পশ্চিমবঙ্গ

ফের রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত, বিএসএফ নিয়ে কড়া চিঠি ধনখড়ের

কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর – ফের রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বিএসএফের কাজের পরিধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরোধিতা করেই এই চিঠি তিনি পাঠিয়েছেন। রাজ্যপাল দাবি করেছেন, বাংলায় বিএসএফের কাজের ধরন ও পরিধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন তা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতিতে আঘাত হানে। এবং দেশের পক্ষে যথেষ্ট বিপজ্জলনক। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বাংলা সীমান্তে বিএসএফের অক্তিয়ার বাড়িয়ে ৫০ মিটার করা হয়েছে। তার প্রবল প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এবং এই নিয়ে বিধানসভায় প্রস্তাবও পাস করেছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি রাজ্যপালের

রাজ্য সরকারকে ফের পত্রাঘাত রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের। এবার বিএসএফ ইস্যুতে রাজ্যসরকারকে কড়া চিঠি দিয়েছেন রাজ্যপাল। চিঠিতে তিনি িলছেখেন সীমান্তে বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধি নিয়ে যে কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার বলছে তা দেশের নিরাপত্তার দিক থেকে যথেষ্ট হানিকর। এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাত হানতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে কেন্দ্র-রাজ্যের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে চিঠিতে লিখেছেন তিনি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিএসএফ নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রস্তাব পাসের ঘটনায় বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে স্বতোঃপ্রণোদিত হয়ে রিপোর্ট চেয়েছিলেন রাজ্যপাল।

বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিবাদ

কয়েকদিন আগে রাজ্যে বিএসএফের এক্তিয়ার বাড়িয়ে ৫০ মিটার করা হয়েছে। তার প্রতিবাদে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। এবং কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে এবং বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘রাজ্যপাল শুরু থেকেই বিজেপি মুখপত্রের মত কথা বলেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নরেন্দ্র মোদীও বিএসএফ-র ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছিলেন।’

বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধি

গতমাসেই বেশ কিছু রাজ্যে বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম পাঞ্জাব এবং পশ্চিমবঙ্গ। দুই রাজ্যই তাতে প্রবল আপত্তি জানিয়েছে। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছেও দরবার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্যুতে লোকসভা অধিবেশও উত্তাল হয়েছে। তবে মোদী সরকার সিদ্ধান্তে অনড়। বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ৫০ মিটার এক্তিয়ার বাড়ানো হয়েছে তাঁদের। তাতে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের কোনও ক্ষমতা খর্ব করা হয়নি। কারণ বিএসএফ কোনও ভাবেই এফআইআর করতে পারে না। পুলিশের কােছ গিয়েই তাঁেদর এফআইআর করতে হয়। রাজ্যে একাধিক অভিযান যৌথ ভাবে চালিয়েেছ বিএসএফ।

সীমান্তে গুলি

বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধির কয়েকদিন আগেই সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। কোচবিহারের সিতাইয়ে বিএসএফের গুলিতে চার জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশি। বিএসএফের দাবি গরুপাচার করছিল তারা। সেটা রুখতেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে জওয়ানরা। এই নিয়ে থানায় এফআইআর দায়েরও হয়েছে। তারপরেই বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় মোদী সরকার। এই নিয়ে গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।

এম এস, ১০ ডিসেম্বর

Back to top button