ঢালিউড

নতুন মিশনে ব্যস্ত শাকিব খান

ঢাকা, ২৫ নভেম্বর – ‘আমার কাছে সে ছিল চেনা-অচেনা। চেনার সুযোগ পেয়ে তাকে নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে, বেশ অবাকও হয়েছি। একসঙ্গে অনেকটা পথ বিমানে করে এখানে (নিউইয়র্ক) এসেছি। সেলফ মেইড বলতে যা বোঝায়, একটা মানুষ কীভাবে নিজেকে তৈরি করতে পারে, আমি বিস্ময়ের সঙ্গে শাকিবকে সেভাবে দেখেছি। আগামীতে তাকে নিয়ে বিস্তারিত লিখব’- চিত্রনায়ক শাকিব খানকে নিয়ে সম্প্রতি এভাবেই নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন বরেণ্য অভিনেতা আফজাল হোসেন।

অন্যদিকে পশ্চিমবাংলার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে মুভিজের কর্ণধার অশোক ধানুকার সঙ্গে মগবাজারে কথা হয়। সে সময় প্রতিবেদক শাকিব খানের ওপর টাকা লগ্নির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শাকিব হচ্ছেন নায়কদের ফুল প্যাকেজ। ওর মধ্যে সৃষ্টিকর্তার দেওয়া কিছু ব্যাপার আছে, যা অন্যদের বেলায় নেই। পর্দায় ওকে সবভাবেই ভালো লাগে। মুহূর্তেই যে কোনো বিষয় আয়ত্ত করে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার।’

একইভাবে শাকিব খানকে নিয়ে বললেন তার সবচেয়ে বেশি ছবির পরিচালক বদিউল আলম খোকন। তার ভাষ্যে, ‘শাকিব দেশের শীর্ষ নায়ক হওয়ার পরও নিজের কাজগুলো যতটা যত্ন নিয়ে করেন, তা আর কারও মধ্যে দেখিনি। এই গুণটাই তাকে সেরার স্থানে এনেছে। অনেকেই দেখি শাকিবের পেছনে নেতিবাচক কথা বলেন। যারা তাকে নিয়ে কাজ করেননি তারাও নানা কথা বলেন। শাকিবকে আমি অনেক কাছে থেকে দেখেছি। তার সর্বোচ্চ সংখ্যক ছবি আমার পরিচালনায়। সে অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, কাজের প্রতি শাকিবের যে আগ্রহ, তার অনেকটাই নেই আমাদের অন্য নায়কদের মধ্যে। যদি থাকত তাহলে আমরা আরও ভালো কয়েকজন নায়ক পেতাম।’

এই সময়ের তরুণ পরিচালক তপু খান। শাকিবকে নিয়ে নির্মাণ করছেন তার প্রথম ছবি ‘লিডার আমিই বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, ‘নিজের প্রথম সিনেমায় শাকিব খানের মতো নায়ক পাওয়া আমার জন্য ভাগ্যের। ক্যামেরার সামনে-পেছনে দারুণ জানাশোনা তার।’ গত দুই দশকের চলচ্চিত্র অভিযাত্রায় শাকিব খান পুরো বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে আছেন। সেটা অবশ্যই সাফল্য ও ব্যবসার মানদণ্ডে। হল চাঙ্গা থাকে তার সিনেমায়, তার সিনেমার জন্য আগ্রহে থাকেন হল মালিকরা। মোট কথা, ঢাকাই ছবির দর্শকদের কাছে শাকিবের ছবি মানেই যেন উৎসব। এ কারণে তার নামের সঙ্গে ‘কিং খান’, ‘ভাইজান’ অথবা ‘নাম্বার ওয়ান’সহ নানা ধরনের তকমা জুড়েছে ভক্তরা। ভক্তদের এমন ভালোবাসার ডাক সাদরে গ্রহণ করেন শাকিব নিজেও। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভক্তদের জন্যই তো আমি আজ শাকিব খান হতে পেরেছি। আমার সুখে-দুঃখে ভক্তরা সব সময় পাশে থাকেন। তাদের এই পাশে থাকাই আমাকে নতুন কাজের প্রেরণা দেয়।’ তবে ঢাকাই চলচ্চিত্রে শাকিব খানের নামের আগে সুপারস্টার বসানো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয় অনেক। তিনি নিঃসন্দেহে দেশের শীর্ষ ও জনপ্রিয় নায়ক- এ বাক্য দিয়েই শেষ হয় সেসব তর্ক-বিতর্ক। দিন শেষে শাকিবের ছবিতেই ভরসা পান সিনেমা হল মালিকরা।

