ক্রিকেট

আগুনে ফর্মে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ারও চোখ শিরোপায়

আবুধাবি, ১১ নভেম্বর – ‘অস্ট্রেলিয়াকে আপনি হালকাভাবে নিতে পারেন না। টি ২০ ক্রিকেটে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়া যায় না।’ পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমের এই অমৃত বচনে আতে ঘা লাগতে পারে অস্ট্রেলিয়ানদের। রেকর্ড পাঁচবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন? পাকিস্তানের কিছু অতি উৎসাহী সাংবাদিকের কারণে। দুবাইয়ে আজ টি ২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান পরিষ্কার ফেভারিট কি না, এমন প্রশ্নই তারা করেছিলেন বাবরকে।

বিশ্বকাপের শুরুতে ফেভারিটের তালিকায় না থাকলেও অভাবনীয় ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তানকে এখন শিরোপার বড় দাবিদার ভাবা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল তারা। সুপার টুয়েলভের পাঁচ ম্যাচের পাঁচটিতেই জয়। দলের মতো অধিনায়ক বাবরও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। পাঁচ ম্যাচে করেছেন সর্বোচ্চ ২৬৪ রান।

এই ছন্দ ধরে রেখেই পাকিস্তানকে তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় টি ২০ বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দিতে চান বাবর। তবে অতি উৎসাহীদের মতো বাস্তবতা ভুলে যাননি টি ২০’র এক নম্বর ব্যাটার, ‘আমরা টুর্নামেন্টজুড়েই ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে আসছি। এই ছন্দটাই সেমিফাইনালে ধরে রাখতে চাই। সম্ভব হলে তা ফাইনালেও ধরে রাখব। তবে ভুলে গেলে চলবে না যে, সেমিফাইনাল না জিতে ফাইনালে যাওয়া যায় না। অস্ট্রেলিয়াও ফাইনারের জন্য খেলবে। এখানে কেউ এগিয়ে বা পিছিয়ে নেই। নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।’

পাকিস্তানের মতো গ্রুপসেরা হতে না পারলেও পাঁচ ম্যাচের চারটি জিতে অস্ট্রেলিয়াও বুঝিয়ে দিয়েছে অধরা টি ২০ বিশ্বকাপ শিরোপায় চোখ তাদেরও। ঠিক সময়ে ফর্মে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ রানের মধ্যে আছেন। পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের নেতা শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো মারণাস্ত্র আছে ফিঞ্চের হাতেও।

পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট নেওয়া অসি লেগ-স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা হতে পারেন পাকিস্তানের জন্য বড় হুমকি। তিন পেসার মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও প্যাট কামিন্সও গতির ঝড়ে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। এছাড়া বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অতীত ইতিহাসও পাকিস্তানের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।

১৯৮৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল কিংবা ২০১০ টি ২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, প্রতিবারই পাকিস্তানের ঘাতক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে অতীত থেকে প্রেরণা না খুঁজে আসন্ন চ্যালেঞ্জেই পুরো মনোযোগ ফিঞ্চের, ‘পাকিস্তানের হয়ে সত্যিই আগুনে ফর্মে আছে শাহিন। তাকে সামলানোর চ্যালেঞ্জ তাই কঠিন হবে। দল হিসাবেও অসাধারণ ক্রিকেট খেলছে পাকিস্তান। তাদের থামাতে প্রথম বল থেকেই নিখুঁত ক্রিকেট খেলতে হবে আমাদের।’

আসরে পাকিস্তানের পাঁচ জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভিন্ন পাঁচজন। শাহিন আফ্রিদি, হারিস রউফ, আসিফ আলী, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও শোয়েব মালিক। পাঁচ ম্যাচের চারটিতে ফিফটি করেও এখনো ম্যাচসেরা হতে পারেননি বাবর! এটাই পাকিস্তানের বড় শক্তি। সেমির মঞ্চে কী নতুন কেউ নায়ক হবেন?

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ১১ নভেম্বর

Back to top button