ফ্যাশন

নারীর মাধুর্যে চাই নান্দনিক ব্লাউজ

উৎসব, অনুষ্ঠানে নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। অার শাড়িতে ব্লাউজ পরা অপরিহার্য। হাল ফ্যাশনে ব্লাউজের ডিজাইনে এসেছে বৈচিত্র। শাড়িতে নারীকে কতটা সুন্দর দেখাবে তার অনেকটাই নির্ভর করে শারীরিক গঠনের সঙ্গে মিল রেখে ব্লাউজের ডিজাইন। সুন্দর একটি শাড়ির সঙ্গে ফ্যাশনেবল ব্লাউজ মোহনীয় করে তুলতে পারে আপনাকে, একইসঙ্গে শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজের অভাবে আপনার মাধুর্য হারিয়ে যেতে পারে। তাই ফ্যাশনে ব্লাউজের গুরুত্ব কম নয়।

শাড়িতে বাঙালি নারীদের যতটা মানায়, তা আর অন্য কোনো পোশাকেই মানায় না। আর শাড়ির প্রসঙ্গ এলেই যে জিনিসটি খুব মনে পড়ে তা হলো ব্লাউজ। যদি শাড়ি হয় কোনো শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস, তবে ব্লাউজ তার ফ্রেম। তাই তো আগের দিনের ঠাকুরবাড়ির বউরা শাড়ির চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতেন ব্লাউজে।

দাবানো গোল গলা, থ্রি-কোয়ার্টার হাতা তাতে লেইস বসানো, কলার গলায় ফুলস্লিভ ব্লাউজ, ঘটিহাতা, চুড়িহাতা— এসব ব্লাউজ আশির দশকে বেশ জনপ্রিয় ছিল, তা এখন আবার ফিরে এসেছে। এ ছাড়া ব্লাউজের গলার ক্ষেত্রে এসেছে কলার ব্যান্ড গলা, পেছনে গোল গলায় ফিতা বা জরির ফিতা, গলাবন্ধ গলা। বাটনের ক্ষেত্রে রয়েছে সামনে ও পেছনে। ফুলস্লিভ ব্লাউজের গলায়, হাতায় কুঁচি দেওয়া ফ্লোরান প্রিন্টও এখন জনপ্রিয়। ব্লাউজের সামনে গোল ও পেছনে ভি গলার ওপর কুঁচি ব্যবহার করা হচ্ছে। শাড়ির ক্ষেত্রে ব্লাউজ হচ্ছে ইনার। সে ক্ষেত্রে প্রিন্টেড ও একটু ভারী ডিজাইনের ব্লাউজ হলে একরঙা বা সাধারণ শাড়ি পরলে ভালো লাগে। হাল সময়ের ফ্যাশনে নান্দনিক ডিজাইনের ব্লাউজ নতুন একটা মাত্রা যোগ করেছে।

