আইন-আদালত

মুরাদের বিরুদ্ধে মামলা আবেদনের শুনানি শেষ, আদেশ পরে

ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর – বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের শুনানি নিয়েছেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

আজ সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিচারক আস শামস জগলুল হোসেন এ শুনানি গ্রহণ করেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার এ আবেদনের শুনানি করেন। শুনানি শেষে বিচারক পরে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে গতকাল রবিবার মামলার আবেদনটি করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারুকী। সেদিন বিচারক না থাকায় আজ সোমবার শুনানির দিন ঠিক করা হয়। মামলার অপর আসামি হলেন, মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদ।

মামলার আবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ব্যারিষ্টার-এট-ল’ ডিগ্রী লাভ করেছেন। বর্তমানে সে যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় নিয়েজিত রয়েছেন। জইমা রহমানের দাদা শহীদ প্রেসিডিন্ট জিয়াউর রহমান, দাদী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

মামলায় বলা হয়, মামলার আসামি ডা. মুরাদ হাসান বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং ২ নং আসামি নাহিদ একজন মিডিয়া উপস্থাপক। গত ১ ডিসেম্বর আসামি নাহিদ আসামি ডা. মুরাদ হাসানের স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। যা পরবর্তীতে আসামি ডা. মুরাদ হাসান তার ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে প্রচার ও প্রকাশ করেন। উক্ত স্বাক্ষাৎকারের ডা. মুরাদ হাসান উদ্দেশ্যমূলকভাবে জিয়া পরিবার এবং ব্যারিষ্টার জাইমা রহমান সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যাচার, নারী বিদ্বেষী, মানহানিকার অশ্লীল মন্তব্য করেন।

মামলায় আরও বলা হয়, আসামি ডা. মুরাদ হাসান সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল অনুয়ায়ী যে সাংবিধিানিক শপথ গ্রহণ করেছিলেন তা এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি লঙ্গন করেছেন। আসামিদের এহেন কর্মকাণ্ড ফেসবুকের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। যাতে করে সর্বমহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে আসামি ডা. মুরাদের মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং জানাচ্ছে। আসামিদের এ কর্মকাণ্ড জিয়া পরিবার ও ব্যারিষ্টার জাইমা রহমানসহ সমগ্র নারী সমাজের জন্য মানহানিকার ও অপমানজনক। উক্ত মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। তাই এ অপরাধ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫/২৯/৩১/৩৫ ধারায় শস্তিযোগ্য হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ভিন্ন টকশো ও অনুষ্ঠানে নানা বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ও ঢাকাই সিনেমার এক নায়িকার সঙ্গে অডিও ফাঁসের ঘটনায় ডা. মুরাদকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। একইসঙ্গে জামালপুর আওয়ামী লীগের পদও হারান তিনি। পদত্যাগের পর গত ৯ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে কানাডার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তিনি সেদেশে প্রবেশ করতে না পারে গতকাল রবিবার দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন ড. মুরাদ।

মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য। পেশায় চিকিৎসক এ রাজনীতিবিদ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। ২০১৯ সালের মে মাসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।

সূত্র : আমাদের সময়
এন এ/ ১৩ ডিসেম্বর

Back to top button