ক্রিকেট

একই মঞ্চে বিপরীত মেরুতে মুশফিক-বাবর

চট্টগ্রাম, ২৫ নভেম্বর – সাত সকালে শিশির ভেজা ঘাস মাড়িয়ে জহুর আহমেদের ২২ গজে হাজির হয়েছিলেন বাবর আজম। উইকেট টিপে মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক ফিরে যান।

মধ্যদুপুরে সূর্য যখন মধ্যগগনে তখন মুশফিকুর রহিম হাজির উইকেট দেখতে। সবুজাভ উইকেট দেখে মুশফিকের মন খারাপ হলো কি না বলার উপায় নেই, তবে খুশি হতে পারেননি!

কারণটাও অজানা নয়, সাগরপারের এই ২২ গজেই তাকে সামলাতে হবে মোহাম্মদ আব্বাস, শাহীন আফ্রিদি, হাসান আলী ও নাসিম শাহর মতো পেসারদের। আর বাবরের সামনে আনকোড়া আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত হোসেন ও রেজাউর রহমান রাজা!

মুশফিকের জন্য কাজটা কঠিন আর বাবরের জন্য সহজ, তা নামেই বলে দেয়। এজন্য দুজনের প্রস্তুতির চিত্রটাও ভিন্ন। মুশফিক যেখানে খুব সিরিয়াস। বাবর বেশ শান্ত। মুশফিক যেখানে দল আসার এক ঘণ্টারও বেশি আগে এসে একা অনুশীলন করেন। সেখানে বাবর নেটে যান তৃতীয় স্লটে। মুশফিকের ব্যাটিং কয়েক দফার। বাবর ব্যাট নিলেন একবারই।

মুশফিক সতীর্থ বোলারদের খেলার আগে তিন থ্রোয়ার রমজান, বুলবুল ও নাসিরকে দিয়ে অনুশীলন করেন। বাবর শুরুতে দলের পাঁচ পেসারকে খেলার পর দুই বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলী ও নওয়াজকে মোকাবিলা করেন। সঙ্গে ছিলেন লেগ স্পিনার জাহিদ মাহমুদ। আর মুশফিকের আঁটসাঁট অনুশীলনে ছিলেন ইবাদত, মিরাজ।

ব্যাটিং অনুশীলনের বাইরে দুই দলের দুই সেরা ব্যাটসম্যানের শারীরিক ভাষাও ছিল ভিন্ন। মুশফিক যেমন নিজেকে একটি খোলসে আটকে রেখেছেন। প্রাণবন্ত কিংবা প্রাণচাঞ্চল্য ভাব একটুও নেই। বাবর পুরো উল্টো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন চনমনে। কোনো জড়তা নেই। হাসি, উল্লাস আর উৎফুল্ল মনোভাবে কাটিয়ে দেন গোটা অনুশীলন সেশন। এর কারণও অজানা নয়।

মাঠের বাইরে নানা কারণে মুশফিক আলোচনায় ছিলেন। তাকে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিশ্বকাপ থেকে ফিরে দলের সঙ্গে অনুশীলন না করে নীরবেই প্রস্তুতি নিয়েছেন। বাদ নাকি বিশ্রাম? সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গণমাধ্যম ডেকে কথা বলেন। সেজন্য বোর্ড তাকে ডেকে সতর্কও করেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। তাই তো আজকের অনুশীলনটি ছিল তার কাছে বিশেষ কিছু। একাকী অনুশীলনের পর দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রাণ ফিরে পান তিনি।

জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা শরীরের জড়তা কাটাতে আজ ভলিবল খেলেছেন। সেখানে মুশফিককে বেশ চনমনে লেগেছে। মুখে ছিল এক চিলতে হাসি। ভুবন ভোলানো সেই হাসি চট্টগ্রাম টেস্টে থাকলে সত্যিই মুশফিকের ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছুটবে।

টেস্ট ব্যাটিং র‌্যাংকিংয়ে বাবরের অবস্থান সাতে, মুশফিকের ২৩ নম্বরে। দুজনের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ থাকলেও দুজন দুই দলের সেরা ক্রিকেটার। কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টের মঞ্চে মুশফিক ও বাবর দুজন যেন বিপরীত মেরুর। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে কি তারা এক মেরুতে আসতে পারবেন?

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২৫ নভেম্বর

Back to top button