জাতীয়

খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে না দিলে সরকার পতন

ঢাকা, ২১ নভেম্বর – রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। একই দাবিতে আগামীকাল সোমবার সারাদেশে সমাবেশ করবে দলটি।

নয়াপল্টনে অনশন কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে সহজে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে না। সে ক্ষেত্রে রাজপথে সরকারের পতন ঘটিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসূচিতে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিভিন্ন দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও একাত্মতা প্রকাশ করেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়ার মুক্তির পর মাঠে বিএনপির এটিই প্রথম কর্মসূচি।

কোরআন তিলওয়াতের পর খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সকাল ৯টায় কর্মসূচি শুরু হয়। বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে মাদুর বিছিয়ে নেতাকর্মীরা অনশনে বসেন। এ কর্মসূচি উপলক্ষে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। কাছাকাছি স্থানে ছিল পুলিশের সাঁজোয়া যান, জলকামানের গাড়ি, প্রিজনভ্যান।

খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে দ্রুত বিদেশে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, তা না হলে এবার যে আন্দোলন শুরু হলো গণঅনশনের মধ্য দিয়ে, সেই আন্দোলন আপনাকে (সরকার) গদিচ্যুত করবে। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এবং সারাদেশে মহানগর-জেলা-উপজেলাগুলোয় সমাবেশ হবে। এর পরও যদি না হয়, আমরা আবারও কর্মসূচি দেব।

কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে না। ফাঁসির আসামিকে জেলখানায় বিয়ের ব্যবস্থা করছেন, আর খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য জামিন পান না। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করতে দিলে বাংলাদেশের রাজনীতি একদিকে যাবে, আর না দিলে আরেক দিকে। না দিলে বাংলাদেশের রাজনীতি যেদিকে যাবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে যদি উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে পাঠানো না হয়, সরকারের পতনের আন্দোলনে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। এর বিকল্প নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসায় আইনি কোনো বাধা নেই, বাধা এ সরকার। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়া মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

শেখ হাসিনাকে ছবক দিয়ে লাভ নেই মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, আমাদের সংগ্রাম শুরু। যতক্ষণ না সফল হব, ততক্ষণ আমাদের চলার গতি থামবে না। মাঠ বলে দেবে কখন কী করতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, (সরকারের) গলায় গামছা দিয়ে দাবি আদায় করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

বিএনপির শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও আমিরুল ইসলাম আলীমের পরিচালনায় গণঅনশনে বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আবদুল্লাহ আল নোমান, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আসাদুজ্জামান রিপন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জহির উদ্দিন স্বপন, শামা ওবায়েদ, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শিরিন সুলতানা, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, হাবিবুর রশীদ, আফরোজা আব্বাস, সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, তাবিথ আউয়াল, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সুলতানা আহমেদ, হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, হেলাল খান, সাদেক আহমেদ খান, আবুল কালাম আজাদ, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল বক্তব্য রাখেন।

আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, আবদুল করীম আব্বাসী, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিক, ইসলামী ঐক্যজোটের এমএ রকিব, অধ্যাপক আবদুল করীম, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, এনডিপির আবু তাহের, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের শওকত মাহমুদ, শত নাগরিকের আবদুল হাই শিকদার, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, এ্যাবের প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ড্যাবের অধ্যাপক আব্দুস সালাম, বিএফইউজের (একাংশ) এম আবদুল্লাহ, নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজের (একাংশ) কাদের গনি চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের ইলিয়াস খান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সাহিদা রফিক, তাহমিনা রুশদীর লুনা, শাহজাদা মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। বিকালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক ও জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক বিএনপি নেতাদের জুস পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।

অনশন কর্মসূচি চলাকালে নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির শ্রম সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া ভোলা, এসএম সাইফুল আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, নগরীর সদর রোডে জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন আবুল হোসেন খান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মজিবর রহমান নান্টু, সদস্য সচিব আকতার হোসেন মেবুল, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মো. শহীদুল্লাহ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হায়দার বাবুল, সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা জানান, অনুমতি না থাকার কারণ দেখিয়ে পুলিশ বাধা দিলে নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসতে পারেননি নেতাকর্মীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে কার্যালয়ের ভেতরে অনশনে বসেন তারা। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জান মনি, মহানগর বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান প্রমুখ।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, পুলিশি বাধার কারণে শহরের ভায়নার মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ, সদস্য সচিব আকতার হোসেন, মিজানুর রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াশিকুর রহমান কল্লোল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহিম প্রমুুখ।

সূত্র : আমাদের সময়
এন এইচ, ২১ নভেম্বর

Back to top button