ক্রিকেট

তাইজুলের স্পিনে দিশেহারা পাকিস্তান

ঢাকা, ২৮ নভেম্বর – এক তাইজুলের ঘূর্ণির যেন কোনো জবাব নেই পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের কাছে। এবার ফেরালেন নোমান আলীকে। ১৪ বলে ৮ রান করে ফেরেন এলবিডব্লিউ হয়ে। রিভউ নিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এটি তাইজুলের ষষ্ঠ শিকার।

বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংসে ৩৩০/১০ (লিটন ১১৪, মুশফিক ৯১, মেহেদি ৩৮*)

পাকিস্তান: প্রথম ইনিংসে ২৭২/৯ (শাহীন ৮*, ফাহিম ৩০*)

এবাদতে পরাস্ত সাজিদ খান

এবার সাজিদ খানকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠালেন এবাদত হোসেন। আউটসাইড অফের লেন্থ বল ভেঙে দেয় সাজিদের উইকেট। ১২ বলে ৫ রান করেন সাজিদ। সাজিদ এবাদতের দ্বিতীয় শিকার।

তাইজুলের পঞ্চম শিকার হাসান আলী

প্রথম বলে মিড অন দিয়ে চার, দ্বিতীয় বলে এগিয়ে এসে কাউ কর্নারে ৬, তৃতীয় বলেও মারতে গেছেন কিন্তু বল হাসান আলীর ব্যাট মিস করে চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে। স্ট্যাম্পিং করতে দেরি করেননি লিটন। ৮ বলে ১২ রান করে সাজঘরে ফেরেন হাসান। এই ইনিংসে এটি তাইজুলের পঞ্চম উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে নবমবারের মতো ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন এই স্পিনার।

সেঞ্চুরিয়ান আবিদকেও ফেরালেন তাইজুল

আব্দুল্লাহ শফিক, আজহার আলী হতে শুরু করে বাবর আজম; একে একে সকলেই ফিরছেন সাজঘরে। কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে একাই লড়ছেন সেঞ্চুরিয়ান আবিদ আলী। অবশেষে সেই কাঁটা ভাঙল তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে। তাইজুলের ফুলিশ বল ব্যাট মিস করে লাগে আবিদের পায়ে। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেন আবিদ। পরে দেখা যায় বল লেগ স্ট্যাম্প স্পর্শ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। আম্পায়ার্স কল হওয়াতে শেষ পর্যন্ত সাজঘরে যেতে বাধ্য হন আবিদ। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩৩ রান। ২৮২ বলে ১২টি চার ও ২টি ছয়ে এই রান করেন আবিদ। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান আসেন হাসান আলী।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর এবাদতের আঘাত

মধ্যাহ্ন বিরতির পর তৃতীয় ওভারেই আঘাত হানেন পেসার এবাদত হোসেন। সাজঘরে পাঠান মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। আউটসাইড অফের ফুল বল রিজওয়ানের পায়ে লাগে, জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিতে গিয়েও আর সে পথে এগোননি রিজওয়ান। ৩৮ বলে ৫ রান করে হাঁটা ধরেন সাজঘরের পথে। ক্রিজে আসেন নতুন ব্যাটসম্যান ফাহিম আশরাফ।

তাইজুল-মিরাজে প্রথম সেশন বাংলাদেশের

গতকাল দুই সেশনেই রাজত্ব করেছিল পাকিস্তান। টাইগারদের নির্বিষ বোলিংয়ে দেখা মেলেনি কোনো উইকেটেরই। তবে তৃতীয় দিনের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। দিনের শুরু হয় তাইজুলের জোড়া আঘাতে। প্রথম ওভারেই ফেরন আব্দুল্লাহ শফিক-আজহার আলীকে। মাঝে বাবর আজম ফেরেন মেহেদি মিরাজের ঘূর্ণিতে। এরপর ফাওয়াদ আলম আসেন ক্রিজে। তিনিও পরাস্ত হন তাইজুলের বলে। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন তাইজুল-মিরাজের ঘূর্ণিতে দারুণ কাটিয়েছে বাংলাদেশ। কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪৫ রানে দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। প্রথম সেশনে তারা ৪ উইকেট হারিয়ে যোগ করে ৫৮ রান। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৩। এখনো তারা পিছিয়ে আছে ১২৭ রানে। তাইজুল তিন উইকেট নেন আর মিরাজ নেন একটি।

আবিদের ক্যাচ ফেললেন শান্ত

বাংলাদেশকে যেন একাই ভোগাচ্ছেন পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলী। ইতিমধ্যে তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। তাকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তাইজুলের বলে স্লিপে ক্যাচ তুলেছিলেন, কিন্তু সেখানে থাকা ফিল্ডার নাজমুল হোসেন শান্ত তা ধরতে ব্যর্থ হন। উলটো চার হয়ে যায়। নতুন জীবন পেয়ে আবিদ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেবেন না তো?

