জাতীয়

জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত অফিস করার আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর – জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত অফিস করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে গভর্নেন্স এডভোকেসি ফোরাম আয়োজিত ‘কার্যকর স্থানীয় সরকার জাতীয় কনভেনশন-২০২১’ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত অফিস করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বার নির্বাচিত হয়ে এটাকে অপশনাল হিসেবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণ আপনাকে জোর করে ক্ষমতায় বসাননি। বরং আপনি জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চেয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে।

জনপ্রতিনিধিদের নাগরিক সেবায় আরো বেশি মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তাদের চাহিদাগুলো পূরণ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের সম্মানিত ও মর্যাদাশীল করার জন্য তার মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সব আইন পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী করতে সংশোধন করা হচ্ছে। আইন সংশোধন হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেশি শক্তিশালী, কার্যকর ও সক্ষম হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোথাও কোনো দুর্বলতা থাকলে সেগুলো খুঁজে বের করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত যে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যতো বেশি শক্তিশালী করা যাবে, ততো বেশি উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য দরকার জনগণের অংশগ্রহণ।

তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার আওতায় আনার অর্থ হেয় করা নয়। বরং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মনিটরিং করা, সরকার এবং জনগণ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ সবাইকে সহাবস্থান করে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সমন্বয় করে কাজ করার বিকল্প নেই। সব শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন।

কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য মানুষের উপর আবার জুলুম করা যাবে না। নাগরিক সেবা বৃদ্ধিই পারে রাজস্ব আয় বাড়াতে। জনগণ যখন বুঝবে তাদের দেয়া অর্থ তাদের কল্যাণে ব্যবহার হবে তাহলে তারা রাজস্ব প্রদানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।

গভর্নেন্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের চেয়ারপার্সন ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামসহ জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২০ ডিসেম্বর

Back to top button