জাতীয়

ইউপি নির্বাচনের পাঁচ ধাপে বিনা ভোটে জয়ী ১৬০০ প্রার্থী

ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর – দেশের তৃণমূল রাজনীতির সবচেয়ে জমজমাট আসর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট। গ্রামগঞ্জের মানুষ রীতিমতো এ ভোট উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার সংখ্যা বলে দিচ্ছে, তৃণমূলের ভোটের সে প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। ইউপি নির্বাচনে এ পর্যন্ত ছয় ধাপের তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে পাঁচ ধাপেই এক হাজার ৬০০ জন চেয়ারম্যান, সাধারণ পদের সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে শুধু চেয়ারম্যানই আছে ৩৫৩ জন। এই বিজয়ীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি, হুমকি, হামলা ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

ইসি সচিবালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত রোববার পঞ্চম ধাপে ৫২ চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট ছাড়া বিজয়ী হয়েছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ওই দিন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ হবে। এর আগে চতুর্থ ধাপে ৪৮ জন, তৃতীয় ধাপে ১০০, দ্বিতীয় ধাপে ৮০ ও প্রথম ধাপে ৭৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

অন্যান্য পদ মিলিয়ে পাঁচ ধাপে তিন হাজার ৭৫৩টি ইউপির মধ্যে এক হাজার ৬০০ প্রার্থী ভোট ছাড়াই বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৫৪ জন, সাধারণ সদস্যপদে ৮৫৮ এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য ৩৬৪ জন। আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপে আরও ২১৯টি ইউপির ভোট অনুষ্ঠিত হবে। যার মনোনয়নপত্র জমা ও প্রত্যাহারের সময় এখনও পার হয়নি।

ইসি-সংশ্নিষ্টরা জানান, চেয়ারম্যান পদে ভোট ছাড়া বিজয়ী ৩৫৩ প্রার্থীর মধ্যে ৩৫২ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। ইউপি ভোটে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের বিধান চালু হওয়ার পরে দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হচ্ছে। চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের সুযোগ থাকলেও অন্য পদগুলোতে দলীয় প্রতীক দেওয়ার সুযোগ নেই। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি এই ভোটে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না দিলেও তাদের নেতাকর্মী এই ভোটে অংশ নিচ্ছেন।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পঞ্চম ধাপে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউপির সব ক’টি পদে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার সবাই ভোট ছাড়াই পাস করেন। ওই উপজেলায় কোনো ভোট লাগেনি। একই অবস্থায় কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাঁচটি ইউপিতে। সেখানেও সব ক’টি পদে ভোট ছাড়াই পাস করে। শরীয়তপুরে একটি ইউপিতে একই ঘটনা ঘটলেও পরে সই জালিয়াতি ধরা পড়ায় ওই ইউপির ভোট স্থগিত রাখা হয়।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পঞ্চম ধাপে ৯৬টি উপজেলার ৭১৪টি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৫২ প্রার্থী। এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে ৩২ জন এবং সাধারণ সদস্যপদে ১০৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপে চেয়ারম্যান পদে তিন হাজার ২০৭ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে সাত হাজার ৮০৪ এবং সাধারণ সদস্যপদে ২৪ হাজার ৮৪৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের ৮৪২ ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ৬ ডিসেম্বর ছিল চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। চতুর্থ ধাপে ১২০টি উপজেলার ৮৪২টি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৪৮ প্রার্থী। এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে ১১২ জন এবং সাধারণ সদস্যপদে ১৩৫ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের এক হাজার ইউপির মধ্যে ১০০ জন চেয়ারম্যান ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সদস্য নির্বাচিত হন ৩৩৭ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হন ১৩২ জন। এই ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১০০ জনের মধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ৮৩৩টি ইউপির মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৮০ জন, সংরক্ষিত নারী সাধারণ সদস্যপদে ৭৬ এবং সাধারণ সদস্যপদে ২০৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। গত ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর দু’দফায় প্রথম ধাপে ৩৬৫টি ইউপির ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ২০ জুন অনুষ্ঠিত ২০৪টি ইউপির মধ্যে ২৮ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ভোট ছাড়া সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য হিসেবে পাঁচজন এবং সাধারণ সদস্য হিসেবে ২৯ জন নির্বাচিত হন। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের স্থগিত ১৬১ ইউপির মধ্যে ৪৫ জন চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য সাতজন এবং সাধারণ সদস্য ৪৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ২১ ডিসেম্বর

Back to top button