মধ্যপ্রাচ্য

চলচ্চিত্র উৎসব করে অপরাধ ঢাকতে চাইছে সৌদি আরব

রিয়াদ, ১২ ডিসেম্বর – সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন হলো। তবে এই উৎসবটিকে দেশটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড ঢাকতে ব্যবহার করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চার বছর আগে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সৌদি আরব। দেশটিতে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে যোগ দিয়েছেন হিলারি সোয়াঙ্ক, ক্লিভ ওয়েন ও ভিনসেন্ট ক্যাসেলের মতো তারকারা। কিন্তু উৎসবটি কয়েক মাস ধরে সমালোচকরা বয়কটের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, দেশে ও বিদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অন্যত্র সরিয়ে নিতে এই উৎসবকে ব্যবহার করতে চায় রিয়াদ।

অভিযোগ রয়েছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে সৌদি কর্মকর্তারা দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ভিন্নমত ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি বিদেশে থাকা সমালোচকদের হত্যা করতেও কসুর করছে না। এর অংশ হিসেবে তুরস্কের একটি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছিল। ইয়েমেনের নৃশংস গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপের নির্দেশও দিয়েছিলেন যুবরাজ। সৌদি আরবের এই স্বৈরাচারিতার কারণে ইয়েমেনকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।

এলএসই এর অধ্যাপক ও সৌদি সরকারের সমালোচক মাদাউই আল-রাশিদ বলেছেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়াই একটি চলচ্চিত্র উৎসব দ্রুত প্রোপাগান্ডা ছড়ায় । ক্রীড়া ও শিল্প কখনই প্রকৃত সংস্কারের বিকল্প হবে না যাতে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকে। নিজেদের বিচ্ছিন্নতা ভাঙতে মরিয়া শাসকরা ইয়েমেনে সংঘটিত অপরাধ এবং নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের পর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রকে আটক, শিরশ্ছেদ ও হত্যার ভয়ঙ্কর দৃশ্যের আবরণ হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে।’

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ১২ ডিসেম্বর

Back to top button