্তাভাবনা, নতুন করে শিখাচ্ছে ভালোবাসা। সবার জন্য শুভকামনা।

এন এইচ, ৩১ অক্টোবর

Back to top button