শিক্ষা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু আজ

রাজশাহী, ২১ ডিসেম্বর – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। লাখো শিক্ষার্থীর প্রাণের বিদ্যাপীঠ। হৃদয়ের স্পন্দন এবং আবেগ-অনুভূতির জায়গা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিদ্যাপীঠে নিজের জায়গা দখল করে নিতে কতই না খাটুনি। মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করতে দিনরাত একাকার করে পড়াশোনা। তারপরে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেয় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।

ইতোমধ্যে ভর্তিযুদ্ধে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জায়গাও করে নিয়েছে স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে পদার্পণ করবেন, কবে শিক্ষক এবং বড়দের সান্নিধ্য পাবেন সেই নিয়ে হয়তো প্রতিক্ষার প্রহরও গুনছিলেন তারা। অবশেষ দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হতে চলেছে। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) থেকে পাঠদান শুরু হবে নবীনদের। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী বলেন, আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে। সে উপলক্ষে ক্যাম্পাসে প্রক্টোরিয়াল বডি তৎপর রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পাসে মাইকিং করা হবে। র‍্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে সব ধরনের সচেতনতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এরপরও যদি র‍্যাগিংয়ের মতো কোনো ঘটনা ঘটে আর যদি সে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সবোর্চ্চ শাস্তি বহিষ্কার করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে রাবিতে গত ০৪ অক্টোবর ‘সি’ (বিজ্ঞান), ০৫ অক্টোবর ‘এ’ (মানবিক) এবং ০৬ অক্টোবর ‘বি’ (বাণিজ্য) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় ৪ হাজর ১৯১টি আসনের বিপরীতে অংশ নেয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৭ জন ভর্তিচ্ছু। পরে ১০ অক্টোবর দুপুর ২টায় ‘সি’, রাত ১১ টায় ‘এ’ এবং ১২ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়।

পরবর্তীতে গত ২৫ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চললেও আসন ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে তা বাড়িয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে একাডেমিক কার্যক্রমের সময় ১ ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে ২১ ডিসেম্বর করা হয়। কিন্তু আবারও আসন ফাঁকা থাকায় তা পুনরায় ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এখনও অনেক আসন ফাঁকা রয়েছে। যারা ভর্তি হয়েছিল তাদের অনেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন। এখন তারা ভর্তি বাতিল করছেন। ফলে অনেক আসন ফাঁকা রয়েছে। তাই ভর্তি কার্যক্রমের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হবে।

নবীনদের পদার্পণ নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের নতুন সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেওয়ার জন্য তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কাছে চাইব যে তারা নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।

সূত্র : আরটিভি
এম এস, ২১ ডিসেম্বর

Back to top button