অপরাধ

পাওনা টাকা ও জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে খুন

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর – বাংলাদেশ গম গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনোয়ার শহীদ (৭৫) রাজধানীর শ্যামলীতে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। র‍্যাব বলছে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেয়াতেই তাকে খুন করা হয়েছে।

এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সোমবার কারওয়ান বাজার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গত বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে শ্যামলীর হানিফ পরিবহনের বাস কাউন্টারের পাশে হলিল্যান্ড গলিতে আনোয়ার শহীদকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

ছুরিকাঘাতের দৃশ্য ঘটনাস্থলের একটি বাড়ির সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ১৩ থেকে ৭টা ১৫ মিনিটের মধ্যে খুনের ঘটনাটি ঘটে। তখন রাস্তায় অনেক মানুষ ছিল।

এ ঘটনায় হত্যা ও পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার রাতে গাাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তাররা হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেন ও হত্যাকারী সাইফুল ইসলাম।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, চাকরির সময় ১৯৯০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় কর্মরত ছিলেন আনোয়ার শহীদ। সেখানেই তার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেনের পরিচয় হয়।

র‍্যাব জানায়, আনোয়ার শহীদ গম গবেষণা কেন্দ্রে ১৯৭৬ সালে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে পরিচালক পদমর্যাদায় প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে তার সবশেষ কর্মস্থল জয়দেবপুর থেকে অবসর নেন।

অবসরের পর পেনশনের টাকা দিয়ে জাকিরের মাধ্যমেই দিনাজপুরে ২০ শতাংশ জমি কিনেছিলেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনোয়ার। সেখানে বাড়ি করে ভাড়া দেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে র‍্যাব দাবি করে, বিভিন্ন আনোয়ারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন জাকির। সেই টাকা ফেরত চাইলে পরিকল্পনা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এরপর ভাড়াটে খুনি দিয়ে আনোয়ারকে খুন করা হয়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আনোয়ার শহীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে জাকির ১২ লাখ টাকা ধার নেয়। ঢাকায় থাকলেও জাকিরের সঙ্গে নানা বিষয়ে যোগাযোগ ছিল আনোয়ারের। এক বছর আগে জাকির তার চালের গোডাউন বন্ধক রেখে ২০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দিতে আনোয়ার শহীদের সহযোগিতা চান। তিনি তাকে এ বিষয়ে সহযোগিতা না করলে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, এ সময় আনোয়ার পাওনা টাকা আদায়ে জাকিরকে চাপ দেন। টাকা না দিয়ে আনোয়ারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জাকির।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মো. সাইফুল ব্যবহার করেন জাকির। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে শ্যামলীর হানিফ পরিবহনের বাস কাউন্টারের পাশে হলিল্যান্ড গলিতে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনোয়ারকে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/১৫ নভেম্বর ২০২১

Back to top button