বিচিত্রতা

বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেই যে গ্রামের মেয়েরা হয়ে যায় ছেলে!

ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি ছোট্ট গ্রাম স্যালিনাস। এই গ্রামের শিশুরা জন্মের পর স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়ে উঠে। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর এই গ্রামের অধিকাংশ মেয়েদের শরীরে প্রকাশ পেতে থাকে ছেলেদের লক্ষণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামবাসীদের অনেকে বিশ্বাস করতেন, গ্রামের উপর নাকি কোনো পুরনো অভিশাপ রয়েছে। সে কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তবে কোনো অভিশাপ নয়, বৈজ্ঞানিক কারণেই প্রকৃতির এই বিচিত্র খেয়াল বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, ওই গ্রামের অনেক শিশু ফাইভ আলফা রিডাকটেজ ডেফিসিয়েন্সি নামে এক বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত। ফাইভ আলফা রিডাকটেজ মানব শরীরের একটি এনজাইম। এই এনজাইমের ঘাটতি দেখা দিলেই এমন ঘটনা ঘটে।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শরীরে যে জিনটি এই এনজাইম তৈরির নির্দেশ বহন করে থাকে, তার মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে এই এনজাইম যথাযথ পরিমাণে উৎপন্ন হয় না।

ফাইভ আলফা রিডাকটেজের কাজ হল স্ত্রী শরীরে পুরুষের বৈশিষ্ট্য বাহক হরমোন টেস্টোস্টেরনের বিপাক ঘটিয়ে তাকে ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরনে পরিণত করা।

স্ত্রী শরীরে এটাই স্বাভাবিক জৈবিক ক্রিয়া। এর ফলেই পুরুষের বৈশিষ্ট প্রকাশ পায় না এবং ওই ব্যক্তি এক জন স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হন।
কিন্তু এইেএনজাইমের ঘাটতি দেখা দিলে টেস্টোস্টেরনের বিপাক ঘটিয়ে তাকে ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরনের পরিণত করার জৈবিক ক্রিয়াটি ব্যাহত হয়ে থাকে এবং শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের উপস্থিতির জন্য পুরুষের বৈশিষ্ট প্রকাশ পায়।

এই বিরল জিনগত রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, জিনগতভাবে তারা পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত তাদের মধ্যে পুরুষের বাহ্যিক বৈশিষ্টগুলো (যেমন পুরুষের লিঙ্গের বৃদ্ধি, পেশির গঠন ইত্যাদি) প্রকাশ পায় না। তার পর ধীরে ধীরে তা প্রকাশ পেতে শুরু করে।

স্যালিনাস গ্রামে এই বিরল জিনগত রোগের প্রকোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের থেকে তুলনামূলক বেশি। প্রতি ৯০ শিশুর মধ্যে এক জন এই রোগে আক্রান্ত। স্যালিনাসে এই রোগের প্রকোপ বেশি হওয়ার রহস্য অবশ্য আজও অজানা।

এন এইচ, ২১ নভেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language