নাটক

পুরনো ঘটনা ঘাঁটিয়ে লাভ নেই : ফারিয়া

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর – বিচ্ছেদের বছরখানেক পর সাবেক স্বামী হারুনুর রশীদ অপুর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন ছোট পর্দার আলোচিত অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। তিনি জানান, স্বামীর কাছে নির্যাতনের শিকার হয়েই বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন। এই অভিনেত্রীর দাবি, সাবেক স্বামীর নির্যাতনে তার হাত ভেঙে গিয়েছিল।

ফারিয়ার এমন মন্তব্যে চুপ ছিলেন না সাবেক স্বামী হারুনুর রশীদ অপু। পাল্টা জবাব দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি অনেকটা একে অপরের দিকে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিচ্ছেদের এত দিন পর নির্যাতনের অভিযোগ আনা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে শবনম ফারিয়া জানান, ‘ইমোশনাল হয়ে লিখে ফেলেছিলাম। পরে বুঝলাম, ঠিক হয়নি। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি সম্মানের সঙ্গে সবকিছু শেষ করতে। অপুকে (হারুনুর রশীদ) ছোট করার জন্য আমি পোস্টটা দিইনি। দিয়েছি এটা বলার জন্য যে আমাদের সমাজ মেয়েদের সব সময় মানিয়ে নিতে শেখায়, শুধু মেয়েদেরই কম্প্রোমাইজ করতে বলে। অথচ শেখানো উচিত, যেখানে সম্মান নেই, সেখানে জোর করে থাকার কোনো মানে হয় না।’

হাত ভাঙার অভিযোগের প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘বিষয়টা এমন না যে, অপু চেয়েছিল আমার আঙুল ভেঙে যাক। আমাদের দুজনের অনেক রাগারাগি হয়েছিল, একটা পর্যায়ে হাতাহাতি। একটা পর্যায়ে আমার হাতটা ভেঙে যায়। আমি অপুর বিরুদ্ধে কোনো কমপ্লেইন করিনি। আমি ওই সময় বুঝেছিলাম, বিয়েটা টক্সিক হচ্ছে। কিন্তু আমি সমাজের ভয়ে মেনে নিয়েছি, এ জন্য আমাদের দুজনকে সাফার করতে হয়েছে। সোসাইটি যদি এ ব্যাপারে এত স্ট্রিক্ট না হতো, তাহলে আমাদের দুজনের লাইফের আড়াই বছর নষ্ট হতো না। আমার অভিযোগ ছিল এটা নিয়ে। কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে নয়। পুরোনো ঘটনা এখন ঘাঁটিয়ে লাভ নেই। অলরেডি আমি এত অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আলোচনায় আছি, নতুন আর কিছু চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অপুর স্বীকার-অস্বীকারের কী আছে? একটা নিউজ পড়ে খারাপ লেগেছিল বলে পোস্টটা করি। অপুকে নিয়ে পোস্টে কিছু ছিল না। আসলে পাবলিক প্লেসে আমার ওটা লেখাই উচিত হয়নি। পোস্টে মনে হয়েছে আমি তাঁর প্রতি অভিযোগ করেছি। অভিযোগটা আসলে ওর প্রতি না, অভিযোগটা আসলে সমাজের প্রতি। সমাজ ডিভোর্সকে এত বেশি খারাপ করে দেখে যে চাইলে অনেক কিছু করা যায় না।’

নতুন করে জীবন সাজানো প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে ফারিয়া জানান, ‘এটা বলতে গেলে তো কমপ্লিকেটেড হয়ে যায়। আমি চাই না আর কোনো ঝামেলা হোক। সবাই লাইফে সেটেল্ড হতে চায়, শান্তিতে থাকতে চায়। জানানোর পর্যায়ে এলে তখন আমিই সবাইকে জানাব। তার আগপর্যন্ত আমি আমার মতো করে বোঝার চেষ্টা করি।’

এম এস, ১৯ ডিসেম্বর

Back to top button