সাতক্ষীরা

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার মা-বাবাকে ঘর দিলেন সাতক্ষীরার এসপি

সাতক্ষীরা, ৩০ অক্টোবর- সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় বাঁশ পেটে ঢুকে নিহত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহ জামালের মা-বাবাকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে যশোরের শার্শা উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে ওই ঘরটির উদ্বোধন শেষে শাহ জামালের বাবা-মায়ের কাছে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।

পরে তিনি শাহ জামালের কবর জিয়ারত করেন। বসতঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শাহ জামালের মা-বাবা।

এসময় এসপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আশাশুনি থানায় কর্মরত অবস্থায় শাহ জামাল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারটি। বিশেষ করে তার বাবা-মায়ের বাসযোগ্য কোনো বসতবাড়ি ছিল না। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের উদ্যোগে মানবিক কারণে শাহ জামালের বাবা-মায়ের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

এসময় দায়িত্বপালনকালীন যেসব পুলিশ সদস্য বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান পুলিশ সুপার।

নিহতের বাবা সুলতান বিশ্বাস জানান, গরুর গোয়ালে তিনিসহ তার স্ত্রী বসবাস করতেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান মারা যাওয়ার পরে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। তার এই দুর্বিষহ দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। নিহতের মা হাওয়া বিবি জানান, একদিকে ছেলেকে হারানোর বেদনা অন্যদিকে অভাবের তাড়নায় তারা দিশেহারা। এমন সময়ে মোস্তাফিজ আমার বড় সন্তানের দায়িত্ব পালন করেছে। আজ থেকে সে আমার বড় সন্তান। আমি মায়ের মত তার সফলতা কামনা করি।

আরও পড়ুন: বিড়ালের খোঁজে মাইকিং, থানায় জিডি!

গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে আশাশুনি থানার বুধহাটা বাজারে পেট্রল ডিউটি সেরে থানায় যাওয়ার পথে চাপড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রাকে রাখা বাঁশ পেটে ঢুকে গুরুতর আহত হন শাহ জামাল। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহ জামালের গ্রামের বাড়ি শার্শা উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে। তার ৮ বছর বয়সী রাফি নামে একটি ছেলে রয়েছে। স্ত্রী এখন সন্তান সম্ভবা। তাদের মাঠে কোনো জমি-জমা নেই। শাহ জামালের ছোট ভাই মনিরুল ইসলাম কৃষি শ্রমিক। শাহ জামালের মা-বাবাকে গোয়ালঘরের একপাশে বসবাস করতেন। তাদের এই দুরবস্থা দেখে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান নিজ উদ্যোগে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর নির্মাণ করে দেন।

সূত্র: বাংলানিউজ
এম এন / ৩০ অক্টোবর

Back to top button