অপরাধ

বাবা-চাচার জমি সংক্রান্ত বিরোধে খুন হন হাসিব

ঢাকা, ১৭ ডিসেম্বর – রাজধানীর মিরপুরে টপটেনের কর্মচারী শাহদাৎ হোসেন হাসিবকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। হাসিবের বাবা ও চাচাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য পাঁচ লাখ টাকা চুক্তি হয় বলেও জানায় পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন- মোফাজ্জল হোসেন মন্ডল, হুমায়ুন কবির, মো. হৃদয়, মো. সাদ্দাম ও আল আমিন।

শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) তৈমুর রহমান। মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

এডিসি তৈমুর রহমান বলেন, নিহত শাহদাৎ হোসেন হাসিব ছয় মাস আগে মিরপুর-১ নম্বরে ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মল্লিক টাওয়ারের টপটেন কারখানায় কাটিং সেকশনে চাকরি করতেন। করোনা মহামারির কারণে চাকরি ছেড়ে গত জুন মাসে বাড়িতে চলে যান হাসিব। এরপরে গত ১ ডিসেম্বর আবার টপটেনে যোগ দেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় কারখানা ছুটি হলে হাসিব বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। বাসায় যাওয়ার পথে শাহআলী থানাধীন ই-ব্লকের ৬ নম্বর রোডে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন এসে হাসিবকে ছুরিকাঘাত করেন। তারা ধারালো ছুরি দিয়ে হাসিবের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে পালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, হাসিব রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে গেলে আশেপাশের লোকজন তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসিবের পরিবার হাসপাতালে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে।

মামলার তদন্তের বর্ণনা দিয়ে এডিসি তৈমুর রহমান বলেন, নিহত হাসিবের বাবা ও তার চাচাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে কারখানার কর্মী মোফাজ্জল হোসেন মন্ডলের মাধ্যমে হাসিবকে ফের ঢাকায় আনা হয়। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি করা হয় হত্যাকারীদের সঙ্গে। এ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নেন হুমায়ুন কবির, সাদ্দাম, আল আমিন ও হৃদয়। এদের মধ্যে হৃদয় হাসিবকে ছুরিকাঘাত করেন।

এ ঘটনায় হৃদয় ও সাদ্দাম আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। মামলার তদন্ত চলমান বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/১৭ ডিসেম্বর ২০২১

Back to top button