সনাতন

সমুদ্রস্নানের মধ্যদিয়ে শেষ হলো রাস পূজা

কুয়াকাটায় শুক্রবার প্রত্যুষে পুণ্যস্নানের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস পূজা। রাস পূজায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কুয়াকাটার গোটা সৈকতেজুড়ে ছিল দর্শনার্থীদের কোলাহল। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নর-নারী মিলিত হয়েছিল উৎসবে। পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল গোটা সৈকত।

শুক্রবার উষালগ্নে সমুদ্রস্নানে নামে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজারো নর-নারী। মানতকারীরা মাথার কেশ ন্যাড়াসহ প্রায়শ্চিত্ত ও পিন্ড দান করেন।

পুণ্যের আশায় বেলপাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল, সিঁদুর সমুদ্রের জলে অর্পণ করেন। পুণ্যার্থীরা পূর্ণিমার মধ্যে উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠ করে সমুদ্রস্নানের মধ্যদিয়ে শেষ করেছেন এ বছরের রাস পূজা।

আরও পড়ুন ::

জানা গেছে, জাগতিক পাপ মুছে যাবে সমুদ্রস্নানে। এ মনোবাসনায় পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ কুয়াকাটায় সমুদ্রে পুণ্যস্নান করেন। পঞ্জিকা মতে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে। এ তিথিতেই পুণ্যার্থীদের গঙ্গাস্নানের সময় নির্ধারণ করা হয়।

পুণ্যের আশায় এ বছরও সৈকতে সমাগম হয়েছে দূর-দূরান্ত থেকে পুণ্যার্থী, দর্শনার্থী ও সাধু-সন্নাসীদের। তাদের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ।

এদিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বৃহস্পতিবার রাতে শ্রী শ্রী মদন-মোহন সেবাশ্রমে অধিবাসের মধ্যদিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শুরু হয়েছে শ্রী শ্রী কৃষ্ণের রাস উৎসব। মন্দির প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে ১৭ জোড়া রাধা-কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা। এ সময় ভাগবত পাঠ, আরতি, উলু ও শঙ্খধ্বনি এবং নামকীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ।

কুয়াকাটায় স্নান শেষে পুণ্যার্থীরা রাধা-কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা দর্শন করে। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ রাস উদযাপন করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভার উদ্যোগে মন্দির ও সৈকত এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তায় ছিলো কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‍্যাব, মেডিকেল টিমসহ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। এছাড়া কুয়াকাটার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমূহ সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিলো।

কুয়াকাটা রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের পুরোহিত শিশির মহারাজ বলেন, প্রায় দুইশ’ বছর পূর্ণিমা তিথিতে এ রাসলীলা উৎসব ও মেলা চলে আসছে। দ্বাপর যুগে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, হিংসা, হানাহানি দেখে দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের লালনের জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নাম ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।

এম ইউ/১৯ নভেম্বর ২০২১

Back to top button