জাতীয়

মৃত্যুশয্যায় দুই বিরোধীদলীয় নেত্রী

ঢাকা, ২৮ নভেম্বর – দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর রওশন এরশাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে নেয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় শনিবার তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্তু গুরুতর অসুস্থ। এখন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষায় অনতিবিলম্বে তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

এদিকে রওশন এরশাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে একই কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বার্ধক্যজনিত নানান রোগে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

খালেদা জিয়াকে গত ১৩ নভেম্বর তার গুলশান বাসভবন থেকে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতাল নেয়া হয়। ওই দিনই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। বর্তমানে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। কিন্তু দেশে আধুনিক চিকিৎসা সাপোর্ট বা সুবিধার ঘাটতি থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়াকে বিদেশে নিতে তার পরিবার এবং বিএনপি বারবার সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে, আবেদনও করেছে। তবে আইনমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, আইনের মধ্যে যা করার ছিলো তা সরকার ইতোমধ্যেই করেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে কি না, তা এখন সরকারের ওপরই নির্ভর করছে, আইনের ওপর নয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাজা হলে কারাগারে যান। এরপর দেশে করোনা মহামারী শুরু হলে খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনে তাকে গত বছরের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। এতে শর্ত ছিলো যে, তাকে দেশেই থাকতে হবে।

কারাগার থেকে বেরিয়ে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ওঠেন খালেদা জিয়া। পরে করোনায় আক্রান্ত হলে চলতি বছরের প্রায় দুই মাস হাসাপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। এরপর আবার চার মাসের মাথায় আবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিলো খালেদা জিয়া। ওই সময় ২৬ দিন হাসপাতালে কাটিয়ে বাসায় ফেরার ৫ দিন পর আবারও গত ১৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

বর্তমানে হাসপাতালের সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে। তিনি ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, ফুসফুস, কিডনি এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার অনেক অসুখ। আর তার প্রধান অসুখ পরিপাকযন্ত্রে। খালেদা জিয়ার জীবনকে এখন যেটা হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে- সেটা হচ্ছে, তার পরিপাকতন্ত্র থেকে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে সেই রক্তক্ষরণকে বন্ধ করা। কিন্তু ঠিক কোন জায়গায় তার রক্তপাত হচ্ছে, এটাকে বের করার জন্যে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ডাক্তারা গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন রকম কাজ করছেন।

‘চিকিৎসার যে পদ্ধতি আছে, সেই পদ্ধতিতে তারা করেছেন। তবে একটা জায়গায় এসে তারা এগুতে পারছেন না। কারণ সেই ধরনের কোনো টেকনোলজি বাংলাদেশে নাই। সেই টেকনোলজি দিয়ে তারা সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পারেন। যে কারণে ডাক্তারা বার বার বলছেন যে, তাকে (খালেদা জিয়া) একটা এডভান্স সেন্টারে নেয়া দরকার। যেখানে এই ডিভাইসগুলো, এই টেকনোলজিগুলো এবং যন্ত্রপাতিগুলো আছে। যেখানে গেলে সেই রোগের জায়গাটা তারা ধরতে পারেন।,

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুর প্রহর গুনছেন বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অন্যদিকে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসারত রওশন এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আবারও আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। এর আগে গত ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর তাকে সরাসরি আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিলো।

এবিষয়ে রওশন এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদ জানান, অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ার কারণে এবং কফ জমে যাওয়ায় রওশন এরশাদকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। খুব বেশি যে সিরিয়াস নয়। উনার অবস্থা আগের মতোই আছে।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, এখন উনার (রওশন এরশাদ) অবস্থা একটু ভালো। ব্লাড প্রেশার নেই। এখন উঠতে ও বসতে পারেন। তবে বয়সের কারণে শরীর একটু দূর্বল।

গত ১৪ আগস্ট ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত রওশন এরশাদকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সিএমএইচে প্রায় তিন মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসার পর রওশন এরশাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৫ নভেম্বর ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৭৮ বছর বয়সী রওশন এরশাদ বার্ধক্যজনিতসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ২৮ নভেম্বর

Back to top button