ইসলাম

ইসলামের ভিত্তি ও আমাদের করণীয়

মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানি

ইসলাম ধর্মের মৌলিক কাজ পাঁচটি। এ পাঁচটি বিষয়কে ইসলামের ভিত্তি বলা হয়। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর- আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসুল এবং নামাজ কায়েম, জাকাত প্রদান, হজ আদায় ও রোজা রাখা। বুখারি, মুসলিম।

একজন মুসলমানের জীবনে এ পাঁচটি বিষয়ের প্রভাব ও গুরুত্ব অপরিসীম। অতীত যুগে পাঁচটি খুঁটির মাধ্যমে তাঁবুর মতো ঘর নির্মাণ করা হতো। যা আজও হজ মৌসুমে পরিলক্ষিত হয়। রসুলুল্লাহ (সা.) ইসলাম ধর্মকে ঘরের সদৃশ দিয়েছেন। বস্তুত ঘরে আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ ঝড়-তুফান, রোদ-বৃষ্টি ইত্যাদি থেকে নিরাপদ থাকে। যারা ইসলামের শান্তি শীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করবে তারা শিরক, বিদাত, কুসংস্কার ইত্যাদি গর্হিত অপরাধ থেকে মুক্ত থাকবে। এ ভিত্তিগুলো যাদের মধ্যে প্রতিফলন ঘটবে তাদের জীবন সুশৃঙ্খল হবে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হবে। নিরাপদ থাকবে তারা আল্লাহর গজব ও কঠিন শাস্তি থেকে।
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের প্রথম ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে ইমান। মুসলমান হওয়া এবং পরকালে মুক্তিলাভের জন্য পূর্বশর্ত হচ্ছে ইমান। ইমান হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর রসুল মুখে বলা ও অন্তরে বিশ্বাস করা। একজন মুসলমানের কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে তার ইমান। যা তার প্রাণের চেয়েও প্রিয়। তাই প্রতিটি মুসলমান ইসলামকে এর সব অপরিহার্য অনুষঙ্গসহ মানা ও বিশ্বাস করা ইমানের দাবি।

মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ইমান হলো সত্তরোর্ধ্ব অনুষঙ্গবিশিষ্ট। এর সর্বোচ্চ হলো আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই বলা এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক দ্রব্য সরিয়ে নেওয়া। লজ্জা হলো ইমানের একটি অনুষঙ্গ।’ বুখারি, মুসলিম। মহান প্রভু ঘোষণা করেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও আল্লাহর ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।’ সুরা আলে ইমরান আয়াত ১৮।

ইমানের পরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ। আল কোরআনে আল্লাহ বিভিন্ন আয়াতে ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমিই আল্লাহ আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। অতএব আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম কর।’ সুরা তোয়া-হা আয়াত ১৫। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।

ইমানদার ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্য হয় নামাজের মাধ্যমে। মহানবী (সা.) নামাজের গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করি আল্লাহতায়ালার কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় আমল কী? তিনি বলেন, নামাজ।’ বুখারি, মুসলিম।

অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘মুসলমান বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করে তখন তার পাপগুলো ঝরে পড়ে, যেমন শীতকালে গাছের পাতা ঝরে পড়ে।’ মুসনাদে আহমদ। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের তৃতীয় হচ্ছে রোজা। প্রত্যেক সুস্থ মুসলমানের ওপর রমজানের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ সুরা বাকারা আয়াত ১৮৪।

রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকির সওয়াব ১০ থেকে ৭০ গুণ হতে পারে।’ কিন্তু মহান আল্লাহ বলেন, ‘রোজা আমার জন্যই এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব।’ বুখারি, মুসলিম। ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ হলো হজ। জিলহজের নির্দিষ্ট তারিখে মক্কায় নির্দিষ্ট কিছু আমল করাকে হজ বলে। আল্লাহতায়ালা বলেন, (শারীরিক ও আর্থিক) ‘সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।’ সুরা আলে ইমরান আয়াত ৯৭।

ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হলো জাকাত। জাকাত শব্দের অর্থ পরিশুদ্ধতা। শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিকদের প্রতি বছর মোট অর্থের ২.৫% হারে জাকাত পরিশোধ করা ফরজ। এতে সম্পদ হালাল ও আত্মার পরিশুদ্ধি হয়। জাকাত ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক বিষয়। এর মাধ্যমে সমাজে ধনী-গরিবের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হয়।

এন এইচ, ২১ ডিসেম্বর

Back to top button