গাইবান্ধা

যে কারণে হত্যা করা হয়েছিল নবনির্বাচিত সেই মেম্বারকে

গাইবান্ধা, ১৫ নভেম্বর – গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য রউফ মাস্টার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আরিফ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

রোববার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের রংপুর সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র‍্যাব-১৩-এর অধিনায়ক কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস।

জানা যায়, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফ মিয়াকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব-১৩-এর অধিনায়ক জানান, ইউপি সদস্য আবদুর রউফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে।

নিহত ইউপি সদস্য আবদুর রউফ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষক ছিলেন। তিনি একাধিবার নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো পক্ষের ইন্ধনে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে র‍্যাব-১৩ কোম্পানির অধিনায়ক বলেন, ‘সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত বা অপরাধী, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনাটাই আমাদের মুখ্য বিষয়। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে ঘটনার নেপথ্যে যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, তা গভীরতর তদন্তের বিষয়’।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার আগের দিন আরিফ মিয়া স্থানীয় একটি ক্লাবে আবদুর রউফসহ আরও দু’জনের ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন।

আরিফ মিয়া সরকারি চাকরি করেন এবং তিনি একসময় সরকারি দলের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউপি সদস্য আবদুর রউফ বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।

এ কারণে এই হত্যার ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা ইন্ধন র‍্যাব পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে রেজা আহমেদ বলেন, ‘অপরাধীর পরিচয় অপরাধী। আমাদের কাছে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়। তবে সবকিছুই তদন্ত ও সময় সাপেক্ষে বলা যাবে’।

এর আগে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন রউফ। পথে বামুনিরপাড়া এলাকায় গোবিন্দরপুর মসজিদ সংলগ্ন সড়কে একটি ব্রিজের সংস্কার কাজ চলায় তিনি মোটরসাইকেল থেকে নেমে হেঁটে ওই স্থান পার হচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুবৃর্ত্ত আবদুর রউফের পথ রোধ করে তাঁকে অতর্কিতভাবে লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। এ সময় আবদুর রউফের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে এ ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই উত্তেজিত জনতা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাগুড়াকুটি গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে আরিফ মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় আরিফের আস্তানা হিসেবে পরিচিত স্থানীয় একটি ক্লাবঘরও গুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার (১৩ নভেম্বর) এবং আজ রবিবার (১৪ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ গাইবান্ধা- সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে ও গাছের গুড়ি, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এতে অংশ নেন লক্ষ্মীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকর। তারা বুকে কালো ব্যাজ লাগিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুনসহ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ১৫ নভেম্বর

Back to top button