ক্রিকেট

রঙিন স্বপ্নে বিভোর জয়-রাজা

ঢাকা, ২৫ নভেম্বর – মেহেদী হাসান মিরাজের হাওয়ায় ভাসানো বল ব্যাকফুটে গিয়ে মিড উইকেটে খেলে স্থির হয়ে দাঁড়ালেন মাহমুদুল হাসান জয়। বল কুড়াতে সামনে এসে মিরাজ প্রথমবারের মতো ডাক পাওয়া জয়কে অভয় দিয়ে বললেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কঠিন না। তুমি তোমার মতো করে খেলো।’ মিরাজের অনুপ্রেরণায় যুব বিশ্বকাপ জয়ী জয় কিছুটা হলেও সাহস পেলেন। পরের বলগুলো বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেললেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। শটগুলোতে ছিল প্রবল আত্মবিশ্বাস, নিঁখুত টাইমিং ও প্লেসমেন্ট।

ঠিক পাশের নেটেই বল করছিলেন রেজাউর রহমান রাজা। দ্রুতগতির বোলারও প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে। ওপেনার সাদমানকে নতুন বলে ভয়ানক এক বাউন্সারে বিট করিয়ে প্রশংসাও পেলেন, ‘এমনটাই করবি কিন্তু…।’ জাতীয় দলের জার্সিতে দুজনের প্রথম অনুশীলন। নতুন জার্সি গায়ে জড়িয়ে ড্রেসিংরুম থেকে প্রায় একই সঙ্গে বেরিয়ে এলেন। দুজনের মাথায় ক্যাপ না থাকায় আলাদা করা যাচ্ছিল সহজেই।

জয় নিজের অনুভূতি লুকাতে পারলেন না, ‘আসলে এই অনুভূতিটা প্রকাশ করার মতো না। সবারই স্বপ্ন থাকে টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ার। আমি প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছি। আমি অনেক খুশি।’

জয়ের বাড়ি চট্টগ্রামে। রাজার ৩৭৭ কিলোমিটার দূরে সিলেটে। জাতীয় দলের আগে দুজনের পথ মিলিয়ে দেয় বিসিবির হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াড। এর আগে অবশ্য দুজন ক্রিকেটের অলি-গলি ঘুরে এসেছেন। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে জয় ভালো করবেন, এমন সুনাম বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই। তামিমের চোটের কারণে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতই তার কপাল খুলেছে। আর রাজা ডাক পেয়েছেন তাসকিন ছিটকে যাওয়ায়।

তবে সবশেষ জাতীয় লিগের পারফরম্যান্সের সুবাদেই তারা জাতীয় দলে। জয় যেমন বলছিলেন, ‘হ্যাঁ! জাতীয় লিগে বেশ কয়েকটি ইনিংস ভালো খেলেছি। আমার আত্মবিশ্বাস এখন ভালো আছে। তার আগে এইচপি ও এ টিমের প্রস্তুতি ম্যাচেও আমি ভালো একটা ইনিংস খেলেছি। তাই আমি প্রস্তুত আছি সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো খেলার জন্য।’

রাজা টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলে উঠে আসলেও এখন বড় মঞ্চের পরীক্ষিত বোলার। নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জানান দিতে গিয়ে বললেন, ‘টেস্ট খেলা আমি উপভোগ করি। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণিতে ভালো করেছি। এক জায়গায় টানা বল করতে পারি। বলে কিছু মুভমেন্ট করাতে পারি। এক ছন্দে টানা বল করতে পারি। দিনের শুরুতে যেই গতি থাকে দিনের শেষে সেই গতি আরেকটু বেড়ে যায়।’

টেস্ট ক্যাপ যেকোনো ক্রিকেটারের আরাধ্য এক স্বপ্ন। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ও রাজার টেস্ট ক্যাপের স্বপ্ন সাগরপারের স্টেডিয়ামে পূরণ হবে কি না সময় বলে দেবে। তবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে তাদের নিবেদন, ভালোবাসা ও রঙিন স্বপ্ন নতুন দিনের সঞ্জীবনী শক্তি।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ২৫ নভেম্বর

Back to top button