এবার জেনে নিই শাড়ির সাথে কীভাবে মানানসই ব্লাউজ পরে আপনি নিজেকে মোহনীয় করে তুলতে পারেন। হালকা বা পুরো শীতের সময় থ্রিকোয়ার্টার ব্লাউজ যেকোনো শাড়ির সাথে পরতে পারেন। এই সময় তা আপনার জন্য বেশি আরামদায়ক ও মানানসই। কিছুটা কোর্তা ধরনের ব্লাউজ ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বেশি উপযোগী। আর খাদির নরম বুনোটের ব্লাউজ গরমে আপনাকে আরাম দেবে খুব। স্লিভলেস বা হাতকাটা ডিপ নেকে যদি একটু লেসের হাল্কা ফ্রিল জুড়ে দেন তাহলে ব্লাউজটি হয়ে উঠবে আরও ফ্যাশনেবল। ছাপা বা ব্লকের প্রিন্টের বোটনেক ব্লাউজ এক রঙা শিফনের শাড়ি দিয়ে সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানে পরে চমকে দিতে পারেন সবাইকে। ব্লাউজ পরবেন কন্ট্রাস্ট করে। সুতির শাড়ির সঙ্গে সিল্কের ব্লাউজ এবং প্রিন্টের শাড়ির ক্ষেত্রে প্রিন্টের যে রঙটি বেশি ফুটে উঠে সেই রঙের ব্লাউজ পরলে ভালো লাগবে। সামনে কুঁচি দেওয়া ও থ্রি কোয়াটার হাত। হাত আর গলায় লেইস দেওয়া, ঠাকুরবাড়ির ব্লাউজ হিসেবে পরিচিত ব্লাউজগুলো পরতে পারেন পহেলা বৈশাখ ও বাঙালিয়ানা কোনো উত্সবের দিনে। ব্লাউজে পাথর বা চুমকির কাজ করে এটিকে আরও গর্জিয়াস করা যায় তবে এই টাইপের ব্লাউজের সাথে খুব ভারী কাজের শাড়ি না পরে হালকা টাইপের শাড়ি পরলে ভালো লাগবে। ছাপা, চেক, স্ট্রাইপ, কাতান কাপড়ের ব্লাউজ এখন অনেক চলছে। ব্লাউজের গলাটি গোলাকার, ডিম্বাকার, ইউশেপ, স্কয়ার, ভি, বক্স বিভিন্ন শেপের করতে পারেন।

ব্লাউজের ধরন :
>কলার স্টাইল
>ব্যাকলেস চোলি
>হল্টারনেক
>সিঙ্গেল সোল্ডার
>স্টোন ওয়ার্ক করা ব্লাউজ
>গলায় ফ্রিল দেওয়া ব্লাউজ
>ঘটি হাতা গ্ল্যাডিয়েটর ব্লাউজ
>পেছনে এমব্রয়ডারি করা ফুলের নকশা

শরীরের গঠন অনুযায়ী ব্লাউজ :
যারা অনেক চিকন তারা হল্টার নেক, স্লিভলেস ব্লাউজ সিফনের শাড়ি দিয়ে পরতে পারেন। এছাড়া চিকন স্বাস্থ্য হলে হাইনেক বা কলার ব্লাউজ পরলে ভালো লাগবে। বেশি শুকনা শরীরে বেনারসি পরলে একটু ফোলানো স্লিভসহ ব্লাউজ পরলে ভালো লাগবে। যাদের শরীর একদম ফিট মানে যাদের ফিগার ভালো, তারা যেকোনো টাইপের ব্লাউজ পরলেই ভালো লাগবে। তবে শর্ট স্লিভের ডিপ কাট নেক ও ব্যাকের ব্লাউজ পরলে বেশি ভালো লাগবে। যারা একটু মোটা তারা পারতপক্ষে স্লিভলেস ব্লাউজ পরা থেকে বিরত থাকুন। তার থ্রি কোয়ার্টার বা ফুল স্লিভ বা ফুল হাতা ও ভি কাটের গলার ব্লাউজ পরতে পারেন ।

যা খেয়াল রাখতে হবে :
>ব্লাউজটি যেন অবশ্যই অনেক ফিটিং হয়।
>স্লিভলেস পরার জন্য অবশ্যই হাত হতে হবে সুঢৌল, মেদহীন, লোমমুক্ত।
>অতিরিক্ত মোটা আর ক্ষীণকায় হাত হলে স্লিভলেস না পরাই ভালো।
>স্লিভলেস ব্লাউজ পরার জন্য নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। স্লিভলেস পরে নিজে অস্বস্তি ফিল করলে আশপাশের মানুষও অস্বস্তি ফিল করবে।
>পরিবেশ, অনুষ্ঠান, বয়স ও রুচিবোধ অনুযায়ী ব্লাউজ পরুন।
>প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে সিম্পল টাইপের ব্লাউজ পরা উচিত। কেননা তা আরামদায়ক এবং মানানসই।

এম ইউ

Back to top button