ইউরোপ

ওমিক্রন: ফের বিধিনিষেধ আরোপ করছে ইউরোপ

লন্ডন, ২২ ডিসেম্বর – ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইউরোপিয়ান নেতারা আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করছেন। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের সতর্ক করে বলেছে, ওমিক্রনে মহাদেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ইতোমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আধিপত্য শুরু করেছে। ডব্লিউএইচওর ইউরোপীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হ্যান্স ক্লুজ ইউরোপিয়ান নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, ওমিক্রনের চলমান ঢেউ মহাদেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাবে।

হ্যান্স ক্লুজ বলেন, করোনার ‘আরও একটি ঝড়’ আসছে, সরকারগুলোকে সংক্রমণ বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রস্তুত হওয়া উচিত।

এদিকে জার্মানি ও পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপ করছে। দেশ দুটি বড়দিন পরবর্তী বিধিনিষেধ এবং সামাজিক দূরত্ব মানার নতুন বিধি ঘোষণা করেছে।

জার্মানি ঘোষণা দিয়েছে, ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিধিনিষেধ পুনরায় চালু হচ্ছে এবং ১০ জনের বেশি লোক একসঙ্গে জমায়েত হওয়া যাবে না। এছাড়া নাইট ক্লাবগুলো বন্ধ থাকবে। এমনকি ওই তারিখ থেকে নির্ধারিত ফুটবল ম্যাচগুলো দর্শকবিহীন অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলস বলেন, করোনাভাইরাস বড়দিনের ছুটি নেয় না। আমরা পরবর্তী ঢেউয়ের ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে রাখতে পারি না, অবশ্যই রাখা উচিত না। কারণ এটি ইতোমধ্যে আমাদের ওপর শুরু হয়ে গেছে।

এদিকে পর্তুগাল আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে বার ও নাইটক্লাবগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া একই দিন থেকে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাসা থেকে কাজকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর ঘরের বাইরে ১০ জনের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবে না।

তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বড়দিনের আগে কোনো ধরনের বিধিনিষেধের ব্যাপারে নাকচ করে দিয়েছেন। যদিও স্কটল্যান্ড, ওয়ালস এবং নর্দান আয়ারল্যান্ডে সামাজিক মেলামেশায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সুইডেনে বুধবার থেকে বার, ক্যাফে ও রেস্তোরাঁগুলো কেবল আসনে বসা অতিথিদের সেবা দেবে। এছাড়া সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী লেনা হ্যালেনগ্রেন বলেছেন, ওমিক্রন শনাক্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বোঝা বাড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

নেদারল্যান্ডস ইতোমধ্যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন চলছে দেশটিতে। তবে বিবিসির ইউরোপীয় প্রতিনিধি নিক বেক বলেছেন, ইউরোপিয়ান নেতারা যদি সম্ভব হয় বড়দিনের উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাচ্ছেন না।

ইইউর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ইউরোপে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৯ মিলিয়ন এবং করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৫ লাখ মানুষের।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ২২ ডিসেম্বর

Back to top button