জাতীয়

পণ্য পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

ঢাকা, ০৯ নভেম্বর – জ্বালানির দাম বাড়ায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া বাড়ানোর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাক, কাভার্ডভ‍্যানসহ পণ্য পরিবহন করা যানবাহনের ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৮ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে পণ্যবাহী যানবাহনের মালিক-শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এর আগে রাত সোয়া ৮টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে শেষ হয় বৈঠক।

বৈঠকে মালিক ও শ্রমিক নেতারা পণ্য পরিবহন ভাড়া ৩০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।

বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি মন্ত্রণালয় ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সব পরিবহনেই এটা অ্যাফেক্টেড হয়। এরই মধ্যে বাস যারা চালান, তাদের সঙ্গে বিআরটিএ’র একটি সমঝোতা হয়েছে। নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে নৌ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথাবার্তা বলে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে পণ্য পরিবহন এবং প্রাইম মুভার, ট্রাক, কাভার্ডভ‍্যান, ট্যাংকলরি- এ ধরনের পরিবহনের মালিক-শ্রমিক নেতারা এখানে এসেছিলেন তাদের দাবি নিয়ে। তাদের প্রথম দাবি ছিল তেলের মূল্য কমাতে হবে, বৃদ্ধি করা যাবে না।’

‘তাদের এ দাবি আমরা মনে করেছি যৌক্তিক দাবি। সেজন্য আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা হলো- আমরা তাদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এফবিসিসিআই- যাদের নাকি সেবা তারা দেন, তাদের আমরা অনুরোধ করবো, তাদের সঙ্গে বসে একটা যৌক্তিকভাবে পণ্য পরিবহনের ভাড়া যেন বৃদ্ধি করে দেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি তাদের দাবি যৌক্তিক। আমরা এটাই সুপারিশ করছি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এফবিসিসিআইসহ সব স্টেকহোল্ডার, যারা সেবা গ্রহণ করে থাকেন।’

আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘নেতারা এখানে বসা আছেন। তারা আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন, আজকে থেকে তারা এ ধর্মঘট স্থগিত করছেন। পরবর্তীতে একটা ফলপ্রসূ আলোচনা করে তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পরে ফাইনালি এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে এ আলোচনায় বসবেন বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। সেই আলোচনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যবসায়িক সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ যৌক্তিক ভাড়া নিয়ে আলোচনার পরই ধর্মঘট চূড়ান্ত প্রত্যাহার করা হবে। মালিকরা গাড়ি বন্ধ রেখেছিলেন, সেটা এখন থেকে স্থগিত করা হলো। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত পণ্য পরিবহন চলবে। এটা নিয়ে আমাদের সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে। মালিক-শ্রমিকরা আবারও চূড়ান্তভাবে বসবো, কিভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করা যায়।’

এ বিষয়ে দায়িত্ব সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কেন গেলেন, এ বিষয়ে ওসমান আলী বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসিনি। আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডেকে পাঠাইছে।’

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ক্লিয়ার করে দেই। আপনারা জানেন আমাদের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অসুস্থ। সেজন্য তিনি আমাকে মাঝে মাঝে রিকোয়েস্ট করে থাকেন। এই ধরনের প্রবলেমগুলো দেখার জন্য। তিনি গতকাল আমাদের রিকোয়েস্ট করেছেন। এদের সঙ্গে বসে একটা যৌক্তিক সমাধানে যেতে। আমরা এজন্য বসেছি।’

এ সময় ওসমান আলী আরও বলেন, ‘জ্বালানি সচিব মহোদয় ডিজেলের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। আমরা বলেছি তেলের দাম বাড়ালে আমাদের ভাড়া ৩০ শতাংশ বাড়াতে হবে। এজন্য চুক্তি হয়েছে ভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয় হবে।’

বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহমদ বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা। সন্তোষজক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে…সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী সংগঠগুলো উপস্থিত নেই। তাই আমরা আপাতত আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করালাম। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ যৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধিতে একটা নোটিশ করব।’

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার ছাড়াও বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ট্যাংকলরি ও প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৪ নভেম্বর থেকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ায় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। বাড়তি দামের কারণে ৪ নভেম্বর থেকেই পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেন মালিকরা। ৪ নভেম্বর থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার ভাড়া বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হলেও ধর্মঘট অব্যাহত রাখেন পণ্যবাহী যানবাহন মালিকরা।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০৯ নভেম্বর

Back to top button