ক্রিকেট

অধরা জয় দেবে কী ধরা নাকি খালি হাতেই ফেরা?

দুবাই, ০৪ নভেম্বর – শ্রীলংকার কাছে হারের পর রাগ-ক্ষোভের মেঘ জমেছিল। সেই মেঘ হতাশার বৃষ্টি হয়ে ঝরেছে হারের পর হারে। টি ২০ বিশ্বকাপে পরাজয়ের চোরাবালিতে আটকেপড়া বাংলাদেশকে উদ্ধার করবে কে? আর উদ্ধার করারইবা কী দরকার। মাঝ দরিয়ায় তরী ডুবলে না হয় ভিন্ন কথা। তরী যে ডুবেছে যাত্রালগ্নে। আজও কী সেই একই পরিণতি? একই জ্বালা, যন্ত্রণা? মাহমুদউল্লাহদের নিয়তি মেনে নিতে মন সায় দেয় না। ব্যর্থতার হতাশা পোড়ায়।

দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচ আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এই ম্যাচে দৈবক্রমে জিতে গেলে বাংলাদেশের নামের পাশে দুটি পয়েন্ট যোগ হবে। প্রাইজমানি কিছুটা বাড়বে। আর হারলে পূর্ণ হবে ব্যর্থতার ষোলোকলা।

মুশফিকুররা কী একেবারে খালি হাতে ফিরবেন? নিঃস্ব হয়ে ফেরার চেয়ে যদি নিদেনপক্ষে একটা জয় নিয়ে ক্রিকেটাররা ফিরতে পারেন, সিন্ধুতে বিন্দুর মতো হলেও ঈষৎ সান্ত্বনা দেবে শেষের যোগফল। অঙ্কে তো শুধুই বিয়োগ। দুবাইয়ে গ্রুপ-১ এ নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হবে বিকাল ৪টায়।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল। একাধিক সাবেক ক্রিকেটার বলেছিলেন, সুপার টুয়েলভে দুটি ম্যাচ জিততে পারলে সেটা হবে প্রাপ্তি। কোনোটাই হলো না। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে শুরু। ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির মতো দুটি পুঁচকে দলকে হারিয়ে কোনোরকমে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সেখানেই স্বপ্নযাত্রা শেষ। শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৭১ রান করেও হতশ্রী ফিল্ডিং ও অধিনায়কের অদূরদর্শিতায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের একেবারে কাছে গিয়ে বাংলাদেশ হার মানে তিন রানে। এই দুদলের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে যাওয়ার মধ্যেই এ বিশ্বকাপ থেকে যা একটু সান্ত্বনা খুঁজে পেতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। সবশেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খানিকটা সবুজ উইকেটে কম পেসার নিয়ে খেলা এবং ৮৪ রানে অলআউট হওয়ার পর আশার সব কপাট বন্ধ হয়ে যায়।

পুরো টুর্নামেন্টে শরীরী ভাষাই ছিল না খেলোয়াড়দের। টি ২০ ক্রিকেটের মেজাজ ও মানসিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও সাকিব আল হাসান। পরিকল্পনা, মানসিকতা, প্রক্রিয়া কিংবা প্রয়োগ কোনোটাই মেলাতে না পেরে সঙ্গী হয়েছে চার হার। বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১-এ হোম সিরিজে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

কিন্তু বাংলাদেশ ও দুবাইয়ের কন্ডিশনে যে বিস্তর পার্থক্য, তা ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা বুঝতেই পারেননি। তিন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয় দুটিতে। একটি হার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। বাংলাদেশকে হারাতে পারলে তাদের সেমিফাইনালে খেলা সহজ হয়ে যাবে। এদিকে বাংলাদেশ একাদশে একটি পরিবর্তন হতে পারে। বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের জায়গায় আবার মোস্তাফিজকে খেলাতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।

বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ নিয়ে স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ বলেন, ‘প্রশংসা করতে হবে যে বাংলাদেশ সুপার টুয়েলভের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমরা শ্রীলংকার বিপক্ষে ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত হেরেছি। আমাদের তিন বিভাগেই উন্নতি করতে হবে। কোচ হিসাবে আমিও এই চ্যালেঞ্জ অনুভব করছি।’

টাইগারদের বিপক্ষে ঢাকায় টি ২০ সিরিজ ৪-১-এ হারলেও অ্যাস্টন অ্যাগার মনে করিয়ে দিলেন, এবার খেলা বাংলাদেশে হচ্ছে না। কাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘একেবারে আলাদা কন্ডিশন। বাংলাদেশের মতো ওই কন্ডিশনে আমাদের অনেকে প্রথম খেলেছিল। আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলাম। সত্যি বলতে, ওই কন্ডিশনে বাংলাদেশ অসাধারণ খেলেছিল। তারা ঘরের মাঠে ভালো খেলেছে, এটা আমাদের কাছে আশ্চর্যের কিছু নয়। কিন্তু এখন কন্ডিশন ভিন্ন। আমাদের দলও আলাদা। উইকেটও বাংলাদেশের মতো আচরণ করছে না। দেখি কী হয়। আমাদের জিততে হবে। জেতার জন্যই খেলব।’

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ০৪ নভেম্বর

Back to top button