পশ্চিমবঙ্গ

বাতিল মুখ্যমন্ত্রীর নেপাল সফর, দেওয়া হল না ছাড়পত্র

কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর – এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেপাল সফরে ‘না’ কেন্দ্রের। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নেপাল সফরে ছাড়পত্র দিল না বিদেশমন্ত্রক। ১০ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপালে সফরে থাকার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সূত্রের খবর, কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সফরে রাজি নয় বিদেশমন্ত্রক।

নেপালের শাসকদল নেপালি কংগ্রেসের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্প্রতি সে দেশে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই আমন্ত্রণ মুখ‌্যমন্ত্রী গ্রহণও করেন। এরপরই নেপাল যাত্রার জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয় কেন্দ্রের কাছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নবান্নের কাছে সে সংক্রান্ত জবাব এসেছে। জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে নেপালে যেতে পারবেন না মমতা। কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছে করোনার সংক্রমণ। শুক্রবার সকালেই এই সফরে না করা হয়েছে। কারণ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বাড়বাড়ন্ত।

এর আগে রোম সফরেও অনুমতি দেওয়া হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এই সফর ‘সঙ্গতিপূর্ণ নয়’, এমনটাই বক্তব্য ছিল বিদেশমন্ত্রকের। জানা গিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের তরফে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি সে সময় নবান্নে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর এই রোম সফরের দরকার নেই। এর বেশি কোনও ব্যাখ্যা সেখানে দেওয়া হয়নি। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, এ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যারও বিশেষ জায়গা থাকে না। মন্ত্রকের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ যথেষ্ট।

এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ পত্র পাঠান নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট তথা বর্তমানে নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দুর্বা। নেপালি কংগ্রেসের ন্যাশনাল কনভেনশন রয়েছে ১১ ডিসেম্বর। নেপালে যেতে যেহেতু পাসপোর্ট লাগে না, ভিসাই যথেষ্ট। সে ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার সন্ধ্যায় রওনা হতেন। না হলে শনিবার সকালে। মূল অনুষ্ঠান শনিবারই। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে সে অনুমতি দেয়নি বিদেশমন্ত্রক।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “যদি কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদেশ সফরে যান, তখন তাঁরা কোনও দফতর বা রাজ্যের হয়ে যান না। দেশের প্রতিনিধি হিসাবে যান। এই সামান্য বোঝার ব্যাপার। এই সিদ্ধান্ত বিদেশমন্ত্রকই নেয়। অনেক ভাবনাচিন্তা করে তা নিতে হয় মন্ত্রককে। বিদেশমন্ত্রকের যে কোনও সিদ্ধান্ত সমস্ত রাজনৈতিক দলের শিরোধার্য হওয়া উচিৎ।” যদিও এ নিয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এম এস, ১০ ডিসেম্বর

Back to top button