ক্রিকেট

দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ সুজন

ঢাকা, ২১ নভেম্বর – টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের কণ্ঠে হতাশা। বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সকে মূল্যায়ন করলেন একটি মাত্র শব্দে ‘জঘন্য’। পরক্ষণেই বললেন, দল গোছাতে সময় লাগবে। বিসিবি কর্মকর্তাদের এই উপলব্ধিটা দল ঘোষণার আগে হলে ভালো হতো। মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস বা সৌম্য সরকারকে তাহলে বাইরে থাকতে হতো না। অপরিণত সাইফ হাসানকেও লজ্জায় পড়তে হতো না। বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়ে বোর্ড কর্মকর্তারা এলোমেলো না হলে আজ বাংলাদেশ দলটিকে অগোছালো দেখতে হতো না। বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে খেললে পাকিস্তানের বিপক্ষে হয়তো এতটা বিপর্যস্ত হতো না দল।

বাংলাদেশ টি২০ সংস্করণে ভালো দল ছিল না কোনো দিনই। তাই বলে এত খারাপ দলও ছিল না। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা দল বাংলাদেশ। এই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানকে হারিয়ে উন্নীত হয়েছিল ফাইনালে। শিরোপার ম্যাচে ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহরা। ২০১৭ সালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল খেলা ভালো দলেরই প্রমাণ। ২০১৯ সালে ভারতকে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় হারানো বড় প্রাপ্তি। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার পর মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে ভারত সফরে তিন ম্যাচ টি২০ সিরিজে লড়াকু ক্রিকেট খেলে প্রশংসা কুড়ানো দল এই বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে হারানো টাইগারদের বিরাট অর্জন। বিশ্বকাপ থেকে তারাই কিনা ছন্দহীন। পাকিস্তানের কাছে সিরিজ হেরে অপেক্ষা এখন হোয়াইটওয়াশের। কেন ছন্নছাড়া চেহারায় টাইগার শিবির? উত্তর দল গোছাতে গিয়ে অগোছালো চেহারা পেল বাংলাদেশ।

ব্যাটাররা প্রত্যাশিত ক্রিকেট খেলতে না পারায় মাহমুদউল্লাহর চাওয়া পূরণ হয়নি। সিরিজ শুরু করে হার দিয়ে। প্রথম ম্যাচে মোটামুটি ভালো খেলতে পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচ একপেশে খেলে জিতে নেয় পাকিস্তান। বিশ্বকাপে পাপুয়া নিউগিনিকে যেভাবে হারিয়েছিল বাংলাদেশ, অনেকটা সেভাবেই পাকিস্তানের কাছে হারল দেশের মাটিতে। ১২৭ রানের পর স্কোর পতন হলো ১০৮ রানে। ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস যে তলানিতে, প্রমাণ করে স্কোর দুটি। গতকাল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত ছাড়া সেভাবে কেউ দাঁড়াতে পারলেন না। সংবাদ সম্মেলনে তাই ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ শান্তর কণ্ঠে, ‘আমি ইনিংসটা বড় করলে দল আরও ভালো অবস্থানে যেত। ৪০ রান দলকে জেতার মতো অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার মতো ইনিংস নয়। ৪০ না হয়ে যদি ৭০ হতো, হয়তো ১৫০-এর বেশি এমনকি ১৭০ হতে পারত। তাহলে ভিন্ন চিত্র হতে পারত। তবুও মোটামুটি ভালো হয়েছে। আরও ভালো করলে দলের জন্য ভালো হতো।’

মিরপুর বরাবরই স্পিনারদের স্বর্গ। গতকাল সে সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্বাগতিক ব্যাটারদের ব্যর্থ করে দেয় পাকিস্তান। শান্তর মতে, ‘মিরপুরে স্পিনারদের জন্য সবসময়ই বাড়তি সুবিধা থাকে। আর শাদাব সম্প্রতি অনেক ভালো বোলিং করছে। আমরা এর চেয়ে আরও ভালো ব্যাটিং করতে পারি। আজ আগের ম্যাচের চেয়ে একটু ভালো উইকেট ছিল। স্পিনারদের কিছু বল গ্রিপ করছিল। পেস বলে ভালো বাউন্স ছিল। মাঝেমধ্যে বাড়তি বাউন্স ছিল। আগের ম্যাচের চেয়ে তুলনামূলক ভালো উইকেট হলেও আমরা স্কোর করতে পারিনি।’ পাকিস্তান সিরিজ জিতে নেওয়ায় স্বাগতিকরা হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা নিয়ে কাল খেলবে শেষ টি২০ ম্যাচ। এই শঙ্কায় দলের ভেতরের পরিবেশ খুব একটা ভালো নেই। শান্তর কথায়, ‘গত দুই হোম সিরিজে আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। এবার দুই ম্যাচ হেরেছি। ভালো-খারাপ হতে পারে। আমাদের ব্যাটিং ভালো হচ্ছে না। ব্যাটাররা আরও ভালো করলে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারত। একটু অস্বস্তি তো থাকেই।’ অস্বস্তি শুধু খেলোয়াড়দের মাঝেই না, টিম ম্যানেজমেন্টকেও স্পর্শ করেছে তা।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ২১ নভেম্বর

Back to top button