ক্রিকেট

ভারতের সর্বনাশ করেছে আইপিএল!

আবুধাবি, ০৮ নভেম্বর – ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর প্রথমবার কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে নেই ভারত। অথচ এই সময়ে ভারতের ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট কতটা পরিবর্তন হয়েছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে দলে যুক্ত হয়েছে একঝাক তরুণ। যারা যেকোনো দিন, যেকোনো মঞ্চে, যেকোনো প্রতিপক্ষকে নাকানিচুবানি খাওয়াতে পারে। অথচ সেই দলটাই নিজেদের আয়োজনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই! ভাবা যায়?

বলা হচ্ছে, ভারতের এমন পরিণতির জন্য দায়ী তাদের ব্র্যান্ড ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটই তাদের সর্বনাশ করেছে। শুধু এবারই নয়, আইপিএলের কারণে ভারত বিশ্বমঞ্চে কয়েকবারই ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে।

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। তখন আইপিএল ছিল না। ২০০৯ সালে আইপিএলের দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। লোকসভা নির্বাচনের কারণে দুই মাস ভারতীয় ক্রিকেটাররা ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। টানা খেলা, যাতায়াতের ধকল সইতে পারেনি ভারত। ফলে সুপার এইটে তিন ম্যাচেই হার। সেবার কোচ কারস্টেন আইপিএলকে সরাসরি দায়ী করেছিলেন।

পরের বছর আরেকটি বিশ্বকাপ। পাশাপাশি আইপিএলও আছে। ১২ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলে আইপিএল। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজে যায় বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু পরিবেশের সঙ্গে মানাতে না পারায় সুপার এইট থেকে বিদায়।

২০১২ সালে রান রেটের হিসেবে ভারত শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছিল। কিন্তু সেবার আইপিএল শেষ হয়েছিল দুমাস আগে। তবে একটি অভিযোগ করেছিল ভারতীয় সাবেকরা। আইপিএলে যে শ্রম, নিবেদন দিয়ে খেলেছিল জাতীয় দলে সেই নিবেদন দেখা যায়নি।

এবারে আইপিএল শেষ হবার এক সপ্তাহের ভেতরে বিশ্বকাপে নামতে হয় ভারতকে। পাশাপাশি আইপিএল ও বিশ্বকাপ হচ্ছে জৈব সুরক্ষা বলয়ে। ক্রিকেটারদের থাকতে হচ্ছে চার দেয়ালে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে মাসের পর মাস ক্রিকেট খেলা কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নিউ জিল্যান্ডের কাছে হারের পরই ভারতীয় বোলার যশপ্রীত বুমরাহ দায়ী করেছিলেন আইপিএলকে। জানিয়েছিলেন, আইপিএলসহ টানা জৈব সুরক্ষা বলয়ে খেলে ক্লান্ত তারা। সেই ধকল সামলে উঠতে পারছেন না।

বুমরাহর পর ভারতের বোলিং কোচ অরুণও সেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি রোববার বলেছেন,‘ছয়মাস ধরে দলটা খেলছে। কেউ বাড়ি যায়নি। আইপিএলের প্রথম পর্বের পর একটু বিশ্রাম পেয়েছিল। আইপিএল এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝে একটু বিশ্রাম পেলে ছেলেদের জন্য ভালোই হতো।’

এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তাদের ক্লান্ত লাগছিল। পাকিস্তানের কাছে ১০ উইকেটে হারা ম্যাচে তাদেরকে স্রেফ বিধ্বস্ত লাগছিল। শারীরিক ভাষায় ছিল জড়তা। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক বিরাট কোহলিও স্বীকার করেছিলেন তারা ক্লান্ত। নিউ জিল্যান্ডের কাছে ম্যাচ হারের পর নিজেদের সাহসী ক্রিকেট খেলার কথা বলেছিলেন কোহলি। তাতে স্কটল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসে প্রত্যাশিত হয়। কিন্তু রান রেটের হিসেবে এক ম্যাচ আগেই শেষ তাদের বিশ্বকাপ। সোমবার তাদের শেষ ম্যাচ নামিবিয়ার বিপক্ষে। নিয়মরক্ষার ম্যাচটি জিতলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ০৮ নভেম্বর

Back to top button