দক্ষিণ এশিয়া

‘মাতৃগর্ভ এবং কবর ছাড়া নেই কোনো নিরাপদ স্থান, লিখে ছাত্রীর আত্মহত্যা

চেন্নাই, ২০ ডিসেম্বর – সবেমাত্র একাদশ শ্রেণিতে উঠেছিল মেয়েটি। কিন্তু এরই মধ্যে সমাজের কিছু বর্বর মানুষের হাতে নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে বারবার, যা একপর্যায়ে অসহ্য হয়ে উঠেছিল তার কাছে। ফলাফল, কাউকে কিছু না জানিয়ে অকালে পৃথিবী থেকে চিরবিদায়। আর এই ক্ষণস্থায়ী জীবন মেয়েটিকে শিখিয়েছে, ‘পৃথিবীতে কেবল মায়ের গর্ভ আর কবরই মেয়েদের জন্য নিরাপদ স্থান, আর কোথাও নয়’। এর জন্য সুইসাইড নোটে আশপাশের সবাইকে দায়ী করে গেছে অভিমানী কিশোরী। সম্প্রতি মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের তামিলনাড়ুতে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবর, সুইসাইড নোটে ‘মেয়েরা শুধু মাতৃগর্ভ আর কবরেই নিরাপদ’ লিখে সমাজের প্রতি নিজের বিতৃষ্ণার কথা জানিয়ে গেছে মেয়েটি। কিন্তু মৃত্যুর আগে নিজের পরিবারকে কখনোই কিছু বলেনি সে।

মেয়েটিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চেন্নাইতে এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২১ বছর বয়সী ছেলেটি পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছে। তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি থেকে শিশু সুরক্ষা আইনে (পকসো) ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ছেলেটির বক্তব্য, তার সঙ্গে ওই নাবালিকার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। শেষ দু’সপ্তাহ ধরে সে মেয়েটিকে হয়রানি ও নির্যাতন করছিল।

তদন্তকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা নোংরা মেসেজ ও ছবি আদান-প্রদানের প্রমাণ পেয়েছি। এ ঘটনার আট মাস আগে থেকে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

গত শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মেয়েটি। এসময় তার মা বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি বাড়ি ফিরে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেয়েকে দড়ির সঙ্গে ঝুলতে দেখেন।

ওই ঘরে পাওয়া সুইসাইড নোটে কিশোরী অভিযোগ করেছে, তার স্কুলও নিরাপদ নয় এবং শিক্ষকদেরও বিশ্বাস করা যায় না। মেয়েটি লিখেছে, ‘মানসিক অত্যাচার’র কারণে সে পড়তে, এমনকি ঘুমাতে পারছিল না।

ভুক্তভোগী এ স্কুলছাত্রীর মতে, ‘প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের, বিশেষ করে ছেলেদের শিক্ষা দেওয়া, যেন তারা মেয়েদের সম্মান করে’।

জানা যায়, তিন বছর আগে মেয়েটি যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো, তখন একই স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে ছিল গ্রেফতার হওয়া ছেলেটি। পরে মেয়েটি অন্য স্কুলে চলে গেলেও তাদের মধ্যে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বন্ধু্ত্ব তৈরি হয়।

আত্মঘাতী হওয়ার আগে মেয়েটি ‘যৌন হয়রানি বন্ধ করো’ দাবি জানিয়ে আরও লিখেছে, তার সম্ভাব্য তিন নিপীড়ক হচ্ছে- ‘আত্মীয়, শিক্ষক এবং সবাই’। সবশেষে ‘জাস্টিস ফর মি’ (আমার জন্য বিচার চাই) লিখে চিঠি শেষ করেছে অকালপ্রয়াত মেয়েটি।

সুইসাইড নোটে লেখা অভিযোগের ভিত্তিতে মেয়েটিকে আর কেউ হয়রানি করেছিল কিনা তা তদন্ত করছে পুলিশ।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/২০ ডিসেম্বর ২০২১

Back to top button