জাতীয়

প্রতিবাদী কর্মসূচি দেবে বিএনপি

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর – দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে মানুষের লড়াই অব্যাহত আছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় কঠিন থেকে আরও কঠিন হয়ে উঠছে সেই লড়াই। এর মধ্যে সরকার একাধিক জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানোয় নতুন করে সংকটে পড়েছে মানুষ। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলছে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট। সরকারবিরোধী বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি জানিয়েছে, এই প্রতিবাদে তারাও সামিল হবে। এ জন্য শিগগিরই কর্মসূচি দেবে তারা।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ ট্রাক-ক্যাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার ইউনিয়নের চলমান কর্মবিরতির প্রতি বিএনপি সমর্থন জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিবহন সংগঠনগুলো যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, সেখানে আমাদের সমর্থন থাকবে।’ এ ব্যাপারে বিএনপি পৃথক কর্মসূচি দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিভিন্ন খাতের উৎপাদনসহ অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হবে বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।

সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে গতকাল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার তাদের নিজেদের লোকজনের পকেট ভারী, ব্যবসা বৃদ্ধি, বাড়তি মুনাফার জন্য ডিজেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। মানুষ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আগে থেকেই হিমশিম অবস্থায় ছিল। টিসিবির পণ্যের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর এই নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দেওয়া হলো।’

দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপি ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি জনগণের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের যাতায়াত খরচ, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সব পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পণ্যের দামে। আমাদের প্রশ্ন হলো, বিশ্ববাজারে জ্বালানির যখন দাম কম ছিল, তখন তো দাম কমানো হয়নি, তা হলে এখন বাড়ানো হলো কেন? এই সরকার যতদিন থাকবে, ততদিনে কোনো কিছুই ঠিকমতো চলবে না। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশবাসী তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাবে। আর এ জন্যই আমরা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্তরে প্রভাব পড়ে। এর কারণে স্থির আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান কমে যায়। দেশে জ্বালানি তেলের কারণে যতটুকু খরচ বাড়ে, তার চেয়ে ভাড়া অনেক বেশি বেড়ে যায়- এটা একটি বড় সমস্যা। সরকার গত বুধবার দিবাগত রাতে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে দেয়। বৃদ্ধির হার ২৩ শতাংশ। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ানোর পরই বাসভাড়া ৩৯ শতাংশ বাড়িয়ে দিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বাসমালিকরা।

গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে দ্রব্যমূল্যসহ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ডিজেল প্রতি লিটারে ১৫ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। আপনি চিন্তা করতে পারেন! এই টাকা তো সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যাবে। এটা মূল্যবৃদ্ধির কাজটি তারা অব্যাহতভাবে করে যাবে, এটা বন্ধ হবে না। কারণ দেশে জনগণের কোনো সরকার নাই, এদের (সরকারের) কোনো দায় নেই, জবাবদিহিতা নেই। তারা লুটপাট করে এসব টাকা বিদেশে পাচার করছে। কোনো টাকা দেশে থাকছে না। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে একমাত্র পথ ওদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা। সবাই মিলে এই সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখন আন্দোলন করতে হবে।’

সূত্র : আমাদের সময়
এন এইচ, ০৬ নভেম্বর

Back to top button