জাতীয়

সংলাপ নয়, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে আইন প্রণয়নের দাবি টিআইবির

ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর – নির্দলীয়, সৎ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়োগে শুধু সংলাপ নয়, অবিলম্বে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, ২০১২ এবং ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের পর গঠিত দুটি নির্বাচন কমিশনই ব্যাপকভাবে বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়েছে। একটি প্রকৃত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফেরাতে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন আইন গঠন এবং সেই আইন অনুযায়ী ইসি নিয়োগের বিকল্প নেই। তাই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে অবিলম্বে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হোক।

সোমবার এ দাবি জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদপূর্তির আগেই নতুন নির্বাচন কমিশন-ইসি গঠনের জন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ যে সংলাপ শুরু করেছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ, তবে যথেষ্ট নয়। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। শুধু সংলাপ করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠন পদ্ধতিতে ইতোপূর্বে কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক ফল আসেনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ নিয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের তেমন কোনো তাগিদ বা উচ্ছ্বাস নেই। এই সংলাপে ইসি গঠনে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব কিংবা নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন বিষয়ে ইতিবাচক কোনো আলাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলেও মনে করছে না রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এ ধরনের সংলাপের মাধ্যমে সার্চ কমিটি করে গঠিত ইসি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চূড়ান্তরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এই সংলাপের ফল যাই হোক না কেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি সবার প্রত্যাশা- জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে অবিলম্বে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া।

ইসি গঠনে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অবিলম্বে আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব এমন ব্যক্তিদের হাতে অর্পিত হয়, যারা নির্দলীয়, সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সৎসাহসের অধিকারী হবেন এবং যার ফলে সত্যিকারের নির্দলীয়, সৎ, নিরপেক্ষ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে জনগণের ‘নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের স্বাধীনতা’ প্রয়োগের অধিকার এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অবাধ ও নিরাপদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার অর্জিত হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আশাবাদ ব্যক্ত করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ডে ইসি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় ভূমিকা নিশ্চিতে রাষ্ট্রপতি এবারই নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নে জোরালো ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য শুধু নির্বাচনের দিনেই নয় বরং মনোনয়ন জমা দেওয়ার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে স্বাধীন ও নির্দলীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের মুক্ত ও অবাধ উপস্থিতি নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/২০ ডিসেম্বর ২০২১

Back to top button