শাকিব খানকে নিয়ে যখন এই ফিচার লেখা হচ্ছিল তখন তিনি অবস্থান করছিলেন সুদূর আমেরিকায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর থেকে নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘এসকে মুভিজ’ থেকে নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নাম চূড়ান্ত না হওয়া ছবিটি পরিচালনা করবেন তরুণ নির্মাতা হিমেল আশরাফ। যিনি গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকাতেই থাকছেন। শাকিবের আরও দুটি চলচ্চিত্র ‘প্রিয়তমা’ এবং ‘মায়া’ও নির্মাণ করবেন তিনি। নতুন ছবি প্রসঙ্গে হিমেল আশরাফ বলেন, ‘আগামী বছরের শুরুতে নতুন সিনেমাটির ৭০ ভাগ দৃশ্যধারণ হবে আমেরিকার লাসভেগাস, লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক এবং হলিউডে। বাকি ৩০ ভাগ হবে বাংলাদেশে।’

হোয়াটসঅ্যাপ কলে শাকিব খান শেয়ার করেন আমেরিকার নানা অভিজ্ঞতার কথা, সেখানে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটির মানুষদের ভালোবাসার কথা। শাকিব বলেন, ‘অনেক দেশেই যাওয়া হয়। প্রতিবারই দেশের মাটি মিস করি। আমেরিকা উন্নত দেশ। এখানে সব নিয়মের মধ্যে দিয়ে চলে। সব মিলিয়ে দারুণ সময় কাটছে।’ জানতে চাওয়া হয়, আমেরিকা থেকে নতুন ছবির ঘোষণার কারণ কী? তিনি বলেন, ‘এর পেছনে তেমন কারণ নেই। চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতে আমেরিকায় এসেছি। যেহেতু ছবিটি নির্মিত হবে আমার প্রযোজনা সংস্থা থেকে, নির্মাতা এখানে থাকেন, ছবির বেশিরভাগ চিত্রায়ণ আমেরিকাতেই হবে। তাই সব মিলিয়ে এখানেই ছবির ঘোষণা দেওয়া।’

থায় শাকিব জানালেন, এখন থেকে নিয়মিতই তার প্রযোজনা সংস্থা থেকে সিনেমা নির্মিত হবে। এরই মধ্যে তিনি তার প্রতিষ্ঠানে বেশ কয়েকজন মেধাবীকে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা নিরন্তর কাজ করছে। তবে নিজের প্রযোজনার বাইরে তার হাউসে কাজ করলেও ছবির সব দেখভাল করবেন শাকিব। কোনো না কোনোভাবে তার প্রযোজনা সংস্থাকেও সেখানে জড়িত রাখবেন বলে জানান এ নায়ক। শাকিব অহংকারী, শুটিংয়ে আসেন দেরিতে- দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে এমন অনেক মিথ প্রচালিত রয়েছে। অথচ তার সঙ্গে কাজ করলেই ভেঙে যায় সব ভুল। কতটা দায়িত্বশীল কাজে, তা তার সঙ্গে কাজের পরই টের পান প্রযোজক ও পরিচালক। বিশেষ করে করোনার পর নতুন এক শাকিবকে আবিস্কার করেছেন অনেকেই। যে শাকিব মানবিক, দায়িত্বশীল ও ধার্মিক। আগামীতে তাই সবাইকে নিয়েই চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে নির্মাণ করবেন নতুন নতুন সিনেমা। সেখানে শাকিব নয়, কাজ করবেন অন্য নায়করা।

চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এ নায়কের কাছের মানুষদের কথা- শাকিব আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন কীভাবে চলচ্চিত্রে সুবাতাস ফেরানো যায়। আগামীর কাজগুলোর প্রতি এখন সবচেয়ে বেশি যত্নশীল শাকিব। গত ১৫ বছরের তুলনায় শাকিবের মধ্যে সেই আন্তরিকতার ছাপ এখন বেশি। লম্বা পর্যালোচনা ও বিভিন্ন সময়ে আলাপে স্পষ্ট বোঝা গেছে, বদলে গেছেন শাকিব। তার কোটি ভক্তও এমন শাকিবকেই চাইতেন। সেই বদলে যাওয়ার কিছু ঘটনার মধ্যে রয়েছে, শাকিব খানের নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজকাল চলছেন তিনি…

এন এইচ, ২৫ নভেম্বর

Back to top button