জাতীয়

দেশের সম্মানকে ক্ষুণ্ণ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর – সারা বিশ্বে বাংলাদেশে সমস্ত সম্মানকে সরকার ক্ষুন্ন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য আজকে ৫০ বছরে আমাদের স্বাধীনতাকে সুসংহত করার কথা, আমাদের সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার কথা, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরো উপরে নিয়ে যাওয়ার কথা তখন এমন একটি সরকার যারা আজকে বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। যাদের জনগণের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, আজকে তারা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের সমস্ত সম্মানকে ক্ষুণ্ণ করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করেছে, তাদের ৭ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। কারণটা কী? খুব পরিস্কার করে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বলেছে, এরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে তারা মানুষকে অন্যায়ভাবে-বেআইনিভাবে খুন করেছে, হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে, বিনা বিচারে হত্যা করেছে, এক্সট্টা জুডিশিয়াল কিলিং হয়েছে। এ্খানে ৬’শ উপরে মানুষকে গুম করে ফেলা হয়েছে, এখানে হাজারের উপরে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের সেই সমস্ত বুদ্ধিজীবী যারা তাদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, যারা রক্ত দিয়েছেন শুধুমাত্র দেশের স্বাধীনতার জন্য, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। তাদের এই আত্মত্যাগ কখনো সার্থক হবে না। আমরা যদি সত্যিকার অর্থেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করতে পারি তবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের এই আত্মত্যাগ সার্থক হবে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। আসুন আজকের এই দিনে এই শপথ গ্রহন করি, আমরা ঐক্যের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাই।

দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী আমাদের বুদ্ধিজীবীদেরকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে হত্যা করেছিলো, সেই সময়ের চিত্রের সাথে আজকের এই চেহারার খুব একটা পার্থক্য নেই। এই সরকার যারা আজকে স্বাধীনতার কথা বলে তারাই আমাদের দেশের জনগণের ওপরে নির্যাতন-অত্যাচারের স্টিমরোলার চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকে একইভাবে আমরা দেখছি যে, আমাদের যারা তরুণ যুবক যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে শুধুমাত্র গণতন্ত্রের কথা বলার জন্য, আমরা দেখেছি প্রায় দেড়’শ সাংবাদিককে ইতিমধ্যে হত্যা করা হয়েছে শুধুমাত্র সত্য কথা বলার জন্য। সাড়ে ৪ হাজার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি, আমাদের অধ্যাপক যারা আছেন তাদের অনেককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আমরা দেখছি, আমাদের অনেক ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিমের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/১৩ ডিসেম্বর ২০২১

Back to top button