দক্ষিণ এশিয়া

ভারতে ওমিক্রন বাড়ছে

নয়াদিল্লী, ১১ ডিসেম্বর – করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দুই জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে শনিবার বলা হয়, দিল্লিতে যে দুজনের দেহে করোনার ‘কম ভয়ঙ্কর’ ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে, তারা দুজনেই টিকার পূর্ণ ডোজ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ভারতে এ পর্যন্ত ৩৩ জনের দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর এটি ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ পাকিস্তানের করাচিতে এক ব্যক্তির দেহে ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ওই ব্যক্তির দেশের বাইরে ভ্রমণের কোনো ইতিহাস নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বলছে, এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫৭টি দেশে ছড়িয়েছে ওমিক্রন। এক মাসেরও কম সময়ে এসব দেশে ছড়িয়ে পড়লো করোনার এ ধরনটি।

ওমিক্রনকে করোনার অতিসংক্রামক ধরন বলে মনে করা হলেও গবেষকরা বলছেন, এটিতে মৃত্যু-ঝুঁকি অনেকটাই কম। এখন পর্যন্ত যারা ওমিক্রন আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের দেহে লক্ষণ দেখা গেছে মৃদু।

আনন্দবাজার অনলাইন জানায়, ভারতে সবচেয়ে বেশি ওমিক্রন সংক্রমন দেখা যাচ্ছে মহারাষ্ট্র রাজ্যে। সেখানে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। একদিনেই সেখানে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন।

এর জেরে মহারাষ্ট্রে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। মহারাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বেশি ১৭ জনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, দু’দিনের জন্য কোনও বড় জমায়েত, মিছিল করা যাবে না। শনিবার থেকেই এ নির্দেশ কার্যকর হবে ৪৮ ঘণ্টার জন্য।

শুক্রবার সাড়ে তিন বছরের একটি শিশুসহ সাত আক্রান্তকে চিহ্নিত করে মহারাষ্ট্র রাজ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে তিনজন তানজানিয়া, ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সম্প্রতি মুম্বাইয়ে ফিরেছেন। রাজ্যের মোট ওমিক্রন আক্রান্তের মধ্যে মুম্বাইয়ে পাঁচজনের দেহে এ ভাইরাস মিলেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

ভারতের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি: ওমিক্রন শনাক্ত বাড়তে থাকলেও ভারতে দৈনিক কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। নতুন আক্রান্তের হার শুক্রবারের তুলনায় ৬ শতাংশ কম। এক লাফে অনেকটাই কমেছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শনিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৯৯২ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৯৩ জনের। কমেছে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যাও।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১১ ডিসেম্বর

Back to top button