জাতীয়

পাক বাহিনীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ যুদ্ধের সব স্থান সংরক্ষণ করা হচ্ছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

ঢাকা, ১৭ ডিসেম্বর – পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যেসব জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধ হয়েছে সেসব সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ ক ম মোজাম্মেল হক।

বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, যখন পাকিস্তানিরা আমাদের মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে, সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতা অর্জনের শুভ সূচনা করেন। পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন, সর্বোপরি ছয় দফা উত্থাপনের পর বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানোর জন্য পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। এর ফলে মানুষ গর্জে ওঠে এবং গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে আসে।

মন্ত্রী বলেন, সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙাকুশ জয় পায়। তবে বাঙালির কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে। এরপর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণে বলেন, ‘আমি যদি হুকুম নাও দিবার পারি, তোমাদের যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করবে।’ তারপরও যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি তখন ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। বাংলার সর্বস্তরের মানুষ, আপামর যুব সমাজ জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী মাথা নত করে আত্মসমার্পণ করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতের বীর জনতা, ভারতের সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তারা অস্ত্র ও ট্রেনিং দিয়ে সহযোগিতা করেছিলো। আমরা আরও কৃতজ্ঞতা জানাই এজন্য যে- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের তিন মাসের মাথায় সেই মিত্র বাহিনীকে ভারত ফেরত নিয়ে গেছে। সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১৭ ডিসেম্বর

Back to top button