সাজ-সজ্জা

ওয়াশিং মেশিনের যত্ন

কাপড় পরিষ্কারের জন্য প্রায় বাসাতেই ওয়াশিং মেশিনের ব্যবহার দেখা যায়। ওয়াশিং মেশিনে কাপড় পরিষ্কার করা সুবিধাজনক, সময় সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক।

ওয়াশিং মেশিনের উপকারিতা
– ওয়াশিং মেশিন সময় ও শ্রম বাঁচায়।
– আজকাল অধিকাংশ পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী। এক্ষেত্রে ঘরের কাজের জন্য সময় বের করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজের মধ্যে কাপড় ধোয়ায় আমাদের অনেকটা সময় চলে যায়। ওয়াশিং মেশিনের মাধ্যমে কর্মজীবীরা দৈনন্দিন এই কাজটিকে এখন অনেকটাই সহজ এবং অল্প সময়ে করতে পারেন।
– ওয়াশিং মেশিনের মাধ্যমে চাইলে কর্মস্থল থেকে ফিরে রাতেও কাপড় ধোয়া ও শুকানো যায়।
– কিছু ওয়াশিং মেশিনের ‘হট ওয়াশ’ সিস্টেম কাপড় পরিষ্কারের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস দূর করে।
– শুধু পরিধেয় বা গৃহসজ্জার কাপড় নয়, ওয়াশিং মেশিনে পরিষ্কার করতে পারেন-কুশন কাভার, বাজারের ব্যাগ, পাপোশ, কাপড়ের জুতা, বাচ্চাদের কাপড়ের খেলনা, মাউস প্যাড, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, যেমন-ওভেনের মুখের রাবার ব্যান্ড, গ্লাভস, অ্যাপ্রোন প্রভৃতিও।

ওয়াশিং মেশিনের যত্নের উপায়
ওয়াশিং মেশিন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এটির সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য—
– নিয়মিত ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করুন। ডিটারজেন্ট সাবান জমে অনেক সময় মেশিনের ভেতরে অনেক অংশ ব্লক হয়ে যায়। তাই ধোয়ার কাজ হলে ভালভাবে মেশিনের ভিতরটা ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন।
– ওয়াশিং মেশিনে একসঙ্গে বেশি কাপড় দেবেন না। ধারণক্ষমতার চেয়ে ১ বা ২ কেজি কম দিন। বেশি জামাকাপড় একসঙ্গে দিলে মেশিন দুর্বল হয়ে পড়ে। জামাকাপড়ও ভালো পরিষ্কার হয় না।
– কাপড়ে সেফটিপিন বা আর্টিফিশিয়াল বোতাম থাকলে মেশিনে দেওয়ার আগে তা খুলে নিন। নয়তো মেশিনে দাগ পড়ে যাবে। কাপড়ও ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
– মেশিনে দুর্গন্ধ হলে পানিতে ২ কাপ লেবুর রস বা ভিনেগার মিশিয়ে মেশিন পরিষ্কার করুন।
– ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করার পর বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ রাখুন।
– ওয়াশিং মেশিনে ভোল্টেজ ওঠানামা করলে মেশিনের ক্ষতি হতে পারে। এজন্য ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন।

ভারি কাপড়ের যত্ন
– বালিশের কাভার, বিছানার চাদর, পর্দা, ভারি গায়ের চাদর, ডেনিম বা গ্যাবাডিন প্যান্টের মতো ভারি কাপড় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা হলে মেশিনে দিন। এতে ভারি কাপড় অধিক পরিষ্কার হবে।
– জিন্স, জ্যাকেট, গ্যাবাডিন প্যান্ট ইত্যাদি ভারি কাপড় উল্টে ধোয়া ভালো। এতে কাপড়ের অভ্যন্তরীণ ময়লা ভালোভাবে পরিষ্কার হয়।

লিকুইড ব্যবহার করুন
অনেকেই অভিযোগ করেন যে, ওয়াশিং মেশিনে কাপড় পরিষ্কার হয় না, গুঁড়ো সাবান বেশি খরচ হয়, কাপড় নষ্ট হয়ে যায় দ্রুত ইত্যাদি। আপনার এসব দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে লিকুইড। ওয়াশিং মেশিনে কাপড় দেয়ার আগে পানিতে গুঁড়ো পাউডার গুলে কিংবা কাপড় ধোয়ার লিকুইডে কিছুক্ষণ কাপড় ভিজিয়ে রাখুন। এরপর কাপড় মেশিনে দিন। মেশিনের মধ্যে দেয়ার জন্যও লিকুইড ব্যবহার করুন। এতে যেমন গুঁড়ো পাউডার খরচ কমবে তেমনি কাপড়ও অধিক পরিষ্কার হবে।

মুক্ত হোক শৈশব
বাচ্চাদের কাপড়ে দাগ লাগার ভয়ে আমরা বড়রা অনেক সময়ই শিশুদের মাঠে, ঘরের বাইরে, খোলা স্থানে বা কাদা মাটিতে খেলতে দিতে চাই না। এটা মোটেও উচিত নয়। শিশুদের শরীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে মাঠে, ঘরের বাইরে, খোলা স্থানে খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। তাই শুধুমাত্র পোশাকে দাগময়লা লাগার ভয়ে শিশুদের কখনোই খেলাধুলায় বাধা দেয়া উচিত নয়। আর যেহেতু এখন ওয়াশিং মেশিনের মাধ্যমে খুব সহজেই কাপড় পরিষ্কার করা যায় তাই, শিশুদের দাগ থেকে দূরে না রেখে বরং চিন্তাহীনভাবে মুক্ত শৈশব গড়ে তুলতে উৎসাহিত করুন। পাশাপাশি শিশুদেরও লন্ড্রিজাতীয় কাজে উৎসাহী এবং নিযুক্ত করুন। শিশুদের খুব হালকা ধরণের কাপড় কিংবা নিজের পোশাক নিজে ধোয়ার মাধ্যমে লন্ড্রিজাতীয় কাজে উৎসাহী করতে পারেন। পাশাপাশি অন্যান্য সহজ ছোট ছোট গৃহস্থালি কাজেও শিশুদের অভ্যস্ত করুন। এটা শিশুদের মুটিয়ে যাওয়া রোধসহ সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

লক্ষণীয়
– কাপড়ের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে আলাদা আলাদাভাবে ধুতে চেষ্টা করুন। সুতি কাপড়ের সঙ্গে ভারি জিনস ধুবেন না।
– এখনকার মেশিনে কাপড় ধোয়ার জন্য আলাদা আলাদা অপশন থাকে। মেশিন চালু করার আগে কাপড়ের ধরন অনুযায়ী অপশন নির্ধারণ করে দিন। যেমন-সুতি কাপড়ের জন্য কটন অপশন।
– মেশিনে ধোয়া কাপড় অবশ্যই রোদে বা বাতাসে কিছুক্ষণ মেলে রাখবেন।
– ওয়াশিং মেশিনের ড্রায়ারে ভেজা পোশাক দেওয়ার আগে সেগুলো ভালো করে ঝাঁকিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এতে কাপড়ের মান ভালো থাকে এবং কাপড় কুঁচকে যায় না।

এম ইউ

Back to top button

This will close in 20 seconds