ক্রিকেট

শুরুর বিপর্যয়ের পর লিটন-মুশফিকের ব্যাটে বাংলাদেশের দিন

মো. ইমরান হোসেন

চট্রগ্রাম, ২৬ নভেম্বর – পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট ম্যাচটি আজ থেকে শুরু হয়েছে চট্রগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে। সাগরিকার পারে টস ভাগ্য ছিলো বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল হকের বিপক্ষে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তবে প্রথম দিন শেষে চালকের আসনে আছে বাংলাদেশ দল। এদিন লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৫৩ রান।

এদিন আলো স্বল্পতার কারণে ৫ ওভার বাকি থাকতেই খেলা শেষ করে দেয়া হয়। লিটন কুমার দাস ২২৫ বলে ১১৩ রান এবং মুশফিকুর রহিম ১৯০ বলে ৮২ রান করে অপরাজিত আছেন। আগামীকাল সকাল ১০টায় ফের এই দুই ব্যাটার শুরু করবেন ইনিংস।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুটা ভালো করতে থাকেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও সাইফ হাসান। তবে ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ ছিলো সাইফ। দলীয় ১৯ রানেই প্যাভিলিয়নের পথে হাটেন এই ওপেনার। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ১৪ রান। এরপর সাদমানের সঙ্গী হিসেবে ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে আজ সাইফের মতোই ইনিংস বড় করতে পারেনি সাদমান ইসলাম। হাসান আলীর বলে এলবিডাব্লিউ হন সাদমান ইসলাম। অষ্টম ওভারে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটল ৩৩ রানে। ২৮ বলে ১৪ রান করেন সাদমান। তিনটি চার ছিল তার ইনিংসে।

দলীয় ৩৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের হাল ধরার কথা অধিনায়ক মুমিনুল হকের। কিন্তু হাল ছাড়তে হলো তাকে। কট বিহাইন্ডে সাজঘরে ফিরে যান মুমিনুল। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে মাত্র ৬ রান।

মুমিনুল আউট হওয়ার ৬ বল পর বিদায় নিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ফাহিম আশরাফের বলে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে সাজিদ খানের সূক্ষ্ম ক্যাচ হন এই ব্যাটসম্যান। বারবার রিপ্লেতে যাচাই করতে হয়েছে বল ফিল্ডারের হাতে পড়ার আগে-পরে মাটিতে স্পর্শ করেছিল কি না। ৩৭ বলে ১৪ রান করে আউট হন শান্ত।

আজ যখন ওপেনাররা আসা যাওয়ার মিছিলে ছিলেন তখন লাঞ্চের আগে এসে উইকেটে থিতু হয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। দেখে শুনে এই দুই ব্যাটার খেলতে থাকে এবং বাংলাদেশের স্কোর বড় করতে থাকেন।

অবশেষে হাসলো লিটনের ব্যাট

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ব্যাট হাতে লিটনের ব্যর্থতার মিশন শুরু। যার দরুণ পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও যায়গা হয়নি লিটন দাসের। তবে টেস্ট সিরিজের মূল একাদশে জায়গা পান লিটন। একাদশের সেই সুযোগটা অবশ্য মিস করলেন না এই ব্যাটার। হাসলো লিটনের ব্যাট আর তিনি তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। ফলে লিটন ও মুশফিকের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ধাক্কা সামলে চালকের আসনে আছে বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনারদের ব্যাট যখন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন তখন দলের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম।

ইতিমধ্যে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন কুমার দাস। এছাড়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লিটনের সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান ছিলো ৯৫। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে কাছে গিয়েও সেঞ্চুরি করতে পারেননি লিটন। তবে সাগরিকার পারে সেটি মিস করেননি তিনি।

১৯৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন কুমার দাস। যার মধ্যে বাউন্ডারি ছিলো ৪টি এবং ওভার বাউন্ডারি ছিলো একটি।

সর্বশেষ লিটন টি-টুয়েন্টিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হলেও টেস্টে তার ফর্ম বেশ ভালো। এই সংস্করণে সর্বশেষ ইনিংসটিই যে তার ৯৫ রানের! সেটিও দলের ভীষণ বিপদের সময়।

সেই ইনিংসটি ছিল জুলাই মাসে। টেস্টে এ বছর ব্যাট হাতে বেশ ধারাবাহিক লিটন। ৫ টেস্ট খেলে তার ফিফটি চারটি। ৪৬.২৫ গড়ে রান ৩৭০। এটি লিটনের ছয় বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের সফলতম বছর।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/২৬ নভেম্বর ২০২১

Back to top button