এবার তাইজুলের শিকার ফাওয়াদ

বাবর আজম ফেরার পর ক্রিজে আসেন ফাওয়াদ আলম। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানও সুবিধা করতে পারেননি তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণির সামনে। আউটসাইড অফের বল ফাওয়াদের ব্যাট-প্যাড ছুঁয়ে যায় লিটন দাসের হাতে। প্রথমে আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউ নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। পরিষ্কার দেখা যায় ফাওয়াদ আউট। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ৮ রান। আব্দুল্লাহ শফিক, আজহার আলীর পর তাইজুলের তৃতীয় শিকার ফাওয়াদ। নতুন ব্যাটসম্যান ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড বাবর

মেহেদি মিরাজের কুইকার বুঝতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। সরাসরি আঘাত হানে উইকেটে। মাত্র ১০ রানে আউট হয়ে ফিরলেন বাবর। তাইজুলের পর এবার আক্রমণে মিরাজ। পরপর দুই উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসেছিলেন সফরকারী দলের এই নেতা। খেলছিলেন দেখেশুনে। তবে ৪৬ বলে ১০ রানের বেশি করতে পারেননি। তাকে ফেরানো বাংলাদেশ শিবিরের জন্য বড় স্বস্তি।

ধাক্কা সামলে আবিদের চতুর্থ সেঞ্চুরি

আবিদ আলী দিন শুরু করেছিলেন সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থেকে। প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাতে ধাক্কা দেন তাইজুল ইসলাম। পরপর দুই বলে ফেরান আব্দুল্লাহ শফিক-আজহার আলীকে। তাইজুলের সেই ঘূর্ণির আগুণের আঁচ লাগেনি আবিদের ব্যাটে। ধাক্কা সামলে তিনি ঠিকই তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক। ২০৯ বলে দেখা পান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের। এই ইনিংসে চারের মার ৯টি ও ছয়ের মার ২টি। এর আগে গতকাল তিনি ৮৪ বলে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। সেঞ্চুরি পেতে তাকে খেলতে হয় আরও ১২৫ বল।

তাইজুলের জোড়া আঘাতে বাংলাদেশের দারুণ শুরু

অভিষিক্ত ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিককে তৃতীয় দিনের শুরুতেই সাজঘরে পাঠিয়েছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তৃতীয় দিন তিনি ১ রানও কর‍তে পারেননি। তাইজুলের স্কিড করা বল লাগে শফিকের পায়ে, জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। পাকিস্তান রিভিউ নেওয়ার চেষ্টা করেনি। শফিক আউট হন ১৬৬ বলে ৫২ রান করে।

এখানেই শেষ নয় পরের বলেই তাইজুল ফেরান আজহার আলীকে। নতুন ব্যাটসম্যান আজহারের পায়ে লাগলেই জোরালো আবেদন করেন তাইজুলরা। কিন্তু আম্পায়ার সাড়া দেননি। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক রিভিউ নিতে দেরি করেননি। পরে দেখা যায় আজহার পরিস্কার আউট। ০ রানে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ শিবির। দিনের প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট নিয়ে সুন্দর শুরু এনে দিয়েছেন তাইজুল। তিনি এখন হ্যাটট্রিকের মুখে।

আবিদ-শফিককে থামানোর আশায় বাংলাদেশ

দ্বিতীয় দিন প্রথম ইনিংসে দুই পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলী-আব্দুল্লাহ শফিক ছড়ি ঘুরিয়েছেন। একজন সেঞ্চুরির খুব কাছে আরেকজন হাফসেঞ্চুরি করে আছেন ক্রিজে। দুজনে দিনের দুই সেশন কাটিয়ে দিয়েছেন কোনো বিপদ ছাড়াই। আজ তৃতীয় দিনের শুরুতেই এখন তাদের থামানোটাই একমাত্র লক্ষ্য টাইগারদের। আবিদ ৯৩ ও শফিক ৫২ রানে দিন শুরু করেন।

দ্বিতীয় দিন এলোমেলো বাংলাদেশ

দিনের শুরুটা এলোমেলো করে দিয়েছেন পেসার হাসান আলী। পেতে পেতেও সেঞ্চুরি পাননি মুশফিক। দ্বিতীয় দিন প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ৭৭ রান করতে হারায় ৬ উইকেট। কমপক্ষে আরও এক সেশন ব্যাটিং করতে পারলে দিনটি হতে পারতো বাংলাদেশের। এরপর শুরু হয় পাকিস্তানি দুই ওপেনার আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিকের রাজত্ব। কোনো বিপদ ছাড়াই দ্বিতীয় সেশন পার করে এখন তৃতীয় সেশনও পার করার পথে।

হাফসেঞ্চুরির পর এখন সেঞ্চুরির পথে আবিদ, আর হাফসেঞ্চুরি করে এখনো ক্রিজে আছেন অভিষিক্ত শফিক। ৩৩০ রানের বিপরীতে খেলতে নেমে পাকিস্তান কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪৫ রান তোলে। স্বাগতিকদের থেকে এখনো তারা ১৮৫ রান পিছিয়ে আছে।

১৮০ বলে ৯৩ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন আবিদ আলী। তার সঙ্গে ১৬২ বলে ৫২ রান নিয়ে আছেন শফিক। আবু জায়েদ রাহী-কিংবা তাইজুল ইসলাম; বাংলাদেশের কোনো বোলারই উইকেটের দেখা পাননি। প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনও আলোক স্বল্পতার কারণে খেলা হয়েছে কম।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২৮ নভেম্বর

Back to top button