ক্রিকেট

অভিষেক হচ্ছে ইয়াসিরের, ওপেনিংয়ে সাইফ নাকি জয়

চট্টগ্রাম, ২৬ নভেম্বর – তামিম ইকবাল নেই। ওপেনিং নিয়ে আবার দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ। সাইফ হাসান ও সাদমান ইসলাম সবশেষ জিম্বাবুয়ে টেস্টে জুটি বেঁধেছিলেন। সাইফের ব্যর্থতায় ওপেনিং নিয়ে আবার অথৈ সাগরে বাংলাদেশ!

দারুণ ফর্মে থাকা সাদমানের সঙ্গী কে হবেন? সাইফ নিজেকে প্রমাণের আরেকটি সুযোগ পাবেন নাকি ব্যাকআপ হিসেবে ডাকা যুব বিশ্বকাপজয়ী মাহমুদুল হাসান জয়কে বেছে নেবে বাংলাদেশ? দুজনের মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। শেষ দুদিনের অনুশীলন পর্ব বিবেচনায় নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে জয়। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন ও ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স জয়কে নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন। আজ প্রিন্স জয়কে নিয়ে শর্ট বল মোকাবিলার অনুশীলন করেছেন। সাইফও ছিলেন সেখানে। কিন্তু জয়কে নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ খেটেছেন প্রচুর। জয়ও দারুণ অনুশীলনে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।

সাইফ জাতীয় দলের হয়ে ৫ টেস্ট খেললেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে খেলেছিলেন। রান করেছেন ১ ও ০। তৃতীয় টি-টোয়েন্টি না খেলেই তাকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয় টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নিতে। কিন্তু জয়কে শেষ মুহূর্তে ডেকে টিম ম্যানেজমেন্ট চমকে দিয়েছে। জাতীয় দলে এখন নতুনের গান শোনানো হচ্ছে। সাইফ, জয় দুজনই নতুনের প্রতীক। তবে চট্টগ্রামে জয়ের অভিষেক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সাইফ ও জয়ের দোলাচলের মধ্যে অভিষেকে একটি নাম নিশ্চিত হয়েই আছে। ইয়াসির আলী রাব্বির অপেক্ষা ফুরাচ্ছে। নিজ শহরে অভিষেক হতে যাচ্ছে তার। বৃহস্পতিবার পুরোনো বলে স্পিনারদের বিপক্ষে লম্বা ব্যাটিং সেশন করার পর থ্রো ডাউনে পেস বল খেলেন ইয়াসির। দুই দিনই ব্যাটিং কোচ প্রিন্স এই তরুণের সঙ্গে কাজ করেন নিবিড়ভাবে।

সাকিব আল হাসান না থাকায় বাংলাদেশকে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান নিয়ে নামতেই হচ্ছে। ছয় নম্বর ব্যাটিং পজিশন ফাঁকা। সেখানেই ইয়াসিরের সুযোগ মিলতে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনি প্রথম ডাক পান জাতীয় দলের স্কোয়াডে। তার পরে দলে এসে টেস্ট অভিষেক হয়েছে তিনজনের, ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে ছয়জনের। টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে দশজনের। কিন্তু একটিতেও সুযোগ মেলেনি ইয়াসিরের। তবে অতিরিক্ত ক্রিকেটার হিসেবে বেশ কয়েকবার মাঠে নেমে ক্যাচ ধরে বড় অবদান রেখেছেন। কিন্তু সেরা একাদশে উপেক্ষিত তিনি। এবার সেই অপেক্ষা ফুরাচ্ছে।

দল নিয়ে মোটামুটি সব সিদ্ধান্ত হয়ে গেলেও অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেছেন, ‘সকালে (ম্যাচের) উইকেট আরেকবার দেখে সিদ্ধান্ত হবে কয়টা বোলার খেলবে, কয়টা ব্যাটসম্যান খেলবে।’

টেস্ট ড্র করার জন্য লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাতজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের সঙ্গে স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া স্পিনার তাইজুল ইসলাম তো আছেনই। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সুযোগ মিলবে শেষ মুহূর্তে দলে ডাক পাওয়া পেসার খালেদ আহমেদের। শোনা গেল, অনুশীলনে ভালো বোলিং করে বেশ ভালোভাবেই নজরে এসেছেন তিনি। এছাড়া তার সঙ্গী হতে পারেন আবু জায়েদ রাহী। প্রথমবার ডাক পাওয়া রেজাউর রহমান রাজাকে তাই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২৬ নভেম্বর

Back